সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

রোগ প্রতিরোধে রঙিন ফল ও সবজি

​ চোখের রোগ

রাতকানা সবারই জানা একটি রোগ, এ ছাড়াও বিটটস স্পট, কেরাটোম্যালাশিয়া কর্নিয়াল আলসার ছবি পড়া ইত্যাদি চোখের রোগ ঠেকাতে রঙিন শাকসবজি ও ফলমূল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

চোখ ভালো রাখার জন্য ভীষণ জরুরি উপাদান ভিটামিন ‘এ’। ভিটামিন ‘এ’ পাওয়া যায় মাছ, গোশত ও ডিম থেকে বিশেষ করে ছোট মাছ যেমন মলা ঢেলা ইত্যাদি যে ভিটামিন ‘এ’-এর বিরাট উৎস সেটা  বেশির ভাগ লোকই জানেন। কিন্তু শুধু মাছ গোশতেই ভিটামিন এ থাকে বা ভিটামিন এ পেতে হলে মাছ গোশত ছাড়া উপায় নেই এটা ঠিক নয়। বরং রঙিন ফল ও সবজিতে পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘এ’ থাকে আর সেগুলোর আরো অনেক গুণও রয়েছে। চলুন একটু দেখে নিই কোন কোন সবজি বা ফল থেকে আমরা প্রয়োজনীয় ভিটামিনগুলো পেতে পারি। ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে কম আলোতে দেখতে সাহায্যকারী ‘রড’ নামক কোষগুলোর কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। ফলে রাতে বা কম আলোতে দেখার ক্ষমতা লোপ পেতে পারে। একেই বলে Night Blindness বা রাত কানা। এ ছাড়াও ভিটামিনের অভাবে Bitots spot (চোখের বাইরের সাদা অংশে খসখসেভাব দেখা দেয়া ও ছোট ছোট দাগ পড়া, পরে দৃষ্টিশক্তি লোপ পাওয়াসহ সম্পূর্ণ চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়া) Keratomalaciac (কর্নিয়া ক্ষয়ে ক্ষয়ে গিয়ে দৃষ্টি ব্যাহত হওয়া) Corneal ulcer (চোখের মণিতে প্রদাহপূর্ণ ঘা দেখা দেয়া) ইত্যাদি হতে পারে।

এই রোগগুলো সাধারণত শিশু ও অল্প বয়স্কদের দেখা যায় বা সরাসরি ভিটামিন অভাবের কারণে হয় এর বাইরে চোখের ছানি পড়া বা Cataract বিলম্বিত করতে ভিটামিনের প্রভাব রয়েছে। পাকা আম, পেঁপে, আপেল, কমলা, সয়াবিন, বরবটি, শিম, কুমড়া (পাকা) পালংশাক নটেশাক থেকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ পাওয়া যায়।

অল্প সিদ্ধ বা কাঁচা ফলের সালাদ, ফলও ফলের রস থেকে ভিটামিন ‘এ’ সহজে পাওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে শাকসবজি অল্প তেলে রান্না করে বা সালাদে সালাদ অয়েল বা সামান্য অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিলে ভিটামিন ‘এ’ হজম হবে। কারণ ভিটামিন ‘এ’ তেলে দ্রবণীয়।

ক্যান্সার

বিপাকীয় ক্রিয়ার ফলে এবং পরিবেশগত কারণে আমাদের শরীরে ফ্রি র‌্যাডিকেলস তৈরি হয়। ফ্রি র‌্যাডিকেলসের প্রভাবে শরীরে ক্যান্সারসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। এই ফ্রি র‌্যাডিকেলস ঠেকাতে চাই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। ফ্রি র‌্যাডিকেলসের সাথে অনেকেই হয়তো পরিচিত। তারপরও বাকিদের জন্য বলছি, Ñ ফ্রি অর্থ স্বাধীন আর র‌্যাডিকেলস হলো পরমাণু। এরা অনবরত ঘুরতে থাকে এবং কোষকে আক্রমণ করে নিজেদের ঘোরাঘুরি বন্ধ করে জুটি বাঁধার চেষ্টায়। প্রবল মানসিক চাপ, কায়িক শ্রমের অভাব দূষিত পরিবেশ, খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়ম ইত্যাদি এই ফ্রি র‌্যাডিকেলস তৈরির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এ থেকে উৎপত্তি ঘটে ক্যান্সারসহ, হৃদযন্ত্রের রোগ, উচ্চ রক্তচাপ স্নায়ুর রোগ ইত্যাদি। একমাত্র অ্যান্টি অক্সিজেন্টসই পারে এই ফ্রি র‌্যাডিকেলস ঠেকাতে। তাহলে চলুন একটু জেনে নিই কোথায় পাব এই অ্যান্টি অক্সিজেন্টস। অক্সিজেন্টসের মধ্যে রয়েছেÑ

  • বিটা ক্যারোটিন পাওয়া যাবে পালংশাকে, পুঁইশাক, লাউশাক, কুমড়োশাক, বিট, মটরশুটি, মেথিশাক, গাজর, বরটি, সয়াবিন ইত্যাদি।
  • লাইকোপিন আছে নটেশাক, টমেটো, তরমুজে ইত্যাদি।
  • ক্রিপটোজ্যানথিন পাওয়া যায় পেঁপে, কুমড়ো, কমলা আর আমে।
  • ভিটামিন সি আছে আনারস, টমেটো, লেবু, আমলকী, পেয়ারা, আমড়া, জলপাই ইত্যাদি টক ফলে।
  • ভিটামিন ই পাওয়া যায় বাদাম, মুগডাল, ছোলা, সয়াবিন ইত্যাদি থেকে।
  • গর্ভাবস্থায় ভিটামিন ‘এ’ আছে এমন সব টাটকা সবজি ও ফল অনাগত শিশুর দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখবে। এ ছাড়া মওসুমি ফল ও ফলের রস অবশ্যই মা ও শিশুর জন্য অত্যাবশ্যকীয়।

আসলে স্বাস্থ্যরক্ষা ও সৌন্দর্য বর্ধনে ফল ও সবজির অবদান অপরিসীম আর রঙিন ফলমূল জীবনকে করে আরো রঙিন। তাই চেষ্টা করুন আপনার চার পাশের সহজলভ্য রঙিন ফলমূল ও শাকসবজি সম্পর্কে জানতে এবং আপনার রোজকার খাদ্য তালিকায় সেগুলো যোগ করতে।