সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

ক্যান্সার প্রতিরোধে ফুলকপি ও ফুলকপির পাতা

ফুলকপির পাতাশাক খুব সুস্বাদু ও পুষ্টিসমৃদ্ধ। এই পাতার উপরিভাগে ক্যান্সার নিরোধক উপাদান পেয়েছেন বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। বাল্টিমোর জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকেরা ফুলকপির পাতায় আইসো থায়োসায়ানেটস নামক রাসায়নিক পদার্থ পেয়েছেন। এটি দেহে সৃষ্ট জৈব রাসায়নিক পদার্থের স্বাভাবিক বিষক্রিয়া মুক্ত করা প্রক্রিয়ায় শক্তি জোগায় বলে জানা গেছে। এ থেকে বোঝা যায়, ফুলকপি ও বাঁধাকপির মতো শাকসবজি খেলে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম।

বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন, মলাশয় ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অর্ধেক কমাতে হলে সপ্তাহে প্রায় দুই পাউন্ড ফুলকপি এবং এ জাতীয় শাকসবজি খেতে হবে। বিজ্ঞানীরা আরো জানিয়েছেন, ফুলকপির কচিপাতা সপ্তাহে এক আউন্সের কিছু বেশি খেলে তার দেহে ক্যান্সারের ঝুঁকি অর্ধেক কমতে পারে।

ফুলকপির পাতায় প্রচুর ভিটামিন ‘এ’ ক্যালসিয়াম, খাদ্য শক্তি ও আয়রন আছে। এতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ কালো কচুশাকের চেয়ে প্রায় দেড় গুণ, সবুজ কচুশাকের চেয়ে প্রায় তিন গুণ, লালশাকের চেয়ে দ্বিগুণ, কলমিশাকের চেয়ে ছয় গুণ, পুঁই ও পাটশাকের চেয়ে সাত গুণ, পালং ও ডাঁটাশাকের চেয়ে আট গুণ, মুলাশাকের চেয়ে ২৫ গুণ ও গরুর দুধের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি আছে। ফুলকপির কপিপাতায় প্রায় সব খাদ্যের চেয়ে অনেক বেশি আয়রন আছে। যেমন- সবুজ কচুশাকের চেয়ে চার গুণ, ডাঁটাশাকের চেয়ে দেড় গুণ, কলমিশাকের চেয়ে ১০ গুণ, মুলাশাকের চেয়ে ১২ গুণ ও পালংশাকের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি আয়রন আছে। খাদ্যশক্তিও প্রায় সব শাকসবজির চেয়ে অনেক বেশি আছে। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ আছে। এতে ভিটামিন ‘কে’ থাকায় রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম ফুলকপির পাতায় জলীয় অংশ ৮০ গ্রাম, মোট খনিজ পদার্থ ৩.২ গ্রাম, আঁশ দুই গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৬৬ কিলোক্যালরি, আমিষ ৫.৯ গ্রাম, চর্বি ১.৩ গ্রাম, শর্করা ৭.৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৬৩৬ মিলিগ্রাম ও আয়রন ৪০ মিলিগ্রাম থাকে।

ফুলকপিতে আয়রনের পরিমাণ আলু, মুলা, মিষ্টি কুমড়া, বেগুন, টমেটো, চিচিঙ্গা ও ঝিঙার চেয়ে বেশি। ক্যালসিয়ামের পরিমাণও আলু, বাঁধাকপি, গাজর, মুলা, মুলাশাক, লাউ, চালকুমড়া, শসা, করল্লা, কাঁকরোল, বেগুন, পটোল, মটরশুঁটি, বরবটি ইত্যাদি সবজির চেয়ে বেশি থাকে। ফুলকপিতে ভ্যারিন নামক মানুষের প্রয়োজনীয় এমাইনো অ্যাসিড থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যোপযোগী ফুলকপিতে শর্করা ৭.৫ গ্রাম, আমিষ ২.৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৪১ মিলিগ্রাম, আয়রন ১.৫ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৫৭ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ৫১ আইইউ, ভিটামিন বি১ ০.০৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২ ০.০০৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৯১ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন ১ মিলিগ্রাম, মোট খনিজ পদার্থ ০.৭ গ্রাম, ভিটামিন কে ৩ মিলিগ্রাম ও খাদ্যশক্তি ৪১ কিলোক্যালরি থাকে। তবে এই পুষ্টিমান ফুলকপির জাত ও উৎপাদনের স’ানের ওপর নির্ভরশীল।