সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

হাসি শরীর ও মন ভালো রাখে

আমরা চলতে-ফিরতে প্রতিনিয়ত নানা মানুষের মুখোমুখি হচ্ছি। অফিস, মার্কেটিং, ভ্রমণ, চলাফেরা, ঘোরাফেরা সব জায়গায়ই নানা লোকের সাথে মিথস্ক্রিয়ান্বিত হই। এটি কিন্তু দ্বিমুখী। আপনার সামনের লোক আপনার মনে এক ধরনের অনুভূতি জাগায়, আমরা সে অনুভূতি প্রকাশ করি পরক্ষণেই আমাদের আচরণে। আমরা আশপাশের ব্যক্তিদের কোনো অভিব্যক্তিকে সবচেয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে থাকি। কোনো অনুভূতি, অভিব্যক্তি প্রকাশ করলে আশপাশের লোকজন থেকে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক সাড়া আর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়।

মনোগবেষকদের এক কথার জবাব হচ্ছে হাসিমুখে থাকুন, দেখবেন আপনার পাশের সবাই হাসিমুখে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবে। কিন্তু সব সময় মুখ গোমড়া করে রাখলে কেবল একা আপনাকেই এর ভাগ নিতে হবে। কেউ আপনার এ অভিব্যক্তির অংশীদার হবে না। কেউ আপনার পাশ ঘেঁষতে চাইবে না। ভার্লিন আর জুডিথ দু’জন সাইকোলজিস্ট এক গবেষণা চালিয়েছেন; তারা দেখতে পান, হাসিমুখে কথা বলা হলে বা মুখ গোমড়া করে রাখা হলে সামনেরজন কেমন অভিব্যক্তি দেখাবে? এক দল কলেজছাত্রকে এতে ভলান্টিয়ার বানানো হয়। লাইব্রেরি, শপিং সেন্টার আর চলাচলের রাস্তাকে স্পট বানানো হয়।

প্রতিটি ভলান্টিয়ারকে চলতে ফিরতে তিন ধরনের অভিব্যক্তি দেখাতে বলা হয়।
* একটা হলো একেবারে হাসিমাখা মুখ
* আরেকটি হলো গোমড়ামাখা মুখ
* আর অন্যটি হলো নিরপেক্ষ মুখের অভিব্যক্তি পেছনে একজন নিরীক্ষক দেয়া হয়, যিনি ভলান্টিয়ারের অভিব্যক্তিতে ব্যক্তির মধ্যে কী প্রতিক্রিয়া হয়, তা নিরীক্ষণ করার জন্য। গবেষণার রিপোর্ট হলো যখন হাসির অভিব্যক্তি প্রকাশ করা হয় সেখানে, প্রায় সবখানেই সামনেরজন হাসির অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছিল।

যেখানে অভিব্যক্তি নিরপেক্ষ ছিল, সেখানে মাত্র ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে সামনেরজন হাসিমুখ নিয়ে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছিল। আর যেখানে একেবারে মুখ গোমড়ার চেয়ে অনেকটা ভ্র’কুটির অভিব্যক্তি দেখানো হয়েছিল, সেখানে সামনেরজন একেবারে নিরপেক্ষ নীরব দর্শকের ভূমিকা নিয়েছিল, কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেনি। তাই হাসিমুখে থাকার চেষ্টা করুন। স্বতঃস্ফূর্ত হাসিভাব না এলেও অন্তত কতকটা হাসির ভান করুন। যখন দেখবেন আপনার আশপাশের লোকজন হাসিমুখে আপনার সাথে প্রতিক্রিয়ান্বিত হচ্ছে, তা আপনার মনে সত্যিকার হাসির অনুভূতি জাগাবে, তখন দেখবেন আপনার মন অনেকটা চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। ব্যাপারটা অনেকটা ‘ফিড ব্যাক প্রতিক্রিয়ার মতো’।

মনের ওপর হাসির প্রভাব অনেক বেশি। প্রত্যেকের মনেই দুশ্চিন্তা থাকতে পারে, যা অনেক রোগের উৎস হতে পারে। এ দুশ্চিন্তা কমানোর জন্য অন্যতম হলো হাসি। যে কয়েকটি বিশেষ হরমোন দুশ্চিন্তা কমায়, হাসি এদের স্মরণে স্টিমুলেটরের কাজ করে। শুধু তা-ই নয়, নিয়মিত হাসলে নিজেকে বেশ ফুরফুরে লাগে। হাসি কখনো বৃথা যায় না। কারণ আমাদের দেহ-মনের ওপর এর রয়েছে দারুণ প্রতিক্রিয়া। দেহের এমন কোনো তন্ত্র নেই, যা হাসির মাধ্যমে প্রভাবিত হয় না।

বিভিন্ন মেডিক্যাল গবেষক হাসিকে উন্নত মনের চমৎকার মেডিসিন বলে থাকেন। হাসির ওপর যে ক’জন স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব গবেষণা চালিয়েছেন, তাদের অন্যতম হলেন মনোচিকিৎসক ডা: উইলিয়াম ফারি। তার গবেষণার ভাষ্য হাসিকে বিজ্ঞান আঙ্গিকে গবেষণা করা হয়েছে এবং গবেষণায় দেখা গেছে, মনের গভীর থেকে অকৃত্রিম হাসির অনুভূতি আমাদের দেহ-শরীরবৃত্তীয়তার সব ক’টি দিককে আলোড়িত করে। প্রকৃতপক্ষে হাসির ইতিবাচক প্রভাবের কোনো শেষ নেই।

এখানে এর উপকারী দিক তুলে ধরা হলো

* এটি মানব ক্ষমতার উৎকর্ষতা বাড়ায়। দেহে আড্রেনালিনের ক্ষরণ মাত্রা বাড়িয়ে দেয় আর মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করে।
* হাসি মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা কমায় এবং দেহের হরমোন কর্টিসোলের ক্ষরণ মাত্রা কমিয়ে দেয়। ফলে মানবদেহে শুভ প্রভাব দেখা দেয়।
* হাসি শরীরের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
* হাসি একাকিত্ব কমায়।
* হাসি আমাদের মধ্যে সৃজনশীলতা বাড়ায়। হাসিমুখ নিয়ে অনেক কঠিন কাজও সহজে সম্পাদন করা যায়।
* হাসি মন-মানসিকতায় দারুণ সুফলদায়ক প্রভাব ফেলে।
হাসিমুখ সবারই ভালো লাগে। তাই সব সময় মুখ গোমড়া করে না থেকে হাসিমুখে থাকার চেষ্টা করা প্রয়োজন।