সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মা যেসব ওষুধ খাবেন না

বলার অপেক্ষা রাখে না, মায়ের বুকের দুধ শিশুর জন্য আদর্শ খাবার, যার কোনো বিকল্প নেই। প্রকৃতির অনেক দানের মধ্যে এটিও একটি। শরীরতত্ত্ব যার নাম দিয়েছে এন্ডোক্রিন অর্কেস্ট্রা। আজকাল অনেকের ধারণা, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে স্তনের আকার খারাপ হয়ে যায়। ধারণাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বরং শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে স্তনের আকার ঠিক থাকে। কেননা, এতে এক ধরনের পরোক্ষ ব্যায়াম হয়ে যায়। শিশু যখন স্তনবৃন্তে দুগ্ধপান করে তখন এখানে রক্তের চলাচল বহুগুণ বেড়ে যায়। তা ছাড়া এ সময় ম্যামারি গ্ল্যান্ডে এক ধরনের মুভমেন্ট বা নড়াচড়া হয়, যা গ্ল্যান্ডটিকে ধরে রাখা লিগামেন্টগুলোকে আরো সুদৃঢ় করে।

তবে হ্যাঁ, কিছু বিশেষ ধরনের ওষুধ খেলে শিশুকে স্তন্যদান করানো অনুচিত। কেননা মা যে ওষুধ খাবেন, তার বেশির ভাগই বুকের দুধ মারফত শিশুর পেটে চলে যায়। যেমন ল্যাক্সেটিভ। পায়খানা না হলে এটি খাওয়ানো হয়। মা এ ওষুধ খেয়ে ব্রেস্টফিড করালে শিশুর ডায়রিয়া হওয়া বিচিত্র নয়। এ ছাড়া কিছু অ্যান্টিবায়োটিক যেমনÑ টেট্রাসাইকিন, কোরামফেনিকল, কোট্রাইমক্সাজল খেলে শিশুকে বুকের দুধ দেয়া উচিত নয়।
অথচ পেনিসিলিন-জাতীয় ওষুধ নির্দ্বিধায় মা খেতে পারেন।

সামান্য কারণে পেইনকিলার বড়ি যেমন কোফেনাক, ডিসপ্রিন খাওয়া যেন অভ্যাসে দাঁড়িয়েছে। পেইনকিলার খেলেও মায়ের উচিত স্তন্যদান থেকে বিরত থাকা। এ ক্ষেত্রে প্যারাসিটামল খাওয়া নিরাপদ। অনেক সময় শারীরিক বা মানসিক কারণে মা খান ঘুমের বড়ি। সে ক্ষেত্রে মা যদি বুকের দুধ খাওয়ান, সেই ঘুমের ওষুধ অনিবার্যভাবে প্রবেশ করবে শিশুর শরীরে। অ্যান্টি-কোয়াগুলেন্ট জাতীয় ওষুধ রক্তজমাট বন্ধ করে। মা এ ওষুধ খেলে তা বুকের দুধে মিশে শিশুর রক্তস্রোতে চলে যাবে। ফলে শিশুর কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে তা বন্ধ করা কঠিন হবে। তাই এগুলো স্তন্যদানকারী মায়েদের যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।

এ ছাড়াও অ্যান্টিইপিলেস্টিক ড্রাগ, যেমনÑ ফেনাইটয়েন কিংবা অ্যান্টিক্যান্সার জাতীয় কোনো ওষুধ যখন মা নেবেন বা খাবেন, তখন মা অবশ্যই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াবেন না।

সুতরাং অহেতুক স্তন সুরক্ষার অজুহাতে নবজাতককে যেমন তার প্রাপ্য দুধ থেকে বঞ্চিত করবেন না, তেমনি রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শুধু হাতুড়ের নির্দেশে কিছু বড়ি খেয়ে আপনার আদরের সোনামণির কোনো ক্ষতি করবেন না। এ অনুরোধ যথার্থ ও বাস্তবানুগ বলায় বোধকরি সত্যের এতটুকু অপলাপ হয় না।