সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

মেরুদণ্ডের অন্যতম সমস্যা : ডিস্ক প্রল্যাপ্স

গবেষণায় দেখা গেছে, মেরুদণ্ডের যে ৯০ শতাংশ মেকানিক্যাল সমস্যা হচ্ছে, তার মধ্যে ডিস্ক প্রল্যাপ্সজনিত সমস্যাই বেশি। বেশিরভাগ ডিস্ক প্রল্যাপ্স ঘাড়ের এবং কোমরের অংশে হয়ে থাকে। সারভাইকেল ৪/৫ ও ৫/৬ এবং লাম্বার ৪/৫ ও লাম্বার ৫/সেক্রাল ১-এর মধ্যে ডিস্ক প্রল্যাপ্স বেশি হয়ে থাকে। ডিস্ক হচ্ছে মেরুদণ্ডের দুটি কশেরুকার মধ্যর্বতী এক বিশেষ পদার্থ, যা মেরুদণ্ডের এক হাড়কে অপর হাড় থেকে আলাদা করে রাখে এবং নড়াচড়া করতে সাহায্য করে থাকে।

ডিস্কের ভেতরে থাকে নিউক্লিয়াস পালপোসাস, যা জেলির মতো নরম এবং বাইরের অংশে থাকে অ্যানুলাস ফাইব্রোসাস। বিভিন্ন কারণে জেলির মতো অংশটি যখন বের হয়ে স্নায়ু বা স্পাইনাল কর্ডে চাপ দেয়, তাকেই ডাক্তারি ভাষায় ডিস্ক প্রল্যাপ্স বলা হয়।

লক্ষণ
সারভাইকেল ডিস্ক প্রল্যাপ্স হলে ঘাড়ে ব্যথা হবে, ঘাড় নড়াচড়া করতে ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। ঘাড় থেকে ব্যথা মাথার দিকে বা শিরদাঁড়া বেয়ে নিচ দিকে যেতে পারে। ব্যথার সঙ্গে ঘাড়ে বা হাতে জ্বালাপোড়া, শিরশির, ঝিনঝিন বা অবশ ভাব হতে পারে। অনেক সময় ব্যথা ঘাড় থেকে এক হাতে বা দুই হাতে ওঠানামা করতে পারে। হাত বা আঙুল অবশ বা প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হতে পারে। অস্থিরতা ভাব, অনিদ্রা হতাশাগ্রস্ত ভাব দেখা দিতে পারে। অনেক সময় সমস্যা দীর্ঘায়িত হলে চলাফেরা বা দৈনন্দিন কাজে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

লাম্বার ডিস্ক প্রল্যাপ্স হলে কোমর ব্যথা হবে, একটু নড়াচড়ায় ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। এক জায়গায় বসে থাকলে বা হাঁটাহাঁটি করলে কোমর ব্যথা বেড়ে যায়। হাঁচি-কাশি দিলে কোমরে ব্যথা হতে পারে। কোমর থেকে এক পা বা দু’পায়ের দিকে ব্যথা ওঠানামা করবে। পা প্যারালাইসিস হয়ে যেতে পারে। পায়ের দিকে টানটান ভাব, জ্বালাপোড়া, ঝিনঝিন, শিরশির বা কামড়াচ্ছে এমন মনে হতে পারে। এভাবে চলতে থাকলে মেরুদণ্ড বাঁকা হয়ে গিয়ে কুঁজো হয়ে যায়। অনেক সময় কোমর ব্যথার সঙ্গে প্রস্রাব বা পায়খানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এভাবে চলতে থাকলে রোগী একসময় পঙ্গুত্ব বরণ করে।

চিকিত্সা
যাদের এ-জাতীয় সমস্যা দেখা দেয়, তাদের যত দু্রত সম্ভব বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের শরণাপন্ন হয়ে রোগ নির্ণয় করতে হবে। এমআরআই করে সহজেই ডিস্ক প্রল্যাপ্স শনাক্ত করা যায়। ডিস্ক প্রল্যাপ্স হলে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। ম্যানুয়াল থেরাপির মাধ্যমে ডিস্ক প্রল্যাপ্স থেকে ভালো হওয়া যায়। তার জন্য রোগীকে দু-তিন সপ্তাহ ক্লিনিকে ভর্তি থাকতে হয়। পাশাপাশি ডিস্কস্প্রেশন থেরাপি, ইন্টারফেরেনশিয়াল থেরাপি, অটো ট্রাকশন ডিস্ক প্রল্যাপ্সে অত্যন্ত কার্যকর চিকিত্সা। এতে রোগীকে অপারেশনের প্রয়োজন নাই। অপারেশনে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। গবেষণা করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ডিস্ক প্রল্যাপ্সের রোগী ম্যানুয়াল ও ম্যানুপুলেশন থেরাপি নিয়ে সুস্থ আছেন।

লেখক : ডা. মো. সফিউল্যাহ্্ প্রধান, চেয়ারম্যান. ঢাকা পেইন ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহেবিলাইটেশন সেন্টার (ডিপিআরসি), মোহাম্মদপুর, ঢাকা