সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সাবধান! কিডনির অসুখ কেড়ে নিতে পারে প্রাণ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বাড়ছে কিডনি জটিলতা। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ এখন ঘরে ঘরে৷ বিভিন্ন সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, পারিবারিক ইতিহাসে কিডনির সমস্যা থাকলে, ইউরিন ইনফেকশন হলে কিংবা দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কিডনির অসুখে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে৷ ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন বা ‘হু’-র দাবি, সারা বিশ্বে কিডনির অসুখে প্রতি বছর মৃত্যু হয় প্রায় সাড়ে আট লাখ মানুষের৷ অর্থাৎ একবার অকেজো হলে ধনেপ্রাণে মেরে দেয় কিডনির অসুখ৷ তাই আগে থেকেই সতর্ক হওয়া উচিত৷

 

কিডনির অসুখ মূলত দু’ধরনের হয়। ১. অ্যাকিউট কিডনি ডিজিজ ও ২. ক্রনিক কিডনি ডিজিজ

অ্যাকিউট কিডনি ডিজিজ : হঠাত্‍ করেই কিডনির ওপর প্রভাব ফেলে৷ বিভিন্ন ইনফেকশন, ম্যালেরিয়া, সিভিয়ার ডায়ারিয়া, সাপের কামড় অথবা হঠাত্‍ দুর্ঘটনা ঘটলে তার প্রভাবে হয় অ্যাকিউট কিডনি ডিজিজ৷ তবে এই ধরনের কিডনির অসুখ ৩ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়৷

ক্রনিক কিডনি ডিজিজ : সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এই অসুখ৷ দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস ও হাই ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণ না করলে কিডনির সমস্যা সবচেয়ে বেশি হয়৷ এছাড়াও ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশন, কিডনি স্টোন, পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ (কিডনিতে সিস্ট) ও গ্লুমেরুলোনেফ্রাইটিসের (নেফ্রনে প্রদাহ) সমস্যা দেখা যায়৷ প্রোস্টেটের সমস্যা, ইউরিনারি ট্র্যাক ব্লক থাকলেও কিডনির সমস্যা হয়৷

কারা বেশি আক্রান্ত হন : বয়স্ক হলে, পরিবারে কারো কিডনির সমস্যা থাকলে, দীর্ঘদিন হার্টের অসুখ, ওবেসিটি, ধূমপানের অভ্যাস থাকলে কিডনির রোগ হওয়ার আশঙ্কা কয়েক গুণ বেড়ে যায়৷
শনাক্ত : ক্রনিক কিডনি ডিজিজে তেমন কোনো লক্ষণ থাকে না৷ ধীরে ধীরে রোগ বাড়তে থাকে৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যাডভান্স স্টেজে রোগী বুঝতে পারেন৷ পরবর্তীকালে যে যে লক্ষণ দেখা যায় তা হলো–

হঠাত্‍ করে ওজন বৃ‌দ্ধি কিংবা ওজন কমে যাওয়া৷
একটুতেই দুর্বল হয়ে পড়া৷
প্রস্রাব করার সময় ব্যথা৷
প্রস্রাবের বেগ পাওয়ার সময় ব্যবধানের মধ্যে পরিবর্তন৷
শরীরে ফুলে যাওয়া৷
তলপেট ও কোমরের দিকে ব্যথা৷
খিদে কম৷
বমি ভাব৷
সারা শরীরে ব়্যাশ, চুলকানি৷

বদ অভ্যাস :
কথায় কথায় পেন কিলার (এনএসএআইডি গ্রুপের ওষুধ) ও কারণ ছাড়াই নিয়মিত গ্যাসের ওষুধ (পিপিআই গ্রুপের ওষুধ) খাওয়ার অভ্যাস কিডনিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলে৷ পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়া অত্যন্ত জরুরি৷

কিডনি ভালো রাখতে :

নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করতে হবে ও সঠিক ডায়েট মেনে চলা জরুরি৷
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে৷
খাবারে নুন কম খান৷
উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে নিয়মিত চেক আপ জরুরি৷

Category: কিডনি