সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ হার্ট: দীর্ঘ জীবন

হূদরোগ ও এসংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা শুধু উন্নত বিশ্বেই নয়, বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশেও বিস্তার লাভ করছে। হূদযন্ত্র বা হার্ট মানবদেহের অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সুস্থ হার্ট মানেই সুস্থ জীবন। দীর্ঘ জীবনের জন্য হার্টকে সুস্থ রাখা একান্ত প্রয়োজন। হার্টকে সুস্থ রাখার জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলা একান্ত জরুরী।

হূদরোগের প্রধান কারণ

হূদরোগের প্রধান কারণ হলো রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া। কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য দরকার পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক প্ররিশ্রম। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অর্থাত্ হার্টকে সুস্থ রাখতে রোজকার খাদ্য তালিকায় কোন কোন খাবার রাখতে হবে এবং কোন খাবারগুলো বাদ দিতে হবে তা জানা প্রয়োজন।

  • আঁশযুক্ত খাবার খাদ্যতালিকায় বেশি রাখুন, যেমন- সবুজ শাক সবজি, খোসাসহ আস্ত ফল, টক ফল, খোসাসহ পেঁয়ারা, আমলকি, লেবু, কুল, আমড়া। এছাড়া ছোলা, সালাদ এগুলো বেশি পরিমাণে রাখতে হবে।
  • তেল ও চর্বি জাতীয় খাবার কম খাবেন। খাবার অল্প তেলে রান্না করবেন। রান্নার তেল নির্বাচনে অবশ্যই  কোন উদ্ভিজ্জ তেল রাখতে হবে। যেমন- কর্নওয়েল, সয়াবিন তেল, জলপাই তেল, সানফ্লাওয়ার ওয়েল।
  • পরিমিত পরিমাণে শর্করা জাতীয় খাবার, দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার, চিনি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার, লবণাক্ত খাবার।
  • খাদ্যতালিকা থেকে যে খাবারগুলো বাদ দিতে হবে। যেমন-রেডমিট (গরু, খাসি, মহিষ ইত্যাদি), কলিজা, মগজ, মাংসের চর্বি, গলদা চিংড়ি, ডিমের কুসুম, দুধের সর, মাছের ডিম, হাঁস-মুরগী-কবুতরের চামড়া, হাড়ের মজ্জা, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্টফুড, জাঙ্কফুড, সম্পৃক্ত চর্বি, ঘি, মাখন, ডালডা, মার্জাবিন, কোমল পানীয়।

রন্ধন প্রণালী

মনে রাখতে হবে খাবার তৈরীর প্রণালীর উপর ক্যালরি হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। বিষয়টির সাথে হূদরোগের সম্পর্ক খুবই নিবিড়। রান্নার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে।

  • খাবার ডুবো তেলে রান্না করা যাবে না
  • বেশি মশলা ও লবণ পরিহার করতে হবে
  • ভাজা খাবারের থেকে গ্রিল করা খাবার বা ভাপেসিদ্ধ খাবার বেশি ভালো
  • রান্নায় কম তেল ব্যবহার করতে হবে মেথি, করলার রস, ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা, ইসুবগুলের ভূসি এগুলো রক্তে কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনই এগুলো অল্প পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।

মনে রাখবেন, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ওজন হূদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাসের সাথে সাথে নিয়মিত ব্যায়াম বা শারীরিক প্ররিশ্রম একান্ত প্রয়োজন।

হার্টকে সবল রাখতে ব্যায়ামের কোন বিকল্প নেই। ব্যায়ামকে আনন্দের বিষয় মনে করলে এটি অভ্যাসে পরিণত হতে পারে। এমন ব্যায়াম নির্বাচন করতে হবে যেটা সহজেই করা যায় এবং করতে ভালো লাগে। ব্যায়ামে একঘেয়েমী বা অলসতা দূর করার জন্য প্রতিদিন একই ব্যায়াম না করে বিভিন্ন ধরণের ব্যায়াম করা যায়। যেমন- একদিন হাঁটা, একদিন জগিং বা দৌঁড়ানো, একদিন সাইকেল চালানো বা সাঁতার কাটা। এছাড়া গ্রুপ করেও ব্যায়াম করা যায়। হঠাত্ করে কঠিন কোন ব্যায়াম করে শরীরকে চমকে দেবেন না। ধীরে ধীরে ব্যায়ামের সময় বাড়ান। প্রথমে শুধু হাঁটুন, ১০-১৫ মিনিট। আস্তে আস্তে সময় বাড়ান। হাঁটা উত্তম ব্যায়াম। সবচেয়ে ভালো হয় বিশেষজ্ঞ কারও পরামর্শ নিয়ে শুরু করা। এতে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

আরও কিছু পরামর্শ

হার্টকে সুস্থ রাখতে হলে দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ ও নেশাজাতীয় দ্রব্য পরিহার করতে হবে। হার্টের কাজ হল পরিসুদ্ধ রক্ত সারাদেহে সরবরাহ করা। কেউ যদি ধূমপায়ী হয় বা এলকোহল নেয় তাহলে তার হার্টের পরিশ্রম বেশি হয়, ফলে হার্ট ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

দীর্ঘদিন এরকম চলতে থাকলে হার্ট রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। গবেষণায় দেখা যায় ধূমপান হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই সকল ধরণের নেশা জাতীয় দ্রব্য ত্যাগ করা উচিত। এমনকি ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ওষুধ গ্রহণ করাও উচিত নয়। প্রতিদিন সময় বের করে মেডিটেশন করতে পারেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত মেডিটেশন হার্টের জন্য ভালো। এছাড়া মেডিটেশনের মাধ্যমে নেশাজাতীয় দ্রব্য পরিহার করাও সহজ হয়। কারণ নেশাজাতীয় দ্রব্যের উপর ব্রেইন অনেক খানি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। নিয়মিত প্রার্থনা করুন এতে মন ভালো থাকে এবং নিজের উপর আস্থা বাড়ে।

উপরের নিয়মগুলো মেনে অর্থাত্ পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও সুস্থির জীবন যাপনের মাধ্যমে হূদরোগ প্রতিরোধ করা অনেকটাই সম্ভব।

লেখক: তায়েবা সুলতানা নিউট্রিশনিস্ট এন্ড ওয়েটি ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট