সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

শীতের রোগবালাই থেকে থাকুন সুরক্ষিত

শীতের রোগবালাই থেকে থাকুন সুরক্ষিতশীতের দাপটে কাঁপছে পুরো দেশ। এ সময়ে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষই কম-বেশি ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হন। পর্যাপ্ত গরম কাপড়, সঠিক ডায়েট— কোনো কিছুই যেন ঠিকমতো কাজ করে না এ সময়ে। কিন্তু তাই বলে কি রোগে ভুগতে হবে? তা নিশ্চয়ই নয়। খাবার-দাবারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের প্রতি থাকতে হবে বাড়তি যত্ন ও সচেতনতা। এই শীতে অন্যদের চেয়ে যাদের কোল্ড অ্যালার্জি বা অ্যাজমার সমস্যা আছে, তাদের অবশ্যই নিজেদের জন্য বাড়তি যত্ন নিতে হবে।

চলুন তবে জেনে নিই সুস্থতার জন্য ছোটখাটো কিছু টিপস।

১. হাত ধোয়া : ফ্লু থেকে রক্ষা পেতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে হাত ধোয়া। ছোট-বড় যে কোনো কাজ করার সঙ্গে সঙ্গেই হ্যান্ডওয়াশ বা সাবান দিয়ে দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। সাবান না থাকলে শুধু পানি দিয়েই ধুয়ে নিন আপনার হাত। এছাড়া যাদের সর্দির সমস্যা আছে, তারা তো অবশ্যই কিছুক্ষণ পরপর হাত ধোবেন। আমাদের চারপাশে এমন অনেকেই আছেন যারা ছোটদের হাত ধুতে উত্সাহ দিলেও নিজেরা কিন্তু এ ব্যাপারে যথেষ্ট অসচেতন। আর যারা কর্মজীবী তাদের বেলায় তো হাত ধোয়া খুবই জরুরি, কেননা নিজের টেবিল-চেয়ারের পাশাপাশি তারা কম্পিউটার ব্যবহার করেন। তাই হাত ধোন আর সুস্থ থাকুন।

২. অ্যাজমা : ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের ভেতরেও নানা পরিবর্তন ঘটে। কমে যায় রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা। দেখা দেয় নানা অসুখ-বিসুখ। এ সময় অনেকেই অ্যাজমার সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন। বিষয়টি এমন যে, শীত শুরু তো অ্যাজমার কষ্ট শুরু, শীত শেষ সমস্যাও শেষ। তাই শীত শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই চিকিত্সকের পরামর্শ নিয়ে প্রতিষেধক ব্যবহার করা শুরু করে দিন। পাশাপাশি খাবার-দাবার ও ছোটখাটো ঘরোয়া পদ্ধতিতে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন, যেমন— সকালে কুসুম গরম পানিতে মধুর সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে খান। ঘুম থেকে উঠেই সঙ্গে সঙ্গে ঠাণ্ডা মেঝে মাড়াবেন না, এমনকি ঠাণ্ডা পানিও ধরা থেকে বিরত থাকুন। হাত-পায়ের মোজা, টুপি, পরিমিত গরম কাপড়— এসব ব্যবহার করুন, ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল খান, সেইসঙ্গে বেশি করে শীতের সবজি। দেখবেন, শীতকে ভয় নয়, উপভোগ করছেন।

৩. কাশি : এ সময়ে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কম থাকে বলে রোগজীবাণু দ্বারা আমরা খুব দ্রুত আক্রান্ত হই। তাই এ সময়ে অনেকেই কাশির মতো অস্বস্তির রোগে আক্রান্ত হই। এটি এমনই একটি সমস্যা, যা কোনো কোনো স্থানে আপনাকে যথেষ্ট বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি করে দেবে। তাই কাশি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওষুধ খান। অবশ্যই গরম পানি দিয়ে গারগল করুন। এতে গলায় আটকে থাকা জীবাণু দূর হবে এবং তা কাশি সারাতে সহায়ক হবে। মধু, আদা, লবঙ্গ— এসব খান। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই গলায় মাফলার পেঁচিয়ে ঘুমান।

. ত্বকের শুষ্কতা : আর্দ্রতার অভাবে এ সময়ে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। এতে ত্বকে চুলকানিসহ অস্বস্তিকর রোগবালাই দ্বারা আক্রান্ত হতে হয়। তাই ত্বক যাতে অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে না যায়, সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখুন। দিনে অন্তত দু’বার ভালো মানের বডি লোশন ব্যবহার করুন। যাদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক তারা বারবার ময়েশ্চরাইজারসমৃদ্ধ লোশন ব্যবহার করে ত্বককে সুস্থ রাখুন। আর গরম পানি দিয়ে গোসল করা থেকে বিরত থাকুন। তাতেও কাজ না হলে গোসলের আগে সারা শরীরে ভালো করে অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন, সেইসঙ্গে গোসলের পানিতেও।

৫. একজিমা : শীতে অনেকেরই একজিমার মতো রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। আসলে সারা বছরই এর জীবাণু শরীরে লুকানো থাকে। শীতে এর প্রকোপ বেড়ে যায়। তাই এ রোগ প্রতিরোধে চিকিত্সকের পরামর্শ নেয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

৬. টনসিল : এটি একটি কমন রোগ আমাদের। শীত কি গরম— এটি যে কোনো সময়ই আমাদের শরীরে দেখা দিতে পারে। তবে শীতে যেহেতু ঠাণ্ডার প্রকোপ বেশি থাকে, সেক্ষেত্রে ছোট-বড় অনেকেই এ রোগে বারবার আক্রান্ত হতে পারেন। বড়দের চেয়ে ছোটরা এতে বেশি আক্রান্ত হয়। তাই বেশি যত্ন নিতে হবে তাদের, বিশেষ করে পানি খাওয়ার ব্যাপারে। এ সময় ফ্রিজের পানি, আইসক্রিম ও ঠাণ্ডা জুসকে একদম ‘না’ বলতে হবে।

৭. সর্দিজ্বর : এ সময়ে আরেকটি কমন অসুখ হচ্ছে সর্দিজ্বর। এতে শরীরের তাপমাত্রা বেশি না বাড়লেও গা ম্যাজম্যাজ, নাক দিয়ে পানি পড়া, গায়ে ব্যথা— এসব সমস্যা থাকে তিন থেকে চার দিন। এ রোগে আক্রান্তরা ওষুধ খেতেও পারেন, আবার না খেলেও সমস্যা নেই। চার-পাঁচ দিনে আপনা-আপনিই এ রোগ সেরে যায়। তবে এর বেশি সময় পার হলে অবশ্যই চিকিত্সকের শরণাপন্ন হন।

Category: শীত