সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

উৎকৃষ্ট জীবনযাপনের উপায়

healthy-living-1908 আমাদের স্বাস’্য আমাদের অন্যতম প্রধান সম্পদ। মানুষ যা কিছু ভোগ করে বা করতে চায় তার মাধ্যম হলো তার দেহ। উৎকৃষ্ট জীবনযাপনের প্রধান অন্তরায় হলো রোগাক্রান্ত শরীর। তাই মানুষ আজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেঁচে থাকার জন্য চাইছে রোগমুক্ত নির্মল শরীর আর সজীব মন। আমাদের কামনা শুধু নীরোগ শরীর নয়, তাকে হতে হবে প্রাণোচ্ছল, আনন্দপূর্ণ এবং উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভরপুর। এ জন্য দরকার পবিত্র প্রাকৃতিক পরিবেশ, বাতাস, পানি, খাবার, বাসস’ান এবং মন। বিধাতা আমাদের দেহ-মনের সুস’তার জন্য অকৃপণভাবে সৃষ্টি করেছেন অনেক কিছু, যা আমাদের সুস্বাসে’্যর অধিকারী করে তুলতে পারে। কিন’ মানুষ আজ প্রকৃতির সেই স্নেহের ছায়া থেকে বঞ্চিত হয়ে দেহ-মনকে কলুষিত করতে যাচ্ছে, যা উৎকৃষ্ট জীবনযাপনের অন্তরায়।
আমাদের ভালো থাকা অনেকাংশে নির্ভরশীল আমাদের চারপাশের পরিবেশের ওপর। প্রকৃতি যখনই বিরূপ হয়ে আমাদের দেহের প্রতিকূলে থাকে তখনই বিভিন্ন অসুখ-বিসুখের আত্মপ্রকাশ ঘটে। আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য দরকার নির্মল বিশুদ্ধ বাতাস। বাতাসে থাকা অক্সিজেন এবং কার্বন-ডাই- অক্সাইডের মাত্রার ব্যালেন্স আমাদের দেহের প্রতিটি কোষকে উজ্জীবিত করে। দূষিত বাতাস গ্রহণ দেহের মারাত্মক ক্ষতি করে। কাজেই বাতাস সুস্বাসে’্যরও বাহক আবার সংক্রমণেরও বাহক। দেহের স্বার্থের জন্য সঠিকভাবে নিঃশ্বাস নেয়া এবং প্রশ্বাস ত্যাগ করা উচিত। বাতাসের মতো পানিও সুস্বাসে’্যর এবং সংক্রমণের বাহক। সে জন্য আমাদের খেতে হবে প্রচুর বিশুদ্ধ নলকূপের পানি বা ফুটানো পানি, কোমল পানীয় নয়। প্রচুর পানি খেলে দেহের তরতাজা ভাব বজায় থাকে এবং দেহের ভারসাম্যও ঠিক থাকে।
সুস্বাসে’্যর জন্য প্রয়োজন সুষম খাদ্য, যে খাদ্য কোষের সুষম বৃদ্ধি ঘটায়, দেহের লাবণ্য জোগায়, শক্তি দেয়। খাবার খেতে হলে লক্ষ রাখতে হবে তা দেহের জন্য উৎকৃষ্ট কি না অর্থাৎ যা খাদ্যকে খাদ্যগুণ সমৃদ্ধ করবে। রসনাকেও তৃপ্ত করবে, দেহকে অলস না করে ঝরঝরে, তরতাজা করে তুলবে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পরিমিত মাত্রায় খাবার খেতে হবে। দুই খাবারের মাঝখানে বারবার এটা-ওটা খাওয়া উচিত নয়, তাতে দৈহিক ওজন বাড়িয়ে দেয়। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় কমপক্ষে যেন একটি টাটকা ফল থাকে, যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, সুস’ থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়। খাওয়ার আগে যেমন ভালো করে হাত ধোয়া উচিত তেমনি খাওয়ার পর কুলি করে বা দাঁত ব্রাশ করে মুখের ভেতরটা পরিষ্কার রাখা দরকার। সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা সুন্দর জীবনের সহায়ক।
আমাদের বাঁচার জন্য শুধু খাবার এবং সুন্দর পরিবেশ থাকলেই চলবে না; দেহকে সুস’ রাখার জন্য দরকার নিয়মিত শরীরচর্চা। দৈনিক কমপক্ষে আধা ঘণ্টা করে হাঁটতে হবে। ব্যায়াম করতে হবে নিয়মিতভাবে। উপযুক্ত বিশ্রামও সুস’ দেহের সজীবতা বাড়িয়ে দেয়। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানো দরকার, তাহলে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত বিশ্রাম পেয়ে পরবর্তী কাজের উদ্দীপনা বাড়িয়ে দেবে।
সুস’ দেহের জন্য দরকার সুস’ মন। মন যদি আনন্দে পূর্ণ হয়, শরীরও থাকে সুস’। সুস’ দেহ ছাড়া সুস’ মনের অস্তিত্ব নেই। অবসর সময়ে বিভিন্ন প্রকার ধ্যান বা যোগাসনের মাধ্যমে মানসিক বিকাশ ঘটানো সম্ভব যা সুস্বাসে’্যর জন্য একান্ত প্রয়োজন। পরিপূর্ণ মানসিক বিকাশ আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।
ভালোভাবে বাঁচার জন্য দরকার নিরাপদ আবাসস’ল- যা আমাদের স্বজনদের মিলনস’ল। জীবনের জন্য যা কিছু প্রাথমিক শিক্ষা তা এখান থেকেই লাভ করা হয়। পরবর্তী জীবনের সুশিক্ষা, বিকাশ এবং সামাজিকতা লাভ যাই বলি না কেন তার অবদান পাওয়া যায় এ আবাসস’ল থেকে।
এ যুগে উৎকৃষ্ট জীবনযাপন চাওয়া বা লাভ করা যথেষ্ট কঠিন। তবুও উপযুক্ত সহায়তায় এবং আত্মবিশ্বাসে অল্প অল্প করে হলেও একটু একটু ভালো থাকা মিশিয়ে দেয়া যায় আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে। ভালো থাকতে চাওয়া কোনো কল্পনা নয়; এ চাওয়া মানুষকে যথার্থ মানুষ করে তোলে, জীবনকে করে সাফল্যমণ্ডিত।
লেখিকা : ডা: জ্যোৎস্না মাহবুব খান,  জেনারেল প্র্যাকটিশনার, মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ