সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সাইনোসাইটিস লক্ষণ ও উপসর্গ

১. নাকে সর্দি হওয়া, বা নাক দিয়ে ক্রমাগত পানি পড়া এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া; বিশেষত যখন ঠাণ্ডায় আক্রান্ত ব্যক্তি সাত দিনেরও বেশি সময়ে সেরে না ওঠে।
২. নাক দিয়ে সবুজ কিংবা হলুদ পদার্থ বেরিয়ে এলে। মাঝেমধ্যে অবশ্য রক্তের ছোঁয়াও সেখানে লেগে থাকতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির গলার ভেতরে খুসখুস করে অস্বস্তিকর অনুভব হওয়া এবং সে কারণে কাশি হওয়া।

৩. কপালে কিংবা চোখে বা চোখের চারপাশজুড়ে চাপ বা বদ্ধতা কিংবা ব্যথা অনুভব করা। এই ব্যথা হয়তো কপাল থেকে মাথার পেছনের দিকে সরে যেতে পারে এবং সকালে এই ব্যথা আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে, কিংবা যখন সামনের দিকে ঝুঁকে থাকেন, তখনও এটা ঘটতে পারে।
৪. নাক দিয়ে একটা বাজে গন্ধ বের হয়, কিংবা নিঃশ্বাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ বের হয়।
কখনও কখনও ১. জ্বর, ২. ওপরের চোয়ালে ব্যথা হয়।

দীর্ঘস্থায়ী সাইনোসাইটিস
সাইনাসের জমাটবদ্ধতা এবং নাক দিয়ে তরল নির্গমন, যেটা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী থাকে।
কী করা উচিত
১. প্রচুর পানি পান করুন—প্রতিদিন ন্যূনতম আট থেকে দশ গ্লাস।
২. জমাটবদ্ধ সাইনাসের কষ্ট থেকে স্বস্তি পেতে বাষ্পের সামনে নাক নিয়ে শ্বাস নিতে পারেন। গরম পানি দিয়ে স্নান করতে পারেন, কিংবা একটা উষ্ণ ও ভেজা কাপড় নাকের ওপর চেপে ধরে রাখতে পারেন।
৩. মুখে এবং নাকে ব্যবহারের জন্য যে ডিকনজেসট্যান্ট (বদ্ধতানিরোধক) স্প্রে পাওয়া যায়, সেটা ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এগুলো আপনাকে সহজে শ্বাস নিতে সাহায্য করবে, কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এগুলো দুই দিনের বেশি ব্যবহার করা ঠিক হবে না, কেননা এগুলো ব্যবহারের পরিণাম আরও খারাপ হতে পারে।
৪. আপনার নাকে লবণাক্ত পানি ছিটকে দিয়ে ধুয়ে নিলে সেটা শ্লেষ্মা এবং ব্যাকটেরিয়া ধুয়ে নিয়ে যাবে।

কখন ডাক্তার দেখাবেন
১. যদি মুখ ফুলে ওঠে কিংবা দৃষ্টি অস্পষ্ট হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আপনি হয়তো কোনো মারাত্মক অসুখে আক্রান্ত হয়েছেন।
২. যদি সাত দিনেও লক্ষণগুলোর কোনো উন্নতি না হয়, সেক্ষেত্রে অনতিবিলম্বে চিকিত্সার আশ্রয় নেয়া উচিত।
৩. যদি ব্যাকটেরিয়াবাহিত সাইনাসের সংক্রমণের কোনো চিকিত্সা করা না হয়, সেক্ষেত্রে এটা হয়তো বছরের পর বছর ধরে আপনাকে ভোগাবে এবং এ সংক্রান্ত দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় আপনাকে আক্রান্ত করবে।
৪. নাক দিয়ে দীর্ঘস্থায়ীভাবে সংক্রামক শ্লেষ্মার নির্গমন ব্রঙ্কাইটিস, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, কিংবা অ্যাজমা ইত্যাদি রোগের কারণ হয়েও দাঁড়াতে পারে।
কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?
১. যেহেতু অ্যালার্জি, ঠাণ্ডা এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো সমস্যাগুলো থেকে সাইনোসাইটিসের অবতরণ ঘটে, তাই এটা গুরুত্বপূর্ণ যে, সাইনোসাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার আগেই এই সমস্যাগুলোর সমাধান করা।
২. আপনার যদি অ্যালার্জি থাকে সেক্ষেত্রে জেনে নিন কী থেকে আপনার অ্যালার্জি হয়। ফলে আপনি নিজের স্বাস্থ্যকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।
৩. ধূমায়িত এবং দূষিত পরিবেশ পরিত্যাগ করে চলুন। যদি আপনি ধূমপান করেন, তবে তা পরিত্যাগ করুন।
৪. ঘুমানোর সময় মাথা উঁচু রাখুন, যাতে সাইনাস নিজে থেকেই বেরিয়ে আসতে পারে।
৫. নাকে খুব বেশি জোরে যাতে আঘাত না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।