সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

হাম,জল বসন্ত ও ভাইরাল ফিভার

এইগরমে ভাইরাস ধরণের অসুখ যেমন- হাম, জল বসন্ত, ভাইরাল ফিভার হতে দেয়া যায়। জ্বরে বাড়ির এক ব্যক্তি আক্রান্ত হলে আস্তে আস্তে প্রায় বাড়ীর সবাই জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে। শীতের আবহাওয়ায় ঘুমন্ত ভাইরাস গরম পড়ার সাথে সাথে বাতাসের মাধ্যমে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে আমাদের কারণীয় সম্বন্ধে জানা প্রয়োজন।

জলবসন্ত

জল বসন্ত খুব ছোঁয়াচে রোগ। বিশেষ করে যার কোনদিন এ রোগ হয়নি তার জন্য জলবসন্ত খুবই ছোঁয়াচে। সে জন্য এ রোগ হলে যার জীবনে হয়নি তাকে রোগীর কাছ থেকে খুবই দূরে রাখতে হবে। সরাসরি সংস্পর্শে এবং রোগীর হাঁচি কাশির মাধ্যমে জলবসন্ত রোগ ছড়ায়।

তাই জলবসন্ত হলে যা যা করতে হবে সেগুলো হলো- আক্রান্ত রোগীকে আলাদা রাখতে হবে, রোগীর কফ, নাকের পানি, শুকনো ফুসকুড়ি মাটির নীচে পুঁতে রাখতে হবে আর রোগীর ব্যবহার করা সমস্ত জামা কাপড় গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। পুষ্টিকর ভাল মানের খাবার রোগীকে খেতে দিতে হবে। অনেকের মাঝে এ রোগের ব্যাপারে কিছু কুসংস্কার আছে। যেমন- জলবসন্তের রোগীকে মাংস, মাছ, ডিম, দুধ খেতে দেয়া যাবেনা। এগুলো খেলে নাকি ঘাগুলো পেঁকে যেতে পারে। আবার কোন কোন রোগীর বেশী করে ঠান্ডা খাবার খেতে দেয়া হয়। এগুলো সবই ভ্রান্ত ধারনা।

৪. চুলকানি হলে হিস্টাসিন জাতীয় ওষুধ খেতে দিতে হবে। যদি ঘাগুলো পেঁকে যায় বা নিউমোনিয়া দেখা দেয় তবে এক কোর্স কার্যকর এন্টিবায়োটিক খেতে দিতে হতে পারে। লোকাল এন্টি-সেপটিক হিসেবে ক্লোরহেক্সিডিন লাগাতে পারেন।

হাম

হাম একটি অতি মারাত্মক অথচ নিরাময়যোগ্য ব্যাধি। প্রতিটি শিশুকে নয় মাস বয়সে হামের টিকা দিয়ে নিতে হবে। হাম হলে কিছুতেই রোগীকে ঠান্ডা লাগাতে দেয়া যাবেনা। কারণ ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়া কিংবা ব্রংকোনিউমোনিয়া দেখা দিতে পারে। হাম হলে শিশুকে প্রোটিন খাওয়া কমানো যাবে না বরং প্রোটিনযুক্ত খাবার দাবার বেশী করে খেতে দিতে হবে।

ভাইরাস ফিভার

গরমে ভাইরাস ফিভার কিছু কিছু টাইফয়েড এবং প্যারাটাইফয়েড জ্বর দেখা দিতে পারে। ভাইরাল ফিভারে সাধারণত: সর্দি, কাশির সাথে মাথা ব্যথা এবং শরীর ব্যথা দেখা দিতে পারে। প্রথমদিকে জ্বরের শুরুতে জ্বর এবং টাইফয়েড জ্বরের মধ্যে পার্থক্য বের করা মুশকিল হয়ে পড়ে। জ্বরের ধরন এবং ব্লাড টেস্টের পর এবং রোগীকে ভালোমত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা বুঝার চেষ্টা করি।

বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ভাইরাল ফিভার দেখা দেয় বিধায় রোগীকে পুরোপুরি বিশ্রামে রাখতে হয়। সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খেতে দিতে হয়। জ্বর ১০১ ফা:-এর উপরে থাকলে এসপিরিন কিংবা প্যারাসিটামল ধরনের ওষুধ খেতে দিতে হবে এবং রোগীর মাথায় পানি দেয়া এবং কোল্ড স্পঞ্জিং দিতে হবে। রোগীকে বেশী করে পানি খেতে দিতে হবে। এ অবস্থায় ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যেই জ্বরের আক্রমণ কমতে থাকে এবং ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যায়। এনিয়মে জ্বর না কমলে অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে কোন অবস্থাতেই চিকিত্সকের পরামর্শ ব্যতীত এন্টিবায়োটিক দেয়া যাবেনা।