সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সিজোফ্রেনিয়ার সাথে বসবাস

বিশ্বব্যাপী বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত হয় ১০ অক্টোবর। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘লিভিং উইথ সিজোফ্রেনিয়া’ মানে সিজোফ্রেনিয়ার সাথে বসবাস। মনের মাঝে নানা উদ্ভট চিন্তার রোগ সিজোফ্রেনিয়া। এ রোগ মানসিক রোগের মধ্যে সবচেয়ে জটিল। এ ধরনের রোগীর চিন্তাধারা, আবেগ, আচরণ ও কাজকর্মে নানা ধরনের অসংলগ্নতা ঘটে থাকে। ধরা যাক একজন ভালো ছাত্র মামুন, যার বয়স ২৩। ছাত্র হিসেবে ভালো হলেও সে বিএ পরীক্ষায় ফেল করে। তারপর দেখা গেল সে ঘরের দরজা আটকে বসে থাকে। আপন মনে বিড়বিড় করে। কারো সাথে সে কথা বলে না। আবার কারো সাথে ভয়ানক আচরণ করে। মনে মনে ভেবে নেয় তাকে তার বাবা-মা অথবা প্রতিবেশীরা মেরে ফেলবে। আবার বলে থাকে সে গায়েবি কথা শুনতে পায়। কথাবার্তা প্রায়ই এলোমেলো থাকে। প্রতিদিনের কাজকর্মে তার কোনো উৎসাহ নেই। এমন ধরনের মানসিক পরিবর্তন যখন কারো মধ্যে প্রকাশ পায় তখন তাকে চিকিৎসক সিজোফ্রেনিয়ার রোগী বলে চিহ্নিত করে।
সিজোফ্রেনিয়ার রোগীরা অনেক ভালো কাজও করতে পারে।

১৯৯৪ সালে আমেরিকার জন ন্যাস অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী হন। অথচ এ ব্যক্তিটি ছিল সিজোফ্রেনিয়ার রোগী। তাকে ষোলোবার মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান ঘগও ছিলেন সিজোফ্রেনিয়ার রোগী।

সিজোফ্রেনিয়ার রোগীর যেসব লক্ষণ পরিলক্ষিত হয় তার মধ্যে রয়েছে আজব অভিযোগ। যেমন তার শরীরের ভেতরে কোনো কিছু হাঁটছে অথবা অস্বাভাবিক কোনো বস্তু রয়েছে। অবসাদগ্রস্ততা, বিষণœতা, প্রতিদিনের কাজে উৎসাহ না থাকা, নিজের ক্ষতির আশঙ্কা, উদ্ভট চিন্তাভাবনা, অস্থিরতা, আগ্রাসী আচরণ, অস্বাভাবিক কথাবার্তা, নিজের জীবন সম্পর্কে উদাসীনতা, আজগুবি কথা শোনা বা হেলুসিনেশন, নেতিবাচক চিন্তা, সন্দেহপ্রবণতা প্রভৃতি। যেকোনো বয়সেই এ রোগ হতে পারে। তবে ১৫-২৫ বছরের মধ্যে পুরুষদের এবং ২৫-৩৫ বছর বয়সকালে মহিলাদের মধ্যে এ রোগ দেখা যায়। সিজোফ্রেনিয়া রোগে বংশগত প্রভাব রয়েছে। বাবা-মা, ভাইবোন, মামা, খালা, ফুফু, চাচা কারো মধ্যে এ রোগ থাকলে আপনার এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সিজোফ্রেনিয়া রোগীর ঠিকমতো চিকিৎসা করানো হলে তারা সুস্থ হতে পারেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, আক্রান্ত ব্যক্তি স্বেচ্ছায় চিকিৎসা নিতে চায় না। তাই আত্মীয়দের আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। যেহেতু সিজোফ্রেনিয়া দীর্ঘমেয়াদি অসুখ, তাই এর চিকিৎসাও দীর্ঘমেয়াদি। এ ধরনের রোগীর সাথে সবাইকে সদ্ব্যবহার করা কর্তব্য। সহানুভূতির সাথে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এ ধরনের রোগীদের সহযোগিতা করতে হবে। কোনোভাবেই তাদের অবজ্ঞা, অবহেলা করা যাবে না। বন্ধু হিসেবেই এ ধরনের রোগীর সাথে আচরণ করতে হবে। তাদের সমাজের প্রয়োজনীয় ব্যক্তি হিসেবেই গণ্য করতে হবে। তারাও যে সমাজ উন্নয়নে অংশীদার এ কথা সবারই মনে রাখতে হবে।

%d bloggers like this: