সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে শাকসবজি-ফলমূল

Fight Breast Cancerবেশির ভাগ রোগ-ব্যাধির কারণ হলো অস্বাভাবিক উল্টাপাল্টা খাবার খাওয়া. এ ধারণা সেই প্রাচীনকাল থেকে এখনো আজকের আধুনিক যুগের মানুষের চিন্তা-ভাবনায় রয়েছে। এ ধারণার সত্যতা প্রমাণ করতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। জানা গেছে, অতিরিক্ত ফ্যাটযুক্ত খাবার স্তনক্যান্সারসহ অন্যান্য ক্যান্সারের জন্যও দায়ী।

শুধু স্তন ক্যান্সার নয়, যেকোনো ক্যান্সার প্রতিরোধে নিরামিষ খাবার বিশেষত টাটকা শাকসবজি ও প্রকৃতির রঙে রাঙানো ফলমূলের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তার প্রমাণ পেয়েছেন বিশেজ্ঞরা। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জাপান ও চীনের মহিলাদের মধ্যে স্তনক্যান্সার সবচেয়ে কম হয়। এর কারণ হিসেবে ধারণা করা হয়, দূরপ্রাচ্যের ডায়েটে সয়াবিন ও সয়াবিন জাতীয় খাবারের আধিক্য থাকা।

সয়াজাতীয় খাবারের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে প্রচুর প্রাকৃতিক ইস্ট্রোজেন গ্রহণ করা হয়, যা নারী শরীরের স্তনসহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সুরক্ষা দেয়, একই সাথে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। বলা বাহুল্য, স্তনক্যান্সারের ঝুঁকিও কমে। চীনা খাবারে প্রচুর রসুনের ব্যবহার স্তনক্যান্সার প্রতিরোধ করে। দেহে বিপাকীয় ক্রিয়ার ফলে তৈরি হয় অ্যারোমোটেজ নামক জৈব রাসায়নিক পদার্থ, যা চল্লিশোর্ধ্ব বয়সে বা মেনোপজের পর মহিলাদের স্তনক্যান্সারের প্রবণতা বাড়ায়।

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন, আঙ্গুরের রসে বিশেষ করে কালো আঙ্গুরের খোসার নিচে থাকা রিজারভাটেরল যেকোনো ক্যান্সার প্রতিরোধে অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে স্তনক্যান্সার উদ্দীপক অ্যারোমোটেজকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। এই রিজারভাটেরল শুধু আঙ্গুরই নয়, টাটকা শাকসবজি, মওসুমি ফল ইত্যাদি আঁশযুক্ত রঙিন ফলমূল ক্যান্সার রুখতে সাহায্য করে। আমাদের দৈনন্দিন রান্নাবান্নায় ব্যবহৃত হলুদ, জিরা, রসুন, পেঁয়াজও ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। সুতরাং স্তনক্যান্সার প্রতিরোধে নিত্যদিনের খাবারে টাটকা শাকসবজি, ফলমূলের আধিক্য থাকা অত্যন্ত জরুরি, আরো জরুরি অধিক ফ্যাটযুক্ত খাবার পরিহার করা।