সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

মাম্পস

মাম্পসআমাদের মুখমণ্ডলের প্রতি পাশে তিনটি করে মোট ছয়টি লালাগ্রন্থি আছে। এর মধ্যে দুই গালের পেছন দিকে, ঠিক কানের নিচে একটি করে মোট দু’টি লালাস্রাবী গ্রন্থি থাকে, যাদের বলা হয় ‘প্যারোটিড লালাগ্রন্থি’। এ ছাড়া জিহ্বার নিচে দু’টি সাবলিঙ্গুয়াল গ্রন্থি এবং নিচের চোয়ালের ভেতরের দিকে একটি করে মোট দুটি সাব ম্যান্ডিবুলার গ্রন্থি রয়েছে। লালাগ্রন্থির কাজ লালারস ুরণ করে খাদ্যদ্রব্যকে পিচ্ছিল করা, যা চর্বনে সাহায্য করে।

লালাগ্রন্থিগুলোর মধ্যে প্যারোটিড গ্রন্থি যখন এক ধরনের ুদ্রাকার ভাইরাস ‘মিকসো ভাইরাস প্যারোটাইডিস’ দ্বারা আক্রান্ত হয় তখন এ গ্রন্থি ফুলে যায়। প্যারোটিড গ্রন্থির এ প্রদাহকে বলে ‘প্যারোটাইটিস।’

প্যারোটিড শব্দটি গ্রিক, যার অর্থ কানের ধারে। এই প্যারোটিড গ্রন্থির প্রদাহকে ডাক্তারি ভাষায় বলা হয় প্যারোটাইটিস, সাধারণ মানুষ যাকে বলে ‘মাম্পস’। এ রোগে চোয়াল নাড়লেই তীব্র যন্ত্রণা হয়। কথা বলাও কঠিন হয়ে যায়। ফলে কথা অস্পষ্টভাবে বলতে হয়। অস্পষ্ট কথা বলার ইংরেজি শব্দ ‘মামবল’ থেকেই ‘মাম্পস’ চলতি নামটি এসেছে। তাই জনসাধারণ প্যারোটাইটিসকে চেনে মাম্পস হিসেবে।

এ রোগের লক্ষণ হলো অল্প জ্বর, যা ক্রমেই বাড়তে পারে (১০০-১০৩F)। গলা ফুলে যাওয়া। শরীর ম্যাজ ম্যাজ করা। শীত ভাব। মাথাব্যথা। প্রায়ই প্রথমে একটি ফুলে যায়, পরে অন্যটি ফোলে। এই ফুলা দুই-তিন দিন ধরে বৃদ্ধি পেয়ে আবার কমতে শুরু করে। জ্বরও কমতে থাকে। রোগীর খাওয়া-দাওয়া স্বাভাবিক হয়ে আসে। এখানে মনে রাখা দরকার, একবার মাম্পস হয়ে গেলে বাকি জীবনে আর কখনো হয় না। মাম্পস জীবাণু শরীরে ঢোকার শুরু থেকে অর্থাৎ ১৪ থেকে ২১ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ করে।

মাম্পস ছোঁয়াচে রোগ। এ রোগ শুরু হওয়ার তিন-ছয় দিন পর্যন্ত রোগীর লালার সাথে বিপুল জীবাণু বাইরে বেরিয়ে আসে। তা ছাড়া কথা বলার সময় বা হাঁচি-কাশির সময় লালা ও থুথুর অজস্র সূক্ষ্ম কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, যাতে থাকে অসংখ্য জীবাণু। ফলে রোগীর কাছে শ্বাস-প্রশ্বাস নিলে এবং কারো দেহের রক্তে এ রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা না থাকলে সে সাথে সাথে এই জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।

মাম্পস হলে প্যারোটিড গ্রন্থি ছাড়া অন্যান্য গ্রন্থিও আক্রান্ত হতে পারে। যেমন অগ্নাশয়, থাইরয়েড, অণ্ডকোষ, ডিম্বকোষ। এ ছাড়া মহিলাদের স্তন প্রদাহ বা ম্যামটাইটিস এবং প্রসটেট গ্রন্থির প্রদাহ বা প্রসটাইটিসও হতে পারে। এ রোগে পুরুষের সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা লোপ পেতে পারে। যৌনক্ষমতায়ও এর প্রভাব পড়ে বলে অনেকে মনে করেন। মাম্পস থেকে মস্তিষ্কের প্রদাহ বা এনকেফালাইটিসও হতে পারে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা এ ক্ষেত্রে ভালো ফল দেয়।