সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

শিশুর বেড়ে ওঠা : যখন সতর্কতার প্রয়োজন

2014-02-17 17.02.07শিশুর দেহের বিকাশই বড় নয়, মনের বিকাশও গুরুত্বপূর্ণ। দৈহিকভাবে বাড়তে থাকে শিশু, চোখের সামনে ক্রমে হয়ে ওঠে কিশোর। বিকাশবান এই ধারার সাথে সমন্বয় থাকতে হবে মনের। সুষ্ঠু ও সুস্থ সমৃদ্ধির জন্য মন ও দেহের সমন্বিত বিকাশের বিকল্প নেই।

চলমান সময়ের স্রোতে বেড়ে ওঠা শিশুর মৌলিক চাহিদা পূরণ হতে হবে। মৌলিক ইস্যুগুলো পূরণে বাধা এলে স্বাভাবিকের পথে পথে অস্বাভাবিকতার কোনো নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য শিশুর মনে আসন গেড়ে বসতে পারে। কালক্রমে এসব নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য স্বভাবকে ভঙ্গুর করে তুলতে পারে। এ ব্যাপারে সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে। কেবল মা-বাবার নয়, পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও শিক্ষকদের দায়িত্বও কম নয়।

নিচের সমস্যাগুলোর প্রতি দৃষ্টি রাখা উচিত, এজাতীয় পরিস্থিতিতে শিশুর মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন জরুরি। প্রয়োজনে গ্রহণ করতে হবে মানসিক সেবা।

সমস্যাগুলো হচ্ছে

  • স্কুলের বিভিন্ন পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ হতে থাকা।
  • কাসে দক্ষতা কমে যাওয়া, পড়া না পারা, প্রায়ই অনুপস্থিত থাকা, স্কুল ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা শুরু হওয়া কিংবা বিদ্যালয়ে না যাওয়ার জন্য নানান অজুহাত সৃষ্টি করা।
  • প্রায়ই উদ্বিগ্ন থাকা, টেনশনে আক্রান্ত হওয়া।
  • শরীর বা শরীরের অংশবিশেষ অস্থিরভাবে নাড়াচাড়া করা, অধীরভাবে চলাফেরা করা, স্নায়বিক অশান্তিতে ভোগা। প্রায় রাতে স্থায়ী দুঃস্বপ্ন দেখতে শুরু করা।
  • স্থায়ী অবাধ্যতা, বিনা উসকানিতে বৈরী আচরণ, হামলা বা আগ্রাসনের মনোভাব দেখানো। কলহমুখর বাধাবিপত্তি গ্রাহ্য করে না এমন আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা।
  • প্রায়ই মেজাজ দেখানো, অনিয়ন্ত্রিত রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে থাকা।
  • বিষণœতা, বিরক্তিপূর্ণ আচরণ কিংবা হঠাৎ হঠাৎ দুঃখ ভারাক্রান্ত হওয়া।

শরীরের অসুস্থতা নিয়ে আমরা যত বেশি উদ্বিগ্ন থাকি, মনের সমস্যার ব্যাপারে তত বেশি অসচেতন। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মনের দাবিকে সবাই লুকিয়ে রাখতে তৎপর। এটি আমাদের সামাজিক দৈন্যদশা। এ দৈন্য ও অজ্ঞতার ফাঁক দিয়ে একটি শিশু ক্রমে ডুবে যেতে থাকে। বাবা-মা মেনে নিতে পারেন না যে, সন্তানের মনের চিকিৎসা দরকার। বস্তুত পরামর্শের প্রয়োজন আছে। মনস্তাত্ত্বিক বিকাশের রুদ্ধ ধারার গোলকধাঁধা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শিশুকে দিকনির্দেশনা দিতে হবে।

বাবা-মাকে মনে রাখতে হবে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা প্রশংসনীয়। দেহের অসুস্থতার মতো মনের অসুস্থতারও বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা রয়েছে। এখানে অপমানের কিছু নেই, লজ্জিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।একজন সুশিক্ষিত গুণী মা-ই মনের বিকাশের বিষয়গুলো জেনে নিতে পারেন।

সন্তানের ধাবমান বিকাশের কোনো বাধা এলে কৌশলে তা দূর করতে পারেন। নিজের দ্বারা সম্ভব না হলে মানসিক সেবা গ্রহণে কার্পণ্য করা মানেই সন্তানের ধ্বংসের বীজটি রোপণ করা।এটি একটি কঠিন সত্য। এই সত্যকে বিজ্ঞানের আলোকেই মূল্যায়ন করতে হবে সবাইকে। সামাজিক বাঁকা দৃষ্টির দেয়াল ভেঙে বেরিয়ে আসা জরুরি।

Category: শিশু