সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

মূর্ছা যাওয়া: চিকিত্সা ও প্রতিকার

মূর্ছা যাওয়ার প্রধান কারণ হল রক্তনালী ও ভেগ্যাস নার্ভ সম্বন্ধীয়। যখন শরীর সামান্য উসকানিতে অত্যাধিক সাড়া দেয়, রক্ত দেখা বা অত্যন্ত আবেগময় কষ্টকর কোন অবস্থা, তখন মূর্ছা দেখা দিতে পারে। সামান্য উসকানিতে মূর্ছা যাওয়াতে পরিণত হয় াময়িকভাবে চেতনা লোপ পায় কারণ হূদপিন্ডের গতি ও রক্তচাপ কমে যায় যার কারণে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ কমে যায়।

মূর্ছা যাওয়া সাধারণত ক্ষতিকর নয় এবং এতে কোন চিকিত্সার প্রয়োজন পড়েনা। কিন্তু রোগী মূর্ছা যাওয়ার সময় আঘাত পেতে পারে। ডাক্তার রোগীকে বিভিন্ন ধরণের পরীক্ষা নিরীক্ষার সুপারিশ করতে পারে। মূর্ছা যাওয়ার  পিছনে কোন মারাত্মক কারণ আছে কিনা যেমন হার্টের গোলযোগ ইত্যাদি খুঁজে বের করার জন্য।

উপসর্গ

মূর্ছা যাওয়ার আগে রোগীর বিভিন্ন  ধরণের অভিজ্ঞতা হতে পারে-

  • চামড়া ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
  • চিন্তা শূন্যতা
  • সুড়ঙ্গ দৃষ্টি, রোগীর দৃষ্টি ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে যায় ফলে রোগী শুধু তার সামনে যা থাকে তাই দেখতে পায় ++বমনচ্ছো
  • উষ্ণতা অনুভব করা
  • ঠান্ডা আঠালো ঘাম

কখন ডাক্তার ডাকতে হবে

যেহেতু মূর্ছা যাওয়া কোন গুরুতর অবস্থার উপসর্গ হতে পারে যেমন-হার্ট কিংবা মস্তিষ্কে রোগীকে একবার মূর্ছা যাওয়ার পর ডাক্তার দেখাতে হবে যদি না আগে কোন সময় মূর্ছা গিয়ে থাকে।

কারণসমূহ

কোন লোক মূর্ছা যায় যখন তার স্নায়ুতন্ত্র বা নাড়ীর গতি ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না। কোন কারণে যেমন-রক্ত দেখা। রোগীর নাড়ীর গতি কমে যায় এবং তার পায়ের রক্ত নালীগুলি প্রশস্ত হয়ে যায়। তার ফলে রক্ত পায়ে জমা হয় এবং রক্তচাপ কমে যায়। রক্তচাপ ও নাড়ীর গতি কমে যাওয়ার কারণে দ্রুত মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ কমে যায় এবং রোগী মূর্ছা যায়। যদিও মূর্ছা যাওয়া যে কোন বয়সে হতে পারে, তবুও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইহা বয়স্কদের বেলায় হয়ে থাকে।

মূর্ছা যাওয়ার সাধারণ কারণ

  • দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থাকা।
  • গরমে নিজেকে অনাবৃত করা।
  • রক্ত দর্শন।
  • রক্ত টানা।
  • শারীরিক আঘাতের ভয়।
  • চাপ দেওয়া বিশেষ করে পায়খানা করার সময়।

ডাক্তার রোগীকে পরীক্ষা করার সময় স্টেথোস্কোপ দিয়ে হার্ট পরীক্ষা করতে পারে ও রক্তচাপ মেপে দেখতে পারে। এমন কি গলায় যে প্রধান ধমণীগুলো আছে সেগুলি মর্দন করে দেখতে পারে রোগীর মূর্ছা যাওয়ার উপক্রম হয় কি না।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং রোগ নির্ণয়

মূর্ছা যাওয়া রোগ নির্ণয়ের পূর্বে ইহার কারণগুলো চিন্তা করতে হবে। বিশেষ করে হার্টের কোন সমস্যা।

ইসিজিঃ হার্ট যে ইলেকট্রিক্যাল সংকেত দেয় এই পরীক্ষার মাধ্যমে তা রেকর্ড করা যায়। ইহা অনিয়মিত হার্টের গতিকে ও হার্টের অন্যান্য সমস্যাকে চিহ্নিত করতে পারে যা মূর্ছা যাওয়ার কারণ হিসাবে দেখা দিতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে রোগীকে ১ দিনের জন্য বা ১ মাসের জন্য বহন যোগ্য মনিটর শরীরে পরিধান করতে হতে পারে।

ইকোকার্ডিও গ্রামঃ এই পরীক্ষার মাধ্যমে হার্টের আলট্রাসনোগ্রাম করা হয় এবং কোন সমস্যা আছে কিনা যেমন – ভাল্ব এর সমস্যা সেগুলি দেখা হয় যা মূর্ছা যাওয়ার কারণ হতে পারে।

ই.টি.টি.ঃ এই পরীক্ষার মাধ্যমে ব্যায়াম করার সময় রোগীর হার্টের গতি দেখা হয়। ইহা সাধারণতঃ ট্রেডমিলের উপর হেটে বা জগিং করে করা হয়।

রক্ত পরীক্ষাঃ রক্ত শূন্যতা দেখার জন্য রক্ত পরীক্ষা করা যাইতে পারে যা মূর্ছা যাওয়ার কারণ হতে পারে।

টেবিল কাত করে পরীক্ষাঃ

যদি মূর্ছা যাওয়ার পিছনে হার্টের কোন সমস্যা থেকে না থাকে তবে ডাক্তার তাকে টেবিল কাত করে যে পরীক্ষা করা সেই পরীক্ষার জন্য উপদেশ দিতে পারে। পরীক্ষার টেবিলের উপর চিত্করে রোগীকে শোয়াতে হবে।

টেবিলের অবস্থার পরিবর্তন করে রোগীকে বিভিন্ন কোণে উপরের দিকে কাত করাতে হবে। অবস্থার পরিবর্তনের কারণে রোগীর নাড়ীর গতি ও রক্তচাপের কোন পরিবর্তন আসছে কিনা এটা একজন প্রয়োগবিদ পর্যাবেক্ষণ করে দেখবে।

চিকিত্সা এবং ওষুধ

বেশিরভাগ মূর্ছা যাওয়ার ক্ষেত্রে চিকিত্সার কোন দরকার হয়না। কি কারণে রোগী মূর্ছা যায় সেটি বের করার জন্য রোগীকে ডাক্তার সাহায্য করবে এবং কিভাবে তা পরীক্ষা করা যায় সে ব্যাপারে রোগীর সাথে পরামর্শ করবে। কিন্তু যদি রোগী ঘন ঘন মূর্ছা যায়  তবে নিম্নলিখিত উপশমকারী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। যে সকল ওষুধ মূর্ছা যাওয়াকে প্রতিরোধ করতে পারে সেগুলি হল-

রক্ত চাপের ওষুধঃ উচ্চ রক্তচাপ থাকলে বিটাব্লকার ঔষধ দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। এই ধরণের ঔষধ দিয়ে মূর্ছা যাওয়াকে প্রতিরোধ করা যায় কারণ এই ঔষধগুলো মূর্ছা যাওয়ার কিছু কিছু সংকেতকে বাধা প্রধান করে।

অবসাদ রোগ চিকিত্সার ওষুধঃ এই জাতীয় ওষুধ মূর্ছা যাওয়াকে সফলভাবে প্রতিরোধ করতে পারে।

চিকিত্সা

পায়ে যাতে রক্ত কম জমা হয় সে ব্যাপারে ডাক্তার রোগীকে সুনির্দিষ্ট কৌশল সম্বন্ধে পরামর্শ দিতে পারে। এগুলোর মধ্যে পদতলের ব্যায়াম, নমনীয় স্থিতিস্থাপক মোজা পরিধান করা বা দাঁড়ানো অবস্থায় পায়ের মাংসপেশী টানটানভাবে প্রসারিত করা এবং যদি রোগীর উচ্চরক্তচাপ না থাকে তবে। খাবারের সাথে অতিরিক্ত লবণ খেতে পারেন। অতিরিক্ত গরমে বা ভিড়ের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা পরিহার করতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

শল্য চিকিত্সা

হূদপিন্ডে ইস্পিত গতি বজায় রাখার জন্য ব্যবহূত বৈদুতিক যন্ত্র সন্নিবেশ করে কোন কোন রোগী যাদের মূর্ছা যাওয়া রোগ আছে তাদের হূদপিন্ডের গতি নিয়ন্ত্রণ রাখা যায় যা রোগীকে মূর্ছা যাওয়া থেকে বিরত রাখতে সাহায্যে করে।

প্রতিরোধ

যদি রোগী মনে করে যে সে মূর্ছা যেতে পারে তবে তাকে শুয়ে পড়তে হবে এবং পাগুলো উপরের দিকে তুলে রাখতে হবে। ইহাতে মধ্যাকর্ষণের ফলে রক্ত মস্তিষ্কে প্রবাহিত হবে। যদি রোগী শুতে না পারে তবে বসে পড়তে হবে এবং মাথা দু’হাঁটুর মাঝখানে গুঁজে রাখতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না ভালো লাগে।