সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় হাসি খুশি মন

he_rid-rogমুখ ভার করে থাকার চেয়ে হাসিখুশি থাকুন। হৃদরোগের ভয় বেশ কমে যাবে। হৃদযন্ত্রের সঙ্গে আবেগের এমনই সম্পর্ক নিয়ে এটিই প্রথম পর্যবেক্ষণ বলে সম্প্রতি দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।

‘ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নাল’-এ প্রকাশিত নিবন্ধে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের কারিনা ডেভিডসন লিখেছেন, এ বিষয়ে এখন নিবিড়ভাবে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে হবে। এর মাধ্যমে যদি আমাদের পর্যবেক্ষণ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে আমাদের বিশেষভাবে নির্ধারণ করতে হবে যে, পরিস্থিতি উন্নয়নে রোগী কিংবা চিকিত্সকের জন্য কী করণীয়।

ডেভিডসন এবং তার গবেষক দলের সদস্যরা দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে কানাডার একটি স্বাস্থ্য সমীক্ষা কেন্দ্রে ১ হাজার ৭৩৯ জন নারী-পুরুষের ওপর এ বিষয়ে গবেষণা চালান। এসময় প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা হৃদরোগীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির ওপর হতাশা, শত্রুতা, উত্তেজনার মতো নেতিবাচক আবেগ এবং সুখ, আনন্দ, উল্লাস, আগ্রহ এবং পরিতৃপ্তির মতো ইতিবাচক আবেগ-অনুভূতির প্রভাব বিশেষভাবে নিরূপণ করতেন।

প্রত্যেক সূচকে ২২ শতাংশ ঝুঁকি হ্রাস
গবেষকরা এসব ইতিবাচক আবেগ-অনুভূতিগুলোকে শূন্য থেকে পাঁচ পর্যন্ত সূচকে চিহ্নিত করেছিলেন। তারা লক্ষ্য করেছেন যে, প্রত্যেক সূচকের জন্য হৃদরোগের ঝুঁকি ২২ শতাংশ হারে কমে গেছে। গবেষক দলের প্রধান ডেভিডসন জানান, তার গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, ইতিবাচক আবেগ-অনুভূতিগুলো বৃদ্ধির মাধ্যমে হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে। তিনি লিখেছেন, যাদের আদৌ ইতিবাচক প্রভাবক তথা আবেগ নেই তারা অল্প ইতিবাচক আবেগসম্পন্ন ব্যক্তিদের চেয়ে ২২ শতাংশ বেশি হৃদরোগের ঝুঁকিতে রয়েছে এবং দ্বিতীয় সারির ব্যক্তিরা মধ্যম মাত্রার ইতিবাচক আবেগসম্পন্ন ব্যক্তিদের চেয়ে ২২ শতাংশ বেশি হৃদরোগের ঝুঁকিতে রয়েছে।

হৃদরোগের সঙ্গে বুদ্ধিমত্তা এবং আয়ের সম্পর্ক
এতদিন ধরে ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, বংশগত ধারাবাহিকতা এবং উচ্চ রক্তচাপকে হৃদরোগের জন্য প্রধানত দায়ী করা হতো। কিন্তু এ গবেষণায় বুদ্ধিমত্তা এবং আয়ের পরিমাণের সঙ্গেও হৃদরোগের ঝুঁকির সম্পর্ক পরিলক্ষিত হয়েছে। এমনকি গত সপ্তাহে প্রকাশিত গবেষণার ফলাফলে হৃদরোগের জন্য ধূমপানের পরেই প্রভাবক হিসেবে বুদ্ধিমত্তার স্থান বলে দেখা গেছে। ডেভিডসন এবং তার সহযোগী গবেষকরা মনে করছেন, হাসি-খুশি ব্যক্তিরা বেশি সময় ধরে বিশ্রাম নিতে পারে বলেই সম্ভবত তারা দ্রুত যে কোনো কষ্টকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে পারে, যা হৃদরোগ প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

ব্রিটিশ গবেষকদেরও একই মত
ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনও এ গবেষণার ফলাফলের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে জানিয়েছে, তারাও এ ধরনের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, ইউরোপ এবং আমেরিকাসহ বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোতে সর্বাধিক নারী-পুরুষের মৃত্যুর জন্য হৃদরোগ দায়ী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালে সারা বিশ্বে ৩২ শতাংশ মৃত্যু ঘটেছে ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের কারণে।

বাইপাস অপারেশনের রোগীদের জন্য…
১. অপারেশন পরবর্তী সময়ে সার্জনের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পান করতে হবে, অতিরিক্ত পানি বা তরল জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা যাবে না।
২. পরামর্শপত্র অনুযায়ী অবশ্যই নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হবে।
৩. অপারেশনের ৩-৪ দিন পর থেকে হাঁটতে পারবেন। একবারে বেশি হাঁটা যাবে না, ক্লান্ত হওয়ার আগেই বিশ্রাম নিন। আহারের পরপরই হাঁটাহাঁটি করা যাবে না।
৪. এক সপ্তাহ পরপর হাঁটার সময় বাড়াবেন। অপারেশনের ৬ সপ্তাহ পর অন্য কোনো অসুবিধা না থাকলে দিনে ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পরিমাণ হাঁটার চেষ্টা করুন। ক্লান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্রাম নিন, ধীরে ধীরে সিঁড়ি ভাঙার চেষ্টা করতে পারেন।
৫. ভারি পরিশ্রম পরিহার করুন, টিউবওয়েল চাপা যাবে না, তিন কিলোগ্রামের বেশি ওজন বহন করা থেকে বিরত থাকুন। সংসারের হাল্কা কাজ করা যেতে পারে। অপারেশন পরবর্তী প্রথম ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ এই নিয়ম মেনে চলতে হবে।
৬. ওজন নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
৭. ধূমপান, জর্দা, তামাক পাতা, গুল জাতীয় পদার্থ চিরতরে পরিহার করুন।
৮. অপারেশনের পরপর প্রথম দিকে সহবাস থেকে বিরত থাকুন, যখন বিনা ক্লান্তিতে ১ থেকে ২ মাইল পথ হাঁটতে পারবেন অথবা দু’তালা সিঁড়ি ভাঙতে পারবেন তখন সহবাস শুরু করতে পারবেন। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে সাধারণত অপারেশনের ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পর সহবাসের আসন পরিবর্তন করে সুবিধামত নিয়মে সহবাস শুরু করা যায়। তবে খাওয়ার পরপর বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায় সহবাস করা উচিত হবে না।
৯. বুকে চাপ বা ব্যথা অনুভব করলে অথবা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত জিহ্বার নিচে জিটিএন স্প্রে ব্যবহার করুন এবং সঙ্গে সঙ্গে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

খাদ্য নির্দেশনা
বাইপাস করা রোগীদের খাদ্য তালিকা করোনারি রোগীদের খাদ্য তালিকার অনুরূপ।

পরিহার করতে হবে
কোলেস্টেরলসমৃদ্ধ ও সম্পৃক্ত চর্বি যুক্ত খাবার, যেমন—ডিমের কুসুম, কলিজা, মাছের ডিম, খাসি বা গরুর চর্বিযুক্ত মাংস, হাঁস-মুরগির চামড়া, হাড়ের মজ্জা, ঘি, মাখন, ডালডা, মার্জারিন, গলদা চিংড়ি, নারিকেল এবং উপরোক্ত উপকরণ দিয়ে তৈরি খাবার।

বেশি করে খেতে হবে
আঁশযুক্ত খাবার, যেমন—সব রকমের শাক, সব রকমের সবজি (বিশেষ করে খোসাসহ সবজি যেমন ঢেঁড়স, বরবটি, শিম, কচুর লতি ইত্যাদি), সব রকমের ডাল, সব ধরনের ফল বিশেষ করে টক জাতীয় ফল। সব রকমের সমুদ্রের মাছ, ছোট মাছ, মাছের তেল। সব রকমের উদ্ভিজ তেল, যেমন কর্ন অয়েল, সানফ্লাওয়ার অয়েল, সয়াবিন অয়েল (পাম বা নারিকেল তেল নয়)।

হিসাব করে খেতে হবে
শর্করাজাতীয় খাবার যেমন—ভাত, রুটি, আলু, চিনি ইত্যাদি। মিষ্টি ফল যেমন—পাকা আম, পাকা কলা, পাকা পেঁপে ইত্যাদি। দুধ ও দুধের তৈরি খাবার।

পরিহার করতে হবে
বিভিন্ন ধরনের ফাস্ট ফুড, যেমন—বার্গার, স্যান্ডউইচ, কেক, পুডিং, আইসক্রিম, বোতলজাত কোমল পানীয় ইত্যাদি। মনে রাখতে হবে, অ্যালকোহল বা তামাকজাতীয় দ্রব্য কোনো খাদ্য নয়, তাই এসব পদার্থ থেকে যে কোনো মূল্যে দূরে থাকতে হবে।

ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত রোগীরা তাদের জন্য নির্ধারিত খাদ্য তালিকা দেখে উপড়ের তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে খাদ্য তালিকা তৈরি করে নিতে পারেন। রক্তে সুগার বেড়ে যায় এমন যে কোনো খাবার হৃদরোগের জন্যও পরিহার করা আবশ্যকীয়।