সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুখী পরিবার সৃষ্টিতে স্বামী-স্ত্রী দুজনের অবদান সমান গুরুত্বপূর্ণ

সুখী পরিবার সৃষ্টিতে স্বামী-স্ত্রী দুজনের অবদান সমান গুরুত্বপূর্ণবিয়ের পর যে জীবন শুরু হয় সেটাকেই দাম্পত্য জীবন বলা হয়। সংসারে বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে প্রায় সময় কলহের সৃষ্টি হয়। আর এর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্কে ফাটল ধরে। কখনও কখনও কলহের জের ধরে সংসার ভাঙনের সুরও বেজে ওঠে। ভালোবাসার মানুষটির কাছে আমরা হয়তো অজান্তেই অনেক কিছু প্রত্যাশা করে ফেলি। কিন্তু তারা হয়তো আমাদের এই প্রত্যাশার খবরই রাখেন না। পরে আশাহত হয়ে আমরা তাদেরকেই দোষ দিয়ে থাকি। এটা না করে যদি আমরা নিজের প্রত্যাশা একটু সীমাবদ্ধ রাখি তাহলে ভুল বোঝাবুঝির মাত্রা অনেকখানিই কমে যাবে। অহেতুক একে অপরের ওপর দোষ চাপাবেন না।

আপনার সঙ্গীটি হয়তো কাজের চাপে গুরুত্বপূর্ণ কিছু একটা ভুলে গিয়েছেন বা আপনাকে সময় দিয়ে উঠতে পারেননি। এটাও ভেবে দেখুন, আপনার প্রিয় মানুষটি কেন শুধু শুধু আপনার কাছে মিথ্যা কথা বলবে? তাই অপরকে দোষ না দিয়ে আসল কারণটি বুঝতে চেষ্টা করুন। আর বাইরের মানুষের সামনে পরস্পরকে দোষারোপ একেবারেই করা যাবে না। কোনো কারণে আপনার রাগ হলে মনের ভেতর বেশি সময় চেপে রাখবেন না। সঙ্গীর সঙ্গে আলোচনা করে ব্যাপারটা মিটিয়ে নিন। কারণ আপনি না বললে সে কী করে বুঝবে যে আপনি অভিমান করেছেন আর কেনই-বা করেছেন। তাই কোনো বিষয়ে রাগ হলে চুপ করে না থেকে সঙ্গীর সঙ্গে আলোচনা করে রাগ মিটিয়ে নিন।

দাম্পত্য সম্পর্কের ধরনটাই এমন—কখনও বৃষ্টি কখনও রোদ। তবে বর্তমানে দম্পতিরা সত্যি দিশেহারা। ঘরে-বাইরে জীবন ক্রমেই জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠছে। ঘরের কাজকর্ম থেকে শুরু করে বাচ্চাদের লেখাপড়া পর্যন্ত সবকিছুই কঠিন ও অনিশ্চিত। স্বামী-স্ত্রী দুজনই নিজেদের কর্মস্থলে সমস্যার পর সমস্যা মোকাবিলা করে ক্লান্ত। ঘরে ফিরেও দু’দণ্ড শান্তির অবকাশ নেই। ব্যক্তিত্ব আর আত্মমর্যাদার সঙ্কট প্রবল। তবে দুজনই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও আন্তরিকতায় মানিয়ে চললে সম্পর্কটা সহজ হয়। একটুখানি মানিয়ে চলায়

সুখী দাম্পত্য জীবন নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আফরোজা হোসেন। তিনি বলেন, ‘দাম্পত্য জীবনে কলহ অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। ভালোবাসা-সমঝোতা-মমতার মতোই মতবিরোধ, মতপার্থক্য দাম্পত্য জীবনের একটা অঙ্গ। কিন্তু দাম্পত্য সম্পর্ক তখনই অস্বাভাবিক রূপ ধারণ করে, যখন এর ফল হয় ভুল বোঝাবুঝি, তিক্ততা, পরস্পরকে হেয়প্রতিপন্ন করার প্রবণতা, অবিশ্বাস ইত্যাদি। বিবাহিত জীবন কেবল স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এতে জড়িত পরিবারের অন্যান্য সদস্য, সমাজ-সংস্কৃতি। দুজন স্বতন্ত্র মানসিকতার, ভিন্ন পরিবেশে বেড়ে ওঠা আলাদা মানুষ দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় সাধন করে একটা সমঝোতায় পৌঁছে জীবনযাপন করতে চেষ্টা করেন। এখানে মানিয়ে চলাটা তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্পর্কে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে তর্কে জিততে যাওয়ার প্রবণতা বা নিজের মতকে একগুঁয়েভাবে প্রাধান্য দেয়াটা দাম্পত্য সম্পর্কে কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়।’ দাম্পত্য খুবই ব্যক্তিগত সম্পর্ক। নিজেদের ভেতর রাগারাগি বা ভুল বোঝাবুঝি যাই ঘটুক না কেন, সেটা নিজেদের কাছেই সীমাবদ্ধ রাখুন। অন্যদের সঙ্গে নিজের স্বামী-স্ত্রীর অন্যায় বা দোষ নিয়ে আলোচনা করতে যাবেন না, কিংবা কাউকে ডেকে দাম্পত্যের ঝগড়ায় সমঝোতা করে দিতে বলবেন না। এতে কিন্তু ভুল বোঝাবুঝি বাড়বে বই কমবে না।

নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনে বাইরের মানুষকে নাক গলাতে দেয়া মোটেও উচিত নয়। রাগারাগির সময় পুরনো ঘটনা টেনে আনলে ঝগড়া আরও বড় আকার ধারণ করে। তাই অতীতকে টেনে না আনাই ভালো। যদি আপনার মনে হয় রাগটা একটু বেশিই হয়ে গেছে, তাহলে সেই সমস্যার সমাধানও আছে। আপনার সঙ্গীর পছন্দের একটি ছোট্ট উপহার দিয়ে ভুল বোঝাবুঝির অবসান করে ফেলুন। সঙ্গে বলুন আন্তরিক একটি স্যরি।

সন্তানদের সামনে ঝগড়া বা কটু বাক্য বিনিময় করবেন না। এতে সম্পর্কের ক্ষতি হয়। ভুল বোঝাবুঝি বাড়তে থাকে। অন্যের সঙ্গে আপনার সঙ্গিনীর তুলনা করতে যাবেন না। এতে মনে আঘাত পাবেন আপনার ভালোবাসার মানুষটি। কাজের চাপে আপন মানুষটিকে ভুলে যাবেন না যেন বা কাছের মানুষের সঙ্গে মেজাজ দেখাতে যাবেন না। আর্থিক সমস্যা জীবনে থাকতেই পারে। সেটার কারণে অপর মানুষটিকে দোষারোপ করবেন না বা খোঁটা দেবেন না।

তৃতীয় ব্যক্তির কথায় কান দিয়ে সঙ্গীকে অকারণে ভুল বুঝবেন না। কিছু কানে এলে আপন মানুষটিকে সত্য খুলে বলুন। পরিবারের সুখ-শান্তি বজায় রাখার দায়িত্ব স্বামী বা স্ত্রীর কারও একার নয়। সুখী পরিবার সৃষ্টিতে স্বামী-স্ত্রী দুজনের অবদান সমান গুরুত্বপূর্ণ। সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য এমন অবস্থাই কাম্য। স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের প্রতি কর্তব্য পালনে পরিবার একটি সুখের আবাসে পরিণত হয়। আবার কর্তব্য অবহেলার কারণে পারিবারিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। দাম্পত্য জীবন কোনো খেল-তামাশার বিষয় নয়। এতে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। আর এ উপলব্ধির অভাবে অনেকাংশে কলহ ও বিরোধ সৃষ্টি হয়।

স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক দায়িত্ববোধ এবং আন্তরিকতার ফলে দাম্পত্য জীবন তথা সংসার একটি সুখের ঠিকানায় পরিণত হয়। আর এতে স্বামী-স্ত্রী কারোর অবদান কম নয়। তবে এক্ষেত্রে স্ত্রীদের দায়িত্ব অধিক। স্ত্রীকে সংসার এবং পরিবারের এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যাতে স্বামী সেখানে আসার জন্য এবং অবস্থান করার জন্য ব্যাকুল থাকে। স্বামী মনে করবে এটা তার জন্য এক আরাম ও নিরাপদ স্থান। স্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্যমূলক ও মধুর ব্যবহার করা স্বামীর কর্তব্য। নচেত্ এর কারণেই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। ভালো ব্যবহার দাম্পত্য জীবনকে সুন্দর ও সুখকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।