সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

যেসব উপসর্গ অবহেলার নয়

আমরা বেশিরভাগই স্বাস্থ্য সচেতন নই। শেষ পর্যায়ে ছাড়া ডাক্তারের কাছে কেউ সহজে যেতে চাই না। কিন্তু অনেক উপসর্গ আছে যেগুলো অবহেলার নয়। এসব উপসর্গের যে কোনোটি দেখা দিলে অবিলম্বে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। তা না হলে মারাত্মক বিপদে পড়তে হতে পারে।

নিম্নে এমন কয়েকটি উপসর্গ নিয়ে আলোচনা করা হলো—

মলত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন
প্রত্যেকেরই মলত্যাগের নির্দিষ্ট অভ্যাস থাকে। যদি এর পরিবর্তন ঘটে, অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত।
যদি : ক. পায়খানা কালো আলকাতরার মতো হয়।
খ. দীর্ঘদিন ডায়রিয়া বা কোষ্টকাঠিন্য থাকে এবং
গ. মলত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন হলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত।

ওজন কমে যাওয়া
অনেকেরই ওজন কমানো নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। কিন্তু ব্যাখ্যাতীত কোনো কারণ ছাড়া ওজন কমে যাওয়া কিন্তু ভালো লক্ষণ নয়।

এ ধরনের ওজন কমে যাওয়ার সঙ্গে নিম্নলিখিত অসুখগুলো সম্পর্কিত :
ক. ক্যান্সার।
খ. যক্ষ্মা।
গ. লিভারের অসুখ।
ঘ. হাইপার থাইরয়ডিজম।
ঙ. ডিপ্রেশন বা হতাশা।
চ. ডায়াবেটিস।
ছ. ম্যালঅ্যাবসরপশন সিনড্রোম।

দীর্ঘদিনের জ্বর
জ্বর হয়নি এমন লোক একটিও নেই। জ্বর কিন্তু উপকারী। এর ফলে রোগ জীবাণু ধ্বংস হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনের জ্বর চিন্তার কারণ। দীর্ঘদিন জ্বর থাকলে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত, কারণ এর পেছনে জটিল কোনো রোগ থাকতে পারে।

যেমন—
ক. ক্যান্সার।
খ. যক্ষ্মা।
গ. লিম্ফোমা ইত্যাদি।
সুতরাং দীর্ঘদিন জ্বর থাকলে চিকিত্সা ভালোভাবে করা উচিত।

শ্বাস-প্রশ্বাসের পরিবর্তন
মানুষ স্বাভাবিকভাবে ১২ থেকে ১৮ বার শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে থাকে। শিশুদের অবশ্য আরও বেশি হয়। কিন্তু অস্বাভাবিক কমে বা বেড়ে গেলে চিন্তার বিষয়। কারণ এর সঙ্গে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন অসুখ যেমন—
ক. নিউমোনিয়া।
খ. ব্রঙ্কাইটিস।
গ. ব্রঙ্কিয়াকটেসিস।
ঘ. ফুসফুসের ক্যান্সার।
ঙ. অ্যাজমা।
চ. এমফাইসিমাসহ আরও বেশকিছু অসুখ সম্পর্কিত।

মানসিক অবস্থার পরিবর্তন
বয়স বাড়তে থাকলে মানসিক অবস্থারও পরিবর্তন হয়। কিন্তু হঠাত্ মানসিক অবস্থার পরিবর্তন বেশকিছু অসুখের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে রয়েছে—
ক. পানিশূনত্য।
খ. রক্তে গ্লুকোজ কমে যাওয়া।
গ. স্ট্রোক।
ঘ. মেনিনজাইটিস, নিকেফালাইটিস ইত্যাদি অসুখ-বিসুখ।

পেট ভারী লাগা বা সামান্য খাবারেই অস্বস্তি
অনেকের একটু খেলেই পেট ভরে যায় আবার অনেকেরই ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে। এসবের পেছনে কিন্তু জটিল কিছু রোগ থাকতেই পারে। ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম এবং প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারের মতো অসুখের প্রাথমিক উপসর্গ এসব হতে পারে।

চোখে হঠাত্ আলোর ঝলকানি বা উজ্জ্বল আলো দেখা
মাইগ্রেনে এমন হয়। হঠাত্ রেটিনার সংযোগ বিছিন্ন হলেও এমন হয়। দ্রুত ডাক্তারের কাছে না গেলে চোখ হারাতে হতে পারে।

এসব তথ্য সবার জানা উচিত। কারণ ‘সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়।’ এখন তো হাতের নাগালেই এমবিবিএস ডাক্তার পাওয়া যায়। দ্রুত সচেতনতা অনেক অর্থখরচ ও মানসিক চাপ কমাতে পারে।

লেখক : ডা. মো. ফজলুল কবীর পাভেল,  অ্যাসিস্টেন্ট সার্জন, উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স, বাঘা, রাজশাহী