সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

ভ্রমণে সুস্থ থাকুন

ঈদের ছুটি মানেই অনেকের কাছে ভ্রমণের মৌসুম। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই বেরিয়ে পড়েন দেশ-বিদেশে ভ্রমণে। তবে যে কোনো ভ্রমণেই হতে পারে স্বাস্থ্য সমস্যা। অসুখ-বিসুখে ভ্রমণের আনন্দটাই যেন মাটি না হয়ে যায় তার জন্য কিছু ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

ভ্রমণ যখন পাহাড়ে
বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ম্যালেরিয়া। তাই পার্বত্য এলাকায় ভ্রমণের আগেই প্রয়োজনে চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী ম্যালেরিয়ার প্রতিরোধক ওষুধ খেয়ে নেয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে মশা নিধনকারী স্প্রে বা এরোসল, মশারি ব্যবহার করবেন।

আকাশে ভ্রমণ যখন
আকাশ ভ্রমণে সমস্যা হয় উচ্চতার কারণে। আমরা জানি একটি নির্দিষ্ট উচ্চতার পর বাতাসে অক্সিজেনের চাপ কমতে থাকে। মানব শরীরে অক্সিজেনের চাপের সঙ্গে বাতাসের এই অক্সিজেনের চাপের তারতম্য শরীরে নানারকম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে যেমন মাথাঘোরা, কানে তালালাগা, বমির ভাব হওয়া। এ সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পেতে চুইংগাম চিবানো, ঘন ঘন ঢোক গিলা, জুস খাওয়া ইত্যাদি করা যেতে পারে। তবে যাদের শ্বাস কষ্ট, হার্টের অসুখ, বুকে ব্যথা (এনজাইনা) প্রভৃতি সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে সমস্যাগুলো আরও জটিল হতে পারে। ঠাণ্ডা, সর্দিতে নাক বন্ধ থাকলে বেড়ে যেতে পারে সাইনাসের সংক্রমণ।

আন্তঃদেশীয় ভ্রমণে
দেশভেদে অসুখ-বিসুখের ধরন ও মাত্রা ভিন্ন। যে দেশে যাবেন সে দেশের অসুখ-বিসুখ সম্পর্কে আগে থেকেই তথ্য নেবেন। প্রয়োজনে ভ্যাকসিন দিয়ে নেবেন। হেপাটাইটিস-এ হেপাটাইটিস-বি, টাইফয়েড, চিকেন পক্স, ইয়েলো ফিভার (যেসব দেশে ইয়োলো ফিভারের প্রকোপ আছে সে দেশের ক্ষেত্রে) প্রভৃতি ভ্যাকসিন সম্ভব হলে দিয়ে নেবেন। সেসব দেশের আবহাওয়া ও তাপমাত্রা সম্পর্কে আগেভাগে জেনে নেবেন। প্রয়োজনে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।

ট্রাভেলার্স ডায়রিয়া
ভ্রমণের কমন একটি সমস্যা। বেশ কয়েক পদের ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের কারণে এটি হয়। সাধারণত বিভিন্ন ধরনের খাবার যেমন—অল্প সিদ্ধ মাংস, সি ফুড এবং দুগ্ধ জাত খাবার, পানি ইত্যাদির মাধ্যমে এটি ছড়ায়। তাই খাবার এবং পানির ব্যাপারে সাবধান থাকুন।

ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস (ডিভিটি)
দীর্ঘ ভ্রমণে আরেকটি সমস্যা হলো—‘ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস বা ডিভিটি’। অনেকক্ষণ বসে থাকলে শরীরের গভীর অংশের শিরাগুলোয় রক্ত জমাট বেঁধে থ্রম্বোস তৈরি হয়। এই থ্রম্বোসগুলো ব্রেইনে চলে গেলে স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে। এতে অনেক সময় মৃত্যুও ঘটে যেতে পারে। সাধারণত বিমান, ট্রেন বা লঞ্চ—যাই হোক না কেন, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে পায়ের শিরাতে রক্ত জমাট বাধতে পারে। তাই দীর্ঘ ভ্রমণে একটানা বসে না থেকে একটু হাঁটাচলা করুন। এ সমস্যাটা বয়স্কদের বেশি হয়।

মোশন সিকনেস
‘মোশন সিকনেস’ ভ্রমনের একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা ‘মোশন সিকনেস’ মূলত মস্তিকের এক ধরনের সমস্যা। বিশেষ করে বাস, প্রাইভেটকার বা এ জাতীয় অন্যবাহন গুলিতে এ সমস্যা হয়। শরীরের অন্তঃকর্ণ আমাদের শরীরের গতি ও জড়তার ভারসাম্য রক্ষা করে। যখন গাড়ীতে চড়ি তখন অন্তঃকর্ণ মস্তিষ্কে খবর পাঠায় যে সে গতিশীল। কিন্তুু চোখ বলে ভিন্ন কথা। কারণ তার সামনের বা পাশের মানুষগুলো কিংবা গাড়ীর সিটগুলো তো স্থির।

চোখ আর অন্তঃকর্ণের এই সমন্বয়হীনতার ফলে তৈরী হয় ্তুমোশন সিকনেস’। মোশন সিকনেস এ বমির ভাব হয় বেশি। সেই সাথে মাথা ঘোরা, মাথা ধরা প্রভৃতি থাকে। মোশন সিকনেস থেকে বাঁচার উপায় হলো, জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকা। এ সময় লম্বা লম্বা শ্বাস নিতে হবে, হতে পারে মেডিটেশনও। প্রয়োজন হলে চোখ বুজে থাকুন। এ সময় বই পড়বেন না বা স্থির কোন কিছুর দিকে তাকিয়ে থাকবেন না। আদা চিবাতে পারেন। মোশন সিকনেসে কাজে দেবে। ভ্রমনে যাদের বেশী সমস্যা হয় তারা গাড়ীতে ওঠার আধঘন্টা আগে ডমপেরিডন জাতীয় ওষুধ খেয়ে নিতে পারেন।