সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্বাস্থ্যের জন্য সুঅভ্যাস

সুস্বাস্থ্যের জন্য সুঅভ্যাসমানুষ অভ্যাসের দাস। অভ্যাস হচ্ছে নিয়মিত, অবিরত এবং ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কোনো কাজ করা কিংবা কোনো কথা বলা। অভ্যাসের প্রাথমিক বুনিয়াদ হলো বিশ্বাস। এ বিশ্বাসের মূলে থাকে প্রচলিত ধ্যান-ধারণা, রসম, রেওয়াজ ইত্যাদি। আবার শিক্ষাগত ধ্যান-ধারণায় আদর্শিক চেতনার বিশ্বাসে থাকে ধর্মীয় মূল্যবোধ কিংবা কোনো নীতি দর্শনের সঙ্কল্প।

অভ্যাসের বিভিন্ন ধরন রয়েছে। একটি হচ্ছে সুঅভ্যাস, অন্যটি কু-অভ্যাস। যেমনÑ হাত ধোয়ার অভ্যাস। হাত ধুয়ে খাবার খেলে জীবাণু সংক্রমণের ভয় থাকে না। এটি একটি সুঅভ্যাস। যা মানুষকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত গোসল মানুষকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সুস্থ রাখে। বাথরুম সেরে সাবান দ্বারা হাত ধুলে কৃমি সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়। প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করলে মুখের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। চুলে তেল দিলে চুল ভালো থাকে। খাবারে শাক-সবজি নিয়মিত খেলে পেট পরিষ্কার হয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে প্রতিমুহূর্তে ইতিবাচক চিন্তা মানুষের মনকে প্রফুল্ল রাখে।

আবার যারা ধূমপান করে তারা বিষ পান করে। ধূমপান ক্যান্সার সৃষ্টি করে। ধূমপান হার্টের রোগ সৃষ্টি করে। ধূমপান ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটি একটি কুঅভ্যাস। মদপানও একটি কুঅভ্যাস, যা ক্যান্সারসহ অনেক রোগের জন্য দায়ী। তামাক, জর্দ্দা, গুটখা ইত্যাদি খাওয়াও কুঅভ্যাস, যা ক্যান্সার সৃষ্টির কারণ। বিয়ে বহির্ভূত যৌন অভ্যাস মানুষকে যৌন সংক্রমিত রোগে আক্রান্ত করে। এইডস, সিফিলিস, গনোরিয়া ইত্যাদি মারাত্মক জীবনঘাতী যৌন রোগগুলোর কারণ কু-যৌন অভ্যাস। অন্য দিকে এসব রোগ মনকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। নিউরোসিফিলিসের উপসর্গে উন্মাদনার প্রকাশ ঘটে। বংশগতভাবেও পরবর্তী জেনারেশনে জন্মগত সিফিলিসের রোগী পাওয়া যায়। চিন্তা করুন একটি কুঅভ্যাস মানুষকে কোথায় নিয়ে যায়।

অভ্যাসগত “মিথ্যা কথা” একটি মারাত্মক মানসিক ব্যাধি। একটি মিথ্যাকে ঢাকার জন্য একশতটি মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়। সমাজকে কলুষিত, বিভ্রান্ত এবং হঠকারী পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য ‘মিথ্যা কথা” একটি বড় অস্ত্র। মিথ্যা মানুষের জীবনকে ধ্বংস করে, সমাজকে ভেঙে ফেলে। এক অরাজকতার পরিবেশ সৃষ্টি করে মিথ্যা কথা। সুদ, ঘুষ, দুর্নীতির মূল উৎস মিথ্যা। মানুষকে মিথ্যার বেড়াজালে আবদ্ধ করে সমাজে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে মিথ্যা। ফলে সমাজে দেখা দেয় হতাশা, উৎকণ্ঠা, উদ্বেগ। ব্যক্তিগত পর্যায়ে মানুষের মনেও দেখা দেয় বিষাদের ছায়া। এমনি পর্যায়ে মানুষ নিজেকে সামলে নিতে পারে না। মানুষ বেছে নেয় আত্মহননের পথ।

সত্য কথাই আত্মহননের পথ থেকে মানুষকে বাঁচাতে পারে। সত্য কথা মনকে পরিষ্কার করে। বিশুদ্ধ করে। সুস্থ রাখে। সত্য কথাই মানুষকে সত্যের পথে পরিচালিত করে। সত্য কথায় মন উৎফুল্ল থাকে। সজীব থাকে। প্রশান্তিতে মন ভরে ওঠে। সত্য বলার জন্য মনকে সত্যের অনুসারী হতে হয়। আর সে সত্যের পথ আল-কুরআনের পথ। মহানবীর সা: আদর্শের পথই একমাত্র সত্যের পথ।

মানুষকে শুদ্ধ করার জন্য নানা পথ ও মতের প্রচলন রয়েছে। প্রায় দশ হাজার বছর আগে “শিব’ নামে একজন মানুষকে ধ্যানচর্চার মাধ্যমে শুদ্ধ করার পথ দেখিয়েছিলেন। আজকেও অনেকে এই ধ্যান বা মেডিটেশন করে মনকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের মধ্যে “মেডিটেশন” একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু মুসলিমদের কাছে আল্লাহর ইবাদত করাই একমাত্র বিষয়। আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করাই মনের প্রধান কাজ।

আল্লাহ এবং রাসূলের (সা:) আনুগত্য ছাড়া মন শক্তিশালী হয় না। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো শক্তির ধ্যান করতে পারে না এ মন। এ মনের অভ্যাস হচ্ছে প্রতিটি কাজের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ এবং শেষ করে ‘আলহামদু লিল্লাহ’ বলা। এ মনের অভ্যাস প্রতিদিন পাঁচবার সালাত আদায় করা। প্রতিদিন কুরআন তেলাওয়াত। অধ্যয়ন না করলে এ মন শান্তি পায় না। এ মনের অভ্যাস হচ্ছে, প্রতিটি ঘটন-অঘটনের পর বলবে, “আল্লাহর যা ইচ্ছা তা তিনি নির্ধারণ করেছেন।” কোনো বিপদ-আপদের সম্মুখীন হলে এ মন বলে উঠবে” আল্লাহতায়ালাই আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি কত উত্তম অভিভাবক।”

এমন যদি কখনো রাগান্বিত হয় তাহলে বলবে, “আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতোয়ানির রাজিম”, মানে, আমি শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাচ্ছি।” ভবিষ্যতের কোনো কাজের কথায় এ মনের অভ্যাস হচ্ছে, ‘ইনশাল্লাহ’ বলা। অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি আনুগত্যশীল মনের অভ্যাস হচ্ছে, প্রতি মুহূর্তে প্রতিটি কাজে আল্লাহকে স্মরণ করা। মহাশক্তিশালী আল্লাহর অভিভাবকত্ব যে মন মেনে চলে তার কোনোরকম ভয় থাকে না। অথচ সমাজে ‘ভয়’ একটি মারাত্মক ব্যাধি।

একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কোনো শক্তিকে ভয় করে না এ মন। ভয়ের কারণে মানুষের মনে জন্ম নেয় হতাশা। হতাশাগ্রস্ত মন বিষাদে আক্রান্ত। বিষাদগ্রস্ত মন আত্মহননের পথ বেছে নেয়। সুতরাং যে মন মহাশক্তিশালী অভিভাবকদের স্মরণে অভ্যস্ত তার কোনো ভয় থাকতে পারে না। অর্থাৎ প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহকে স্মরণ করার অভ্যাস মানুষকে সব দিক থেকে সুস্থ রাখে। সুঅভ্যাসের অধিকারী মন পরস্পরের সাথে দেখা হলেই ‘সালাম’ বিনিময় করে। প্রতিবেশীর সাথে সে সবসময় সুসম্পর্ক রাখে। অন্যের উপকারে সে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কুঅভ্যাসের কোনো কারণ ঘটলেই সে মন তাওবা করে। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এমন ভালো ভালো অভ্যাস বজায় রাখে। আর ভালো অভ্যাস, ভালো কাজ, ভালো চিন্তা, মানুষের মনকে সুস্থ ও শক্তিশালী রাখে। এ মনই আমাদের কাম্য।