সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

রাগ করা ভালো নয়

মনের প্রতিক্রিয়ার প্রকাশ ঘটে রাগের মাধ্যমে। প্রতিক্রিয়াশীল এ মনের প্রতিক্রিয়াটি হয় নেগেটিভ। পরিচিত কাউকে রাগের কারণ বর্ণনা করলে রাগমোচন হয়ে মনটা শান্ত হয়। আবার প্রতিশোধ গ্রহণ করেও কারো কারো রাগমোচন ঘটে থাকে। আবার কেউ বা রাগ করে গোমড়া ভাব, প্যান প্যানানি বা ঝগড়া করে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে।

রাগের প্রতিক্রিয়ার প্রকাশের তীব্র লক্ষণ হলো- মুখের চোয়ালের পেশি শক্ত হওয়া, চোখ লাল হওয়া, মুখ ফিরিয়ে নেয়া, জোরে জোরে চিৎকার করা, গালিগালাজ করা, ঘরের জিনিস ভাঙচুর করা, বইপত্র ছুড়ে মারা, শারীরিক আঘাত করা, নিজের প্রতি আঘাত করা, কাউকে অপমান করা, কথা বলা বন্ধ করা, আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করা, আদেশ অমান্য করা, নিয়মশৃঙ্খলা ভঙ্গ করা, অন্যের ক্ষতি করা, শক্তি প্রদর্শন করা, কাজের প্রতি মনোযোগ না দেয়া, কারো বিরুদ্ধে উসকানি দেয়া, গোপন কথা প্রকাশ করে দেয়া, সম্পর্ক ছিন্ন করা, কথায় কথায় বিরোধিতা করা, ঘরের বাজার না করা, ঘরের প্রতি বিরক্তি, সন্তানের প্রতি বিরক্তি, সন্তানের খোঁজখবর না রাখা, স্ত্রীকে তালাক দেয়া, আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর না নেয়া, স্বার্থের কারণে আত্মীয়তার সম্পর্ক ত্যাগ করা, স্বার্থ উদ্ধারে বিভোর থাকা, ব্যক্তিত্বের প্রতিযোগিতায় অন্যকে ছোট করা, নিজেকে বেশি বেশি প্রকাশ করা, আভিজাত্যের প্রচার করা, নিজেকে বড় মনে করা, দাম্ভিকতা, গর্ব করা, অন্যের দোষ প্রচার করা, কূটনামি করা, ড্রাগ আসক্ত হওয়া, অ্যালকোহল পান করা, ধূমপান করা, ঘুম না হওয়া, খাবার না খাওয়া, গোসল না করা, জিনিসপত্র ঘুছিয়ে না রাখা, সময়মতো নিজের কাজ না করা, কাস ফাঁকি দেয়া, পরীক্ষা না দেয়া, স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল না রাখা, ধর্মের প্রতি উদাসীনতা প্রদর্শন করা, হঠাৎ নীরব হয়ে যাওয়া, কান্না করা, কাউকে পছন্দ না করা। ইত্যাদি আরো কত রকম যে রাগের প্রকাশ ঘটে তা বলে শেষ করা যাবে না।

রাগের সময় মানুষ অত্যন্ত হিংস্র ও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। জোরে চিৎকার করে। এ সময় তার স্বাভাবিক জ্ঞান লোপ পায়। লজ্জা শরমের বালাই থাকে না। হতাশা, উদ্বেগ, নিরাপত্তাহীনতা ইত্যাদি তাকে ঘিরে রাখে। রাগের এসব প্রকাশ ব্যক্তির অনুভূতিকে প্রকাশের লক্ষণ। আবেগের উত্তেজনার প্রকাশ ঘটে রাগের মাধ্যমে। আবেগের উত্তেজনার প্রকাশ অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী দু’ভাবেই হয়ে থাকে। রাগের প্রকাশ বহির্মুখী না হয়ে অন্তর্মুখী হলে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে।

ভেতরে ভেতরে রাগ পুষে না রেখে তার প্রকাশ ঘটানো ভালো। রাগ দমনে মানুষ মনমরা হয়ে যায়। মনের ভেতর রাগের নানা প্রতিক্রিয়া ঘটে থাকে। রাগ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তিটি মনের অস্বস্তিতিতে ভোগেন। রাগের অন্তর্মুখী অনুভূতি জীবনকে বিষময় করে তোলে। হতাশা-বিষাদ, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তার মনকে সংক্রমিত করে ফেলে। রাগের কারণে পাকস্থলীর আলসার, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের মতো শারীরিক অসুবিধা দেখা দিতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের মতো ঘটনাও ঘটে থাকে রাগের কারণে। রাগের সময় শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। স্নায়ুতন্ত্র উত্তেজিত হয়ে পড়ে। ঘুম নষ্ট হয়। ুধামন্দা দেখা দেয়।

লিভারের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে। কিডনি ক্রিয়ায় প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অন্য দিকে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। রোগ জীবাণু সহজেই শরীরকে আক্রমণ করে। ক্রিয়াশীল মানুষ নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাগের বিস্ফোরণে অনেকে মারা যায়। রাগ হলে রাগ দমন না করে প্রকাশ করা ভালো। তবে রাগের প্রকাশ যদি ইতিবাচক হয় তাহলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। ধরুন রাগ করে কেউ পড়াশোনা বেশি করলে তার ফলাফল ভালো হবে। আমরা আগেই বলেছি, রাগের সময় মানুষ তার স্বাভাবিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। কারণ এটাই রাগের চরিত্র।

আবার রাগকে যদি আমরা শয়তানের উসকানি মনে করি তাহলে রাসূল সা:-এর কথা স্মরণ করব। রাসূল সা: বলেছেন, ‘রাগকে নিয়ন্ত্রণ কর, তুমি বেহেশত পাবে। রাগ হলে দাঁড়ানো থাকলে বসে যাবে। তাতেও রাগ নিয়ন্ত্রণ না হলে শুয়ে পড়বে।’ রাসূল সা: আরো বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি শক্তিশালী যে তার রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। আর রাগ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শয়তানকে পরাজিত করা যায়।’ তাই শয়তানকে বিতাড়িত করার জন্য রাগের মুহূর্তে উচ্চারণ করুন- ‘আউজু বিল্লাহি মিন্নাশ শাইতোয়ানির রাজিম।’ রাগ নিয়ন্ত্রণে রাসূল সা:-এর পদ্ধতি অনুসরণ করলে মন সুস্থ সবল থাকবে ইনশাল্লাহ।