সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ ও সুষ্ঠু চিন্তার জন্য ৬ বিষয় জেনে রাখুন

সুস্থ ও সুষ্ঠু চিন্তার জন্য ৬ বিষয় জেনে রাখুন 

বলা যায়, সব কিছুর শুরু তো চিন্তা থেকেই হয়। কোনো আবিষ্কারই ঘটত না, যদি কেউ ওই বিষয়টি নিয়ে না ভাবতেন। কাজেই জীবনযাপনের পথ বেছে নিতে বা বড় বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সুষ্ঠু মস্তিষ্কে ভাবতে হবে। তবে কার্যকর চিন্তার জন্য কিছু শর্ত প্রযোজ্য বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এখানে জেনে নিন এবং গভীর ভাবনার পরিবেশ সৃষ্টি করুন। দেখবেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে কখনো ভুল হবে না।

১. নীরব কোনো স্থান বেছে নিন
চিন্তার ধারাবাহিকতা নিমিষেই নষ্ট করে হট্টগোল। শ্রুতিকটু বাজে শব্দও একই ঘটনা ঘটাবে। শুধু কানের শান্তির জন্যই নয়, চোখের সামনে থেকেও দৃষ্টিকটু কিছু সরিয়ে ফেলা দরকার। স্রেফ চুপচাপ বসে থাকার জন্য শান্ত কোনো পরিবেশ খুঁজে নিন। কাজে নামার আগে একাকী ও নীরবে পরিষ্কার মাথায় ভেবেচিন্তে তার পরই এগিয়ে যান।

২. মানসিক চাপমুক্ত হোন
মনের যত চাপ দূর করতে হবে। নয়তো সুস্থ মস্তিষ্কের চিন্তা সম্ভব নয়। এক বিষয়ের চিন্তা থেকে অন্য বিষয়ের মসৃণ পথে ছেদ ঘটাবে এই চাপ। তাই আগেভাগেই মনটাকে ধীরস্থির করুন এবং প্রাণশক্তি ফিরিয়ে আনুন। এ কাজে মেডিটেশন বেশ ফলদায়ক। চর্চাটা প্রতিদিন চালিয়ে যেতে পারেন। মগজে সুস্থ-সবল চিন্তার উন্মেষ ঘটাতে অস্থিরতাকে বিদায় জানাতে হবে। আবেগও কিন্তু কার্যকর চিন্তার উৎস। ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ বইয়ে ক্রিস লুইস জানিয়েছেন, আবেগ আমাদের কাছে এক উপহারস্বরূপ। আবেগীয় সচেতনতা বোঝা এবং একে সামাল দেওয়ার কৌশলগত পদ্ধতির ওপর জটিল চিন্তায় সফলতা নির্ভর করে।

৩. বাইরে যান
ধীর পায়ে হেঁটে আসুন কিছুক্ষণের জন্য। এতে মাথার ভার হালকা হয়ে যাবে। দৃশ্যগত ও অবস্থানগত পরিবর্তনেই দেহ-মনে বেশ পরিবর্তন আসে। একঘেয়ে পরিবেশে বসে সুস্থ চিন্তা দুষ্কর।

৪. ভুলকে ভয় নয়
ভুল না হলে আপনি মানুষ নন, এ কথা বলাই যায়। তাই ভুল করার ভয় থেকে বেরিয়ে আসুন। ভুল মানেই তা শুধরে নেওয়ার সুযোগ আছে। এ শঙ্কা থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে আরো গভীর চিন্তায় মগ্ন হতে বাধা থাকবে না। এডওয়ার্ড বি বার্গার এবং মাইকেল স্টারবার্ড এ পরামর্শ  দিয়েছেন ‘দ্য ফাইভ এলিমেন্টস অব ইফেক্টিভ থিংকিং’ বইয়ে। তাঁদের মতে, ভুল সবচেয়ে বড় শিক্ষক। এখান থেকে কিছু শেখার চেষ্টা হেলায় হারাবেন না।

৫. চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নয়
কোনো প্রশ্নের জবাব পেতে অস্থির হয়ে আছেন? এর অর্থ আপনি কোনো চাপে আছেন। এমন পরিস্থিতিতে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বেশি বেগ পেতে হবে না। তাই নিজেকে একটু সময় দিন। সিদ্ধান্তটা একটু পরে নিলেই বা সমস্যা কোথায়? সময় বেঁধে নিন। এর মধ্যে অজানা প্রশ্নগুলোর উত্তর বের করে ফেলুন।

৬. নিজেকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিন
যাঁরা ক্রমাগত নিজের মস্তিষ্ককে কাজে নিয়োজিত রাখেন জটিল সমস্যা সমাধানে তাঁরা বেশ পটু হয়ে ওঠেন। তাঁদের মাথা সব সময় সমাধানের পথ খোঁজে। একটি সমস্যা মোকাবেলায় তাঁদের মনে হাজারটা সমাধানের পথ উঁকি দেয়। যেকোনো সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ নিন।