সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

হার্ট অ্যাটাক ও নারী

আমাদের একটা ধারণা আছে, মেয়েদের হার্ট অ্যাটাক তেমন হয় না। বাস্তবে মেয়েদের হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা পুরুষের থেকে কম নয়। হার্টের অসুখেই নারী-পুরুষ এখনও সবচেয়ে বেশি মারা যায়। যেটা সত্য তা হলো—পুরুষের যে বয়স থেকে হার্ট অ্যাটাক সাধারণত হয়, মেয়েদের ক্ষেত্রে সেটা হয় আরও ১০ বছর পর।

সেটা একদিক থেকে সুখবর, কিন্তু বয়সের দরুন এ সময় মেয়েদের অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও দেখা যায়, যেমন—উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস ইত্যাদি। সে জন্য হার্ট অ্যাটাকের দ্রুত চিকিত্সা মেয়েদের ক্ষেত্রে আরও প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে।

আরেকটা জিনিস হলো, নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো সবসময় পুরুষের মতো হয় না।

হার্ট অ্যাটাকের সাধারণ লক্ষণগুলো
— বুকে অস্বস্তি কিংবা ব্যথা।
— শরীরের ওপরের দিকে অস্বস্তি বা ব্যথা, বিশেষ করে হাতে, পিঠে ও চোয়ালে বা পেটে।
— একটুতে হাঁফিয়ে ওঠা, হঠাত্ ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা হালকা লাগা বা ঘোরা।

পুরুষের ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা বা অস্বস্তিটা হার্ট অ্যাটাকের প্রধান লক্ষণ। কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে মাত্র ৩০ শতাংশ বুকে ব্যথা বোধ করে। অনেক সময়ই মেয়েদের লক্ষণগুলো এমন যে, সেগুলো উপেক্ষিত হয়।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের একটা নিবন্ধে বলা হয়েছে, অস্বাভাবিক দুর্বলতা এবং ঘুমে অসুবিধা মেয়েদের হার্ট অ্যাটাকের একটা বড় লক্ষণ। দেখা গেছে, হার্ট অ্যাটাক হওয়ার প্রায় এক মাস আগে শতকরা ৯৫ জন মহিলার ক্ষেত্রে এটি ঘটেছে। এছাড়া দম না পাওয়া, হজমে অসুবিধা এবং দুশ্চিন্তা—এগুলোও মেয়েদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাব্য সূচনা নির্দেশ করে। হার্ট অ্যাটাক ঘটার সময় যে লক্ষণগুলো সাধারণত সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সেগুলো হলো নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা, দৌর্বাল্য, বমি ভাব, ঠাণ্ডা, ঘাম এবং মাথা ঘোরা।

একদিক থেকে মেয়েরা অনেক সময়ই হার্ট অ্যাটাকের প্রায় এক মাস আগে থেকেই একটা ওয়ার্নিং বা সাবধান বার্তা পান। কিন্তু সেটাকে উপেক্ষা করলে হার্ট অ্যাটাকের সময় বুকে ব্যথা অনেক সময় না হওয়ায়, এর গুরুত্ব অনেক সময়ই উপেক্ষতি হয়। তাই বুকে ব্যথা ছাড়া অন্যান্য লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিত্সা কেন্দ্রে যাওয়া আবশ্যক।