সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

ভাইরাল ফিভার

ভাইরাল জীবাণুর সংক্রমণের কারণে যে জ্বর হয় তাকে ভাইরাল ফিভার বলে। জ্বরের শুরুতে এর প্রকৃতি নিরূপণ করা না গেলেও পরে পরীক্ষায় যদি দেখা যায় রক্তে ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যাচ্ছে না, তখন এই জ্বরকে ভাইরাল ফিভার বলে চিহ্নিত করা হয়।

ভাইরাল ফিভারের কারণ

সাধারণত ধরে নেয়া হয় জ্বর এককভাবে কোনো অসুখ নয়। অসুখের উপসর্গ। নানা কারণে জ্বর হতে পারে। তবে অধিকাংশ জ্বরই হয় কোনো না কোনো জীবাণু সংক্রমণের কারণে। এসব জীবাণুর মধ্যে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস উল্লেখযোগ্য। শরীরে নানা কারণে ভাইরাসের সংক্রমণ হয়, আর তখনই জ্বর আসে।

ভাইরাল ফিভারের সাধারণ লক্ষণ

  • হঠাত্ জ্বর আসা
  • শরীর-হাত- পায়ে ব্যথা
  • মাথা ঘোরা
  • মাথা ব্যথা
  • মুখে বিস্বাদ

বিশেষ ভাইরাসের সংক্রমণে রোগীর বিশেষ ধরনের উপসর্গ

  • গলায় ব্যথা
  • গলার ভিতর লাল হয়ে যাওয়া
  • গলা ফুলে যাওয়া
  • কাশি, সর্দি
  • চোখ লাল হয়ে যাওয়া
  • মূত্র হলুদ হয়ে যাওয়া
  • বমি বমি ভাব
  • ক্ষুদমন্দা
  • ত্বকে র্যাশ দেখা দেওয়া

ভাইরাল ফিভার থেকে জটিল সমস্যা

ভাইরাসের কারণে জ্বর থেকে শরীরে দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা। যথাযথ সাবধানতা অবলম্বন না করলে ভাইরাল জ্বর রূপ নেয় নানা জটিল রোগের, যেমন- নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, ডায়রিয়া, সাইনোসাইটিস, অ্যাজমা। ব্রেন এ্যাফেক্ট করলে তার থেকে প্যারালাইসিস হতে পারে, কনভালশন দেখা দিতে পারে, এমনকি শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

চিকিত্সা

  • প্রথম এক-দুদিনের জ্বরের মধ্যে জ্বর কমার ও শরীরের ব্যথা কমার ওষুধ খেতে হবে।
  • জ্বর নিয়ন্ত্রণে রাখতে গা-হাত-পা স্পঞ্জ করতে হবে এবং মাথা ধুয়ে বাতাস করে জ্বর কমাতে হবে। জ্বর কখনোই বাড়তে দেয়া যাবে না।
  • খাওয়া-দাওয়া স্বাভাবিক রাখতে হবে। নিউট্রিশন যাতে ঠিক থাকে সেদিকে নজর দিতে হবে। কারণ শরীরের ইমিউনিটি ঠিক রাখে নিউট্রিশন। ইমিউনিটি ঠিক থাকলে সেই ইমিউনিটি দিয়েই সাধারণ ভাইরাল ফিভার ভালো হয়ে যায়।
  • পরে অন্য উপসর্গ দেখা দিলে সেই অনুযায়ী রোগীকে চিকিত্সকের পরামর্শ মতে চিকিত্সা দেয়া উচিত।

বিশেষ সতর্কতা

কিছু কিছু ভাইরাল ফিভার যেগুলো সংক্রামক, যেমন-মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, পক্স সেইসব ক্ষেত্রে রোগ অন্যের শরীরে যাতে সংক্রমণ হতে না পারে সেজন্য আক্রান্তকে আলাদা করে রাখতে হবে।

সাবধানতা

  • মাম্পস, টিটেনাস, চিকেন পক্স, পোলিও, হেপাটাইটিস, স্মল পক্স, টিকা শিশুদের যথা সময়ে দিতে হবে।
  • বাড়িতে পোষা কুকুরকে নিয়মিত র্যাবিশ ভ্যাকসিন দিতে হবে।
  • জ্বর হওয়া মাত্র চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে।

বিশেষ ভাইরাসের ক্ষেত্রে রোগীর বিশেষ উপসর্গ

  • হেপাটাইটিস ভাইরাসে আক্রান্ত হলে রোগীর জ্বরের সঙ্গে বমি হবে, খাওয়ার অরুচি এবং ত্বকে ব্যথা দেখা দেবে। কারো গলায় সংক্রমণ দেখা দিলে গলায় ব্যথা হবে, ঢোক গিলতে অসুবিধা হবে, গলার ভিতরে লাল হয়ে যাবে। চোখে সংক্রমণ দেখা দিলে পানি পড়বে, চোখ লাল হয়ে যাবে।
  • লিভার অ্যাবসিসের ক্ষেত্রে প্রথমে পেটে অসহ্য যন্ত্রণা হবে। পরে জ্বর আসবে।
  • ব্যাকটেরিয়াল ভাইরাসের ক্ষেত্রে রোগী জ্বর আসার আগেই কাশতে শুরু করবে এবং বুক ও গলায় ব্যথা হবে। তারপর জ্বর আসবে।
  • জেঙ্গু রোগীর গা-হাত-পায়ে অসহ্য ব্যথা এবং মাথায় তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করবে।