সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

লালাগ্রন্থির সমস্যা মামস

প্রত্যেক মানুষের মুখের দুই পাশে ও কানের নিচে দু’টি প্যারোটিড গ্রন্থি রয়েছে। যেসব কারণে প্যারোটিড গ্রন্থি ব্যথাসহ ফুলে উঠে তন্মধ্যে সর্বাপেক্ষা কমন কারণ হলো মামস। মামস মূলত প্যারামিক্রোডাইরাসের সংক্রমণে হয়ে থাকে।  শিশুরাই আক্রান্ত হয় সর্বাপেক্ষা বেশি। এটি অত্যন্ত সংক্রামক ব্যাধি এবং ছড়ায় মূলত আক্রান্ত রোগীর লালার মাধ্যমে।

উপসর্গ

মাথাব্যথা, গা ম্যাজম্যাজ করা, জ্বর এবং ফুলে ওঠা প্যারোটিড গ্রন্থিতে প্রচণ্ড ব্যথা।  মুখের দুই পাশে ব্যথা এত বেশি হতে পারে যে, রোগীর খাবার খেতে বা পানি পান করতে সমস্যা হয়। এসব উপসর্গ সাধারণত সপ্তাহখানেক পরেই মিলিয়ে যায়।

জটিলতা

সর্বদা জটিলতা দেখা না দিলেও শিশুদের ক্ষেত্রে বধির হয়ে যাওয়া বা মস্তিষ্কের আবরণী পর্দায় সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। পূর্ণবয়স্কদের ক্ষেত্রে গর্ভাশয় বা শুক্রাশয়ে সমস্যা, অগ্নাশয়ে সংক্রমণ হতে পারে।

শনাক্তকরণ

সাধারণত রোগের ইতিহাস এবং শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে মামস চিহ্নিত হয়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। আগেই বলা হয়েছে, মামস অত্যন্ত সংক্রামক। যদি রোগীর এ রকম ইতিহাস থাকে যে, সে গত কয়েক দিনের মধ্যে আরেকজন ব্যথাযুক্ত প্যারোটিড গ্রন্থি ফোলা কারো সাথে মিশেছে তবে ধরে নেয়া যায়, সে মামসে আক্রান্ত। তদুপরি, দাঁত বা মাঢ়ির সংক্রমণ বা ব্যাকটেরিয়াজনিত লালাগ্রন্থির প্রদাহের সাথে মামসকে গুলিয়ে ফেলা হতে পারে। রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার স্বার্থে ক্ষেত্রবিশেষে সেরোলজিক্যাল পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

চিকিৎসা

সাধারণত উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হয়। পর্যাপ্ত পানি বা তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। প্যারাসিটামল ট্যাবলেট একটা করে দৈনিক তিনবার খাওয়া যেতে পারে। মুখগহ্বরকে রোগ-জীবাণু থেকে ন্যূনতম সুরক্ষার জন্য ‘বিটাডিন’ গার্গল ও মাউথওয়াশ দৈনিক কমপক্ষে তিনবার ব্যবহার করা উচিত।

Category: মুখ