সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

স্পর্শজনিত চর্মরোগ

কোন কোন বস্তু চর্মরোগ সৃষ্টি করতে পারে তার সঠিক শ্রেণী বিভাগ করা সম্ভব নয়। তার কারণ আমাদের গোচরে ও অগোচরে বহু জিনিস আছে, যা চর্মরোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম। যেমন রাসায়নিক দ্রব্যের কথা ধরা যাক। অনেক রাসায়নিক দ্রব্যের সংমিশ্রণে যে বস্তু উৎপন্ন হয় তার যদি রোগ সৃষ্টি করার ক্ষমতা থাকে, তাহলে সেই বস্তুকে চর্মরোগের কারণ হিসেবে ধরে নেয়া ভুল। কারণ যে যে কেমিক্যাল দ্বারা বস্তুটি তৈরি হয় তার কোন কেমিক্যাল চর্মরোগের জন্য দায়ী তা প্রায়ই প্রস্তুতকারকদের ধরা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

পেশাগত, সমাজগত, অবসর বিনোদন সংক্রান্ত যাবতীয় অবস্থায় : এ বিভাগেই সবচেয়ে বেশি চর্মরোগ দেখা যায়। যেমন কারখানার শ্রমিকদের নিজ নিজ কর্ম অনুযায়ী ভিন্ন কেমিক্যালের স্পর্শ, ডাক্তার, নার্স ও ওষুধ প্রস্তুতকারকদের নানা প্রকার ওষুধের সান্নিধ্যে; কৃষক, মালী ও শৌখিন বৃক্ষপ্রেমিক ও প্রেমিকাদের ফুল-লতাপাতার জন্য ও শিক্ষকদের চক (খড়ি) কলম অথবা পেনসিলের স্পর্শ, মেকানিকদের মেশিনের তেল ও চর্বির স্পর্শ, গৃহিণীদের শাকসবজি, ডিটারজেন্ট ও বাসনপত্রের স্পর্শ, দোকানদারদের দৈনন্দিন ব্যবহার্য দ্রব্যের স্পর্শ এবং খেলোয়াড়দের খেলার সাজসরঞ্জামের স্পর্শ ইত্যাদি কারণে স্পর্শজনিত চর্মরোগ হয়ে থাকে।

পরিধান অথবা অলঙ্কারজাতীয় স্পর্শ : যেমন জামাকাপড়, জুতা, মোজা, বক্ষ আবরণী, টুপি, হেলমেট, চশমা বা ঘড়ির বেল্ট ইত্যাদির এন্টিজেন, যা সাধারণত রাবার, চামড়া, উল, নাইলন, নিকেল, চশমার ফ্রেম, অলঙ্কার, বোতাম ইত্যাদিতে থাকে। সে সবের স্পর্শ থেকে চর্মরোগ হয়ে থাকে।

প্রসাধনী দ্রব্য : সাবান, শ্যাম্পু, মাথার কলপ, কেশ তেল, পাউডার, ক্রিম বা সাবান, টুথপেস্ট, দাঁতের মাজনÑ এসবের কারণেও চর্মরোগ হতে পারে।

ওষুধের স্থানীয় ব্যবহার : কোনো আঘাতজনিত ক্ষতে যদি কোনো ‘কেমিক্যাল’ জাতীয় ওষুধ বা জীবাণু প্রতিরোধ দ্রব্য ব্যবহার করা হয় তাহলে চর্মরোগ দেখা দিতে পারে।

বিবিধ প্রকার বিভাগ : এই বিভাগের চর্মরোগগুলো উপরি উক্ত বিভাগের মধ্যে পড়ে না। যেমন হাওয়ায় ভাসমান ফুলের রেণু অথবা সিমেন্ট জাতীয় দ্রব্য। প্রত্যক্ষভাবে এসব জিনিস নাড়াচাড়া করলেও বায়ুতাড়িত হওয়ার জন্য আবহমণ্ডল থেকেই এই রোগ হওয়া সম্ভব, এমনকি শরীর আবৃত থাকলেও হতে পারে।