সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

শিশুর জ্বর ও খিঁচুনি রোগ

শিশুর জ্বর কোনো কোনো শিশুর বিভিন্ন সময় জ্বর তরতর করে বেড়ে যায়। তারপরই শুরু হয় শরীরজুড়ে খিঁচুনি। মোটামুটি ৩৯ সে: বা ১০২ সে: ফারেনহাইটে জ্বর উঠে গেলে এ অবস্থা হয়। চোখ উল্টে যায় এবং দাঁতে দাঁত লেগে যেতে পারে। এ ব্যাপারটি কযেক সেকেন্ড থেকে ৫-১০ মিনিট পর্যন্ত চলতে পারে। শিশুটি এরপর ঘুমিয়ে পড়ে। আমাদের দেশের প্রায ৩-৪ শতাংশ শিশুর এ সমস্যা হয়। সাধারণত এ রকম খিঁচুনি ৯ মাস বয়সের আগে বা চার বছরের পর হয় না।

শিশুর বয়স বাড়ার সাথে সাথে এ সমস্যাটি আপনাআপনি সেরে যেতে পারে। সাধারণত যেসব শিশুর বাবা বা বড় ভাই-বোনদের এরূপ জ্বর খিঁচুনি ছিল, তারাই এ সমস্যায় ভোগে। এ সমস্যা থেকে মৃগী রোগ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। অহেতুক আতঙ্কিত হবেন না। তবে কোনো সময় যদি খিঁচুনি ১৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে থাকে তবে ভাবতে হবে যে, শিশুটির অন্য কোনো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা আছে। যেমনÑ মেনিনজাইটিস। অনেক সময় খিঁচুনি অবস্থায় শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি তাৎক্ষণিক চিকিৎসা করেন এবং শিশুটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা

সব ক্ষেত্রে ইইজি করার প্রয়োজন নেই। তবে বিশেষ কিছু প্রয়োজনে ইইজি করানো হয়। খিঁচুনি ১৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে তখন ইইজি করা উচিত।

জ্বর-খিঁচুনি থেকে তখনই মৃগী রোগ হতে পারে। ১. যদি পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের মৃগী রোগ থেকে থাকে। ২. ৯ মাস বয়সের আগে থেকে জ্বর-খিঁচুনি (তড়কা) শুরু হয়। ৩. খিঁচুনি ১৫-২০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়। ৪. শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি খুব কম হয়। ৫. স্নায়ুর মানসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েছে।

চিকিৎসা

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিশুর জ্বর নামিয়ে আনতে হবে। আজকাল অনেকেই প্যারাসিটামল সিরাপের ব্যবহার জানেন। আর এ জন্য সারা গায়ে ভেজা গামছা বা তোয়ালে স্পঞ্জিং করে দিতে হবে চার বা পাঁচবার। শিশুকে যে ঘরে রাখা হবে সে ঘরে যেন স্বাভাবিক বায়ু চলাচল করে। তাকে যথাসম্ভব হালকা কাপড়চোপড় পরিয়ে রাখতে হবে। অতঃপর শিশুটির জ্বরের কারণ নির্ণয় ও তার চিকিৎসা চলবে।

তবে মনে রাখতে হবে, যে শিশুর একবার জ্বর-খিঁচুনি হয়েছে তার আবার জ্বর হলে তখনো খিঁচুনি হতে পারে। তাই বাবা-মায়ের উচিত প্যারাসিটামল বা জ্বর কমানোর ওষুধ যেন হাতের কাছেই থাকে। অনেক সময় শিশুকে তিন-চার দিন হালকা ঘুমের ওষুধ দেয়া হয়।

জ্বর-খিঁচুনিতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বাবা-মা যদি শিশুর প্রাথমিক শুশ্রƒষার ব্যাপারটি রপ্ত করতে পারেন তবে তেমন কোনো সমস্যাই নেই।