সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

বিকল কিডনির চিকিত্সায় সিএপিডি

বিকল কিডনির বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার রোগীর কিডনি অকেজো হয়ে যাওয়ার কারণে মৃত্যুবরণ করে থাকে। এসব রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি সংযোজনের প্রয়োজন পড়ে। ডায়ালাইসিস সাধারণত দুই ধরনের, এর একটি হচ্ছে হেমোডায়ালাইসিস এবং অপরটি পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস। হেমোডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে করা হয় এবং পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস শরীরের পেটের ভেতরের আচ্ছাদিত মেমব্রেনের সাহায্যে করা হয়ে থাকে। হেমোডায়ালাইসিস করার জন্য হেমোডায়ালাইসিস মেশিন, ডায়ালাইসিস বেড, একটি নির্দিষ্ট জায়গা, কৃত্রিম কিডনি পরিশোধিত পানির প্রয়োজন হয়। এছাড়া ডাক্তার, নার্স, সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিসের আনুষঙ্গিক কিছুই প্রয়োজন হয় না। রোগী ঘরে বসেই এ ধরনের ডায়ালাইসিস নিজে নিজেই করতে পারে।

কীভাবে করতে হয় সিএপিডি
ডায়ালাইসিস শুরুর আগে শুধু পেটের ভেতর একটি রাবার ক্যাথেটার প্রতিস্থাপন করা হয়। ইমপ্লান্ট ডাক্তার করে থাকে। এরপর পেটের ভেতরে ২ লিটার পরিশোধিত পানি নলের সাহায্যে ঢুকিয়ে দেয়া হয় এবং প্রায় ৪ ঘণ্টা সেই পানি পেটের ভেতর রাখা হয়। এসময় রোগী তার দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে পারে। এরপর আবার ওই পানি অন্য একটি নলের সাহায্যে বের করে দেয়া হয়। এরপর আবার ২ লিটার পানি পেটের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে রাখা হয়। অর্থাত্ প্রতিদিন এভাবে ৩ থেকে ৪ বার প্রবেশ করানো এবং সেই পানি আবার বের করে নেয়া হয়। রোগী নিজেই ঘরে বসে এ কাজটি সম্পাদন করতে পারে। এই প্রক্রিয়াকেই Continuous Ambulatory Peritoneal Dialysis বা সিএপিডি বলে ।

যখন পেটের ভেতরে পরিশোধিত পানি দেয়া হয় এবং পেটের ভেতরে যে ২ ঘণ্টা পানি থাকে, এ সময় পেটের আচ্ছাদিত মেমব্রেন পানি দিয়ে শরীরের দূষিত রক্তকে পরিশোধিত করে, যা একটি সুস্থ-স্বাভাবিক কিডনি ফিল্টার মেমব্রেন দিয়ে করে থাকে। কিডনি অকেজো থাকার কারণে পেটের আচ্ছাদিত মেমব্রেনকে কিডনির ফিল্টার হিসেবে কাজে লাগানো হয়।

সিএপিডি কখন করানো হয়
প্রতিটি মানুষের দুটি কিডনি থাকে। এ দুটি কিডনির কার্যকারিতা ৯০ ভাগ নষ্ট হয়ে গেলে মানুষের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা লোপ পায়। তখন শরীর ক্রমান্বয়ে ফ্যাকাশে হয়ে যায়। এছাড়াও শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়া ছাড়াও ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা, শরীর ঝিমিয়ে পড়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। এ উপসর্গগুলো শুরু হলে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা আর থাকে না। তখন তাকে আমরা ডায়ালাইসিস করার জন্য নির্দেশ দিয়ে থাকি।

যাদের ক্ষেত্রে কার্যকর
সাধারণত শিশু, অল্প বয়স্ক রোগী, অধিক বয়স্ক এবং হৃিপণ্ডের রোগীর জন্য সিএপিডি খুবই কার্যকর। যেসব রোগী ঘন ঘন হাসপাতালে আসতে চায় না, ঘরে বসে চিকিত্সা নিতে ইচ্ছুক এবং যেসব শহরে বা গ্রামে হেমোডায়ালাইসিস চিকিত্সার ব্যবস্থা নেই, তাদের জন্য সিএপিডি চিকিত্সার বিকল্প নেই। সিএপিডি চিকিত্সার মাধ্যমে একজন কিডনি অকেজো রোগী বেঁচে থাকতে পারে।

একজন রোগী হেমোডায়ালাইসিস করে যতদিন বেঁচে থাকে সিএপিডি করে ওই একই রকম বা তার বেশিও বাঁচতে পারে। তবে বাড়তি সুবিধা হচ্ছে, ঘরে বসেই চিকিত্সা করা এবং সপ্তাহে ৭ দিনে নিজের ইচ্ছামত চলাফেরার সুযোগ হেমোডায়ালাইসিসে সম্ভব হয় না। হেমোডায়ালাইসিস রোগীদের নির্দিষ্ট সময়ে হাসপাতালে এসে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় সপ্তাহে ৩ দিন ব্যয় করতে হয় এবং অনেক রোগীকে দূর-দূরান্ত থেকে এসে ডায়ালাইসিস করতে হয়। এছাড়াও সিএপিডি রোগীদের রক্তচাপ ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণের ভেতর রাখা যায়। খাবারের বেশি বাধ্যবাধকতার প্রয়োজন হয় না এবং রোগীরা বেশি উত্ফুল্ল বোধ করে ।

যেসব কিডনি ফেইলুর রোগী ঘন ঘন হাসপাতালে আসতে চায় না অর্থাত্ যারা ঘরে বসে চিকিত্সা নিতে ইচ্ছুক ও যেসব শহরে বা গ্রামে হেমোডায়ালাইসিস চিকিত্সার ব্যবস্থা নেই, তাদের জন্য সিএপিডি চিকিত্সার বিকল্প নেই। এর বাড়তি সুবিধা হচ্ছে, ঘরে বসেই চিকিত্সা নেয়ার পাশাপাশি রোগী চাকরি/ব্যবসাসহ তার দৈনন্দিনের স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারেন, যা হেমোডায়ালাইসিসে সম্ভব নয়। হেমোডায়ালাইসিস রোগীদের নির্দিষ্ট সময়ে হাসপাতালে এসে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় সপ্তাহে তিনদিন ব্যয় করতে হয় ও অনেক রোগীকে দূর-দূরান্ত থেকে এসে ডায়ালাইসিস করতে হয়।

এছাড়াও সিএপিডি রোগীদের রক্তচাপ ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণের ভেতর রাখা যায়। খাবারের বেশি বাধ্যবাধকতার প্রয়োজন হয় না ও রোগীরা বেশি উত্ফুল্ল বোধ করে। তাছাড়া ডায়ালাইসিসের মতো এত ঘন ঘন রক্ত দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

সিএপিডির সুবিধাগুলো
যেসব কিডনি ফেইলুর রোগী ঘন ঘন হাসপাতালে আসতে চায় না অর্থাত্ যারা ঘরে বসে চিকিত্সা নিতে ইচ্ছুক ও যেসব শহরে বা গ্রামে হেমোডায়ালাইসিস চিকিত্সার ব্যবস্থা নেই, তাদের জন্য সিএপিডি চিকিত্সার বিকল্প নেই। এর বাড়তি সুবিধা হচ্ছে, ঘরে বসেই চিকিত্সা নেয়ার পাশাপাশি রোগী চাকরি/ব্যবসাসহ তার দৈনন্দিনের স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারেন, যা হেমোডায়ালাইসিসে সম্ভব নয়। হেমোডায়ালাইসিস রোগীদের নির্দিষ্ট সময় হাসপাতালে এসে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় সপ্তাহে তিনদিন ব্যয় করতে হয় ও অনেক রোগীকে দূর-দূরান্ত থেকে এসে ডায়ালাইসিস করতে হয়।

এছাড়াও সিএপিডি রোগীদের রক্তচাপ ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণের ভেতর রাখা যায়। খাবারের বেশি বাধ্যবাধকতার প্রয়োজন হয় না ও রোগীরা বেশি উত্ফুল্ল বোধ করে। তাছাড়া ডায়ালাইসিসের মতো এত ঘন ঘন রক্ত দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

সিএপিডির অসুবিধাগুলো
সিএপিডির সব চেয়ে বড় অসুবিধা হলো পেটের আচ্ছাদিত মেমব্রেন Infection যখন পেটের ভেতর পরিশোধিত পানি দেয়া হয়, ওই সময় রোগী যদি সতর্ক হয় এবং হাত পরিষ্কার করে পানি প্রবেশ করায়। একটি পরিষ্কার ঘরে এ পদ্ধতি করলে ইনফেকশন বা সংক্রামক জীবাণু পেটে প্রবেশ করতে পারে না। তার সংক্রামক জীবাণু প্রবেশ করলেও তা জীবাণুনাশক ওষুধ দিয়ে নির্মূল করা যায়। বর্তমানে পানি প্রবেশ করালেও বের করানোর জন্য ণ সেট ব্যবহার করা হয়, যার ফলে ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম। এছাড়া সিএপিডি রোগীদের রক্তে চর্বি বেড়ে যেতে পারে ও ডায়াবেটিক রোগীদের ইনসুলিন বা ওষুধের পরিমাণ বাড়াতে হতে পারে।

পৃথিবীর যেসব দেশে চালু আছে
পৃথিবীতে কিডনি অকেজো রোগীদের জন্য সিএপিডি ব্যাপক জনপ্রিয়। মেক্সিকো ও হংকং-এ ৮০ ভাগ ডায়ালাইসিস সিএপিডির মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে এর হার শতকরা ৪০ ভাগ, কানাডা ও ইউরোপে জনপ্রিয় এবং জাপান ও চীনে ক্রমান্বয়ে জনপ্রিয় চিকিত্সা পরিণত হচ্ছে। যতই দিন যাচ্ছে এর জনপ্রিয়তা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশে সিএপিডি চিকিত্সার ভবিষ্যত্
আমাদের দেশে প্রথমে এ চিকিত্সা শুরু হয়েছিল ১৯৮২ সালে, তবে ভালো ক্যাথেটার ও পরিশোধিত পানি না থাকায় তার বিকাশ ঘটেনি। এরপর মাঝে মাঝে সিএপিডি বিশেষ ধরনের রোগীদের সিএপিডি করানো হতো। ২০০৪ সাল থেকে এর জনপ্রিয়তা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেহেতু ঢাকাসহ বড় বড় হাসপাতাল ছাড়া হেমোডায়ালাইসিসের কোনো ব্যবস্থা নেই, সেহেতু দূর-দূরান্ত রোগীদের জন্য এ চিকিত্সা ব্যাপকহারে জনপ্রিয়তা পাওয়ার আশা রাখে। এতে রোগীরাও ঢাকা আসার বা গ্রাম থেকে শহরে আসার ঝামেলা থেকে রেহাই পাবে।

এ ধরনের চিকিত্সার খরচাপাতি
যে কোনো চিকিত্সার জনপ্রিয়তা তখনই প্রতীয়মান হবে, যখন চিকিত্সার ফল ভালো হবে এবং রোগীরা সুলভ মূল্যে চিকিত্সা পাবে। এছাড়া চিকিত্সাও তার নাগালের ভেতর থাকতে হবে। সিএপিডির বেলায় চিকিত্সার ফলাফল ভালো হলেও এর খরচ এখনও রোগীদের নাগালের বাইরে, তবে হেমোডায়ালাইসিসের সমান। এর প্রধান কারণ পানির উচ্চমূল্য পরিশোধিত পানি ব্যাগের মাধ্যমে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এছাড়া ক্যাথেটার ও ণ সেট বিদেশ থেকে আনা হয়। ফলে এর দাম অনেক, যা বেশিরভাগ দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত রোগীরা খরচ বহন করতে চায় না। আর ধনী শ্রেণীর রোগীরা নিজেদের চিকিত্সার ঝামেলা নিতে চায় না। ফলে সিএপিডি একটি আধুনিক চিকিত্সা হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়নি।

সিএপিডি নিয়ে ঢাকায় আন্তর্জাতিক সেমিনার
কিডনি ফাউন্ডেশন এই প্রথম এ চিকিত্সাকে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানের চিকিত্সকদের দিয়ে সম্প্রতি প্রথম বার্ষিক কনভেনশন ও আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করেছে। এই সম্মেলনে আমেরিকা, জার্মানি, ভারত ও পাকিস্তানের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা সিএপিডি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করবেন। এতে প্রায় ২২৫ জন ডাক্তার প্রশিক্ষণ নেন। মূলত সিএপিপিকে ব্যাপক জনপ্রিয় করার জন্যই এ উদ্যোগ বলে জানা যায়।

Category: কিডনি