সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

শরীরচর্চার বিস্ময়কর উপকারিতা

exercise1শরীরচর্চা বা ব্যায়াম এমন একটা বিষয় যা অনেক রোগের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে থাকে। শরীরচর্চার মাধ্যমে নানা রোগ যেমন: উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস থেকে শুরু করে সর্দিসহ নানা ধরনের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় আবার এর আছে চিত্তাকর্ষক কিছু উপকারিতা। আপনি কি জানেন, এটি আপনার ইচ্ছা শক্তি ও যৌনক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ধরনের উপকার করে থাকে।

নিচে শরীরচর্চা বা ব্যায়ামের সাতটি বিস্ময়কর উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো—

১. ইচ্ছা শক্তির উন্নয়ন ঘটে
ব্রিটিশ জার্নাল অব মেডিসিনে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি রিপোর্টের মাধ্যমে জানা যায় যে-একজন মানুষের যতটা আত্মনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা দরকার তা দ্রুত এবং উচ্চ মাত্রার কার্যসম্পাদনের মাধ্যমে সরবরাহ হয়। প্রায় চব্বিশটি প্রাসঙ্গিক গবেষণাপত্র পর্যালোচনা করে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে-শরীরচর্চার কারণে মস্তিষ্কের প্রি-ফ্রন্টাল এলাকায় (Pre-frontal area) রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে সম্ভবত মানুষের নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার দক্ষতা বৃদ্ধি পায় । এর ফলে তার ইচ্ছা শক্তিও বেড়ে যায়।

২. কর্মক্ষেত্রে সবাইকে প্রভাবিত করা যায়
শরীরচর্চার মাধ্যমে মানুষের কর্ম ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায় । আমেরিকান কলেজ অব স্পোর্টস মেডিসিন এর সামপ্রতিককালের একটি সমীক্ষা অনুসারে জানা যায়, যেসব কর্মচারীর ওপর পর্যবেক্ষণ চালানো হয় সেসব কর্মচারীর ৬৫% যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাদের কর্ম ক্ষমতা, সময় মেনে চলার দক্ষতা এবং উন্নত মানসিক অবস্থা অন্যদের চেয়ে বেশি। বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে ব্যায়ামের ফলে মস্তিষ্কে যে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয় তা মূলত: দেহের কোষীয় পর্যায়ে বেশ উপকারিতা সাধন করে থাকে। এর ফলে নতুন কোষের বিকাশ ঘটে যার কারণে কোষে ATP তৈরী হয় । এই ATP কেই দেহ শক্তি হিসাবে ব্যাবহার করে। আর এটাই দেহ ও মনকে অধিক কর্ম ক্ষমতার যোগান দেয়।

৩. জীবনের জটিলতা দূরীভূত হয়ে সুখী জীবন যাপনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়
আপনি কি যে কোন কাজের পর সুখের অনুভূতি জানেন? জার্নাল এপিডেমোলোজি-তে প্রকাশিত ২০১২ সালের একটি সমীক্ষায় জানা যায়, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম ও বছরে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বেশী মাত্রায় সুখের সাথে বসবাস করা একে আপরের সাথে ঘনিষ্টভাবে সংযুক্ত। গবেষকরা দীর্ঘমেয়াদী পনের বছর ধরে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ করে দেখেন যে, একজনের অলসভাবে জীবন যাপন করা মানুষের অতিক্রান্ত সময় ও দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাবে— যদি সে চাঞ্চল্যের সাথে তথা শরীরচর্চার মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করে।

৪. দেহের ত্বক সজীবতা ও স্থায়িত্ব পায়
কাজ তথা শরীরচর্চার শেষে সচেতন মানুষ একটা সতেজ ও সুন্দর ত্বক পেতে পারে। ব্যায়ামের ফলে মানুষের ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী উপকারিতা আসতে পারে। ব্যায়ামের পরে শরীর থেকে যে ঘাম যায় তা ত্বকের ছিদ্র পথ পরিষ্কার করে ফেলে। শরীরচর্চার ফলে শরীরে ‘টেসটোসটেরন’ হরমোনের পরিমাণ কমে যায় । অনেক গবেষণায় জানা যায়, ব্যায়ামের ফলে ব্রণ হওয়ার মাত্রাও কমে যায়।

৫. সুখী দাম্পত্য জীবন যাপন সম্ভব হয়
হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ জানায় যে, দিনে মাত্র ২০ মিনিটের নিয়মিত ব্যায়ামের ফলে মহিলাদের যৌন প্রতিক্রিয়ায় উন্নতি সাধিত হয়। দৈহিক কার্যকলাপ আসলে মানুষের ধমনীর নমনীয়তা বৃদ্ধি করে; যার ফলে দেহের সর্বত্র ভালভাবে রক্ত প্রবাহিত হয় এবং কর্মক্ষম থকার ক্ষমতাকে আরও বৃদ্ধি করতে পারে। অধিকন্তু ব্যায়ামের জন্য হরমোন ও মস্তিষ্কের কিছু রাসায়নিক উপাদান যেমন: অ্যাড্রেনালিন ও সেরোটোনিন উজ্জীবিত হয়। এগুলো মানুষের কর্মক্ষম থাকার প্রবণতাকে আরও বেশী শক্তিশালী করে তোলে।

৬. মস্তিষ্কের কোষের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়
কানাডিয়ান কার্ডিওভাসকুলার কংগ্রেস এ উপস্থাপিত একটি সামপ্রতিক গবেষণায় জানা যায়, কিছু সংখ্যক প্রাপ্তবয়স্ক যুবককে চার মাস ধরে স্বাভাবিক কাজের বিরতি দিয়ে আরো বেশি পরিশ্রমের কিছু কাজ করার জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল। প্রশিক্ষণ শেষে দেখা যায়, তাদের কিছু সহজাত কার্যক্রম যেমন দ্রুত চিন্তা করা ও সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা তাত্পর্যপূর্ণভাবে উন্নত হয়েছে। অন্যত্র এ বিষয় সংক্রান্ত আর একটি গবেষণা সম্পাদিত হয়। The Journal of Strength and conditioning Research থেকে ১০০০ কলেজ ছাত্রের ওপর নজর রাখা হয় । এক্ষেত্রে শরীরচর্চা ও সহজাত কার্যক্রম গুলোর মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়। যারা এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত: ৩০ মিনিট করে তিন থেকে চার বার শরীরচর্চা করে তারা ‘এ’ গ্রেড পায়। আর যারা সপ্তাহে তিনবারের চেয়ে কম সংখ্যক বার ব্যায়াম করে তারা এর চেয়ে নিম্নতর গ্রেড পায়।

৭. ক্যান্সারের ঝুকি এড়ানো যায়
অনেক গবেষণার বদৌলতে আমরা জানতে পেরেছি, কোলন, ফুসফুস ও স্তন ক্যান্সারের মতো জীবনঘাতী রোগের ঝুঁকি নিয়মিত শারীরিক ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। ২০১২ সালে আমেরিকার চ্যাপেল হিল এর উত্তর ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০০০ মহিলার ওপর একটি সমীক্ষা চালিয়ে গবেষকরা দেখেন যে, যেসব মহিলারা সপ্তাহে অন্তত দশ ঘণ্টা ব্যায়াম করেন তাদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি ৩০% কমে গেছে।

এমনকি নিম্ন পর্যায়ের শারীরিক ক্রিয়াকলাপ যেমন: হাঁটা, সিড়ি আরোহণের কারণেও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটা কমানো যায়। তবে যেসব মহিলারা প্রতি সপ্তাহে ১০ থেকে ১৯ ঘন্টা কতৃৃত্বপূর্ণভাবে শরীরচর্চা করে তাদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেশী মাত্রায় কমে যায়। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘ক্যান্সার’ নামক অনলাইন লাইব্রেরিতে প্রকাশিত ককেশীয় বংশদ্ভুত পুরুষদের ওপর চালানো একটা গবেষণায় দেখা যায় যে, যারা পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যায়াম করে না তাদের ক্ষেত্রে প্রস্টেট ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা বেশী থাকে ।