সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

বার্ধক্য প্রতিরোধে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট

বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, কিছু কিছু নিয়ম মেনে চললে বার্ধক্যকে অনেক দিন প্রতিরোধ করা যায় এবং রোগব্যাধিও দূরে থাকবে। তবে এ জন্য আপনার খাদ্য তালিকায় থাকতে হবে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধি যেমনÑ ক্যান্সার, হার্ট অ্যাটাক, থ্রম্বসিস ইত্যাদির হাত থেকে মুক্তি পেতেও আমাদের শরীরের জন্য অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের প্রচুর দামি খাবার খেতে হবে, মোটেও তা নয়। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকাতেই লুকিয়ে আছে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। বিটা ক্যারোটিন, আলফা ক্যারোটিন, লাইকোপিন, ক্রিপটোঅ্যানথিন, পলিফিনলিক এসিড, ট্যানিন, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ই, কপার, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, আয়রন ইত্যাদি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে।

পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, পালংশাক, পুঁইশাক, লাউশাক, কুমড়াশাক, ধনেপাতা, পুদিনা পাতা, সজনেশাক, নটেশাক ইত্যাদিতে বিটাক্যারোটিন নামে একধরনের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট আছে। ঢেঁড়স, সয়াবিন ও মটরশুঁটিতে আছে বিটা ক্যারোটিন ও আলফা ক্যারোটিন। বাঁধাকপি ও গাজরে আছে প্রচুর আলফা ক্যারোটিন। টমেটো, তরমুজ ও লাল নটেশাকে আছে লাইকোপিন নামে উঁচুমানের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। পাকা কুমড়া, পাকা পেঁপে, কমলালেবু, পাকা আম ইত্যাদিতে আছে ক্রিপটোঅ্যানথিন এবং বিভিন্ন রঙিন শাকসবজি ও ফলমূলে রয়েছে ক্যারোটিনয়েড শ্রেণীর প্রায় ৩০০ ধরনের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। 

টমেটোতে থাকা লাইকোপিন একটি অত্যন্ত উঁচুমানের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। অনেকেই মনে করেন, কাঁচা টমেটো (রান্না ছাড়া) বেশি কার্যকর। কিন্তু দেখা গেছে, টমেটোর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রান্না করলেই বরং অনেক বেশি পরিমাণে শরীরে শোষিত হয়। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, শুধু টমেটোতেই নয়, যেকোনো সবজিতে থাকা ক্যারোটিনয়েড ফ্যাটে দ্রবণীয় হওয়ায় রান্না করে খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়। কারণ রান্না করা সবজিতে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের বায়ো-অ্যাভেলিবিলিটি কাঁচা সবজির চেয়ে অনেক বেশি। টমেটো কাঁচা অবস্থায় খেলে যে পরিমাণ লাইকোপিন পাওয়া যায়, তার চেয়ে প্রায় পাঁচগুণ বেশি লাইকোপিন শরীরে শোষিত হয় টমেটোর চাটনি অথবা কেচাপ খেলে। তবে সালাদে টমেটো খেতে হলে সাথে বিট-গাজর সেদ্ধ করে নিলে ভালো হয়। 

টাটকা সবুজ শাকসবজিতে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ছাড়াও আছে ভিটামিন এ ও সি, কালো জামে লিউটেন, আনারস, টমেটো, বাতাবিলেবুসহ সব রকমের লেবু, আপেল, কলা, পেয়ারা, বেদানা ইত্যাদিতে প্রচুর ভিটামিন-সি রয়েছে। ভিটামিন-সি সরাসরি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট না হলেও এটি শরীরের ফ্রি-র‌্যাডিক্যালের মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং শরীরের কোষপ্রাচীরে আলফা টোকোফেরল বা ভিটামিন-ই নিঃসরণে সাহায্য করে। ভিটামিন-ই আবার শরীরের ফ্রি-র‌্যাডিক্যালের মাত্রা কমাতেও বিরাট ভূমিকা রাখে। নানা রকম শস্য যেমন চাল, গম, সয়াবিন, ডাল, কিশমিশ, খেজুর, বাদাম ইত্যাদিতে আছে কপার এবং দুধ, সামুদ্রিক মাছ ও গোশতে আছে সেলেনিয়াম। বিভিন্ন ধরনের রান্নায় বিভিন্ন মসলা খাওয়া অনেকের মতে শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু হলুদের মধ্যে কারকামিন নামে একধরনের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট আছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। মরিচে রয়েছে ক্যাপসাইনো নামে আরেকটি উপকারী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। এ ছাড়াও লবঙ্গে আছে ইউগেনল। কাজেই কোনো মসলাই খারাপ নয়। তবে অবশ্যই তা অতিরিক্ত ব্যবহার না করে মাত্রা রেখে ব্যবহার করা উচিত। 

পুষ্টিবিদদের মতে, আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ১০ থেকে ৫০ মিলিগ্রাম ভিটামিন-এ ও ক্যারোটিনয়েড, ১০০ থেকে ৩০০ মিলিগ্রাম সেলেনিয়াম, ৪০০ থেকে ৬০০ আইইউ ভিটামিন-ই, ৫০০ থেকে এক হাজার আইইউ ভিটামিন-সি এবং প্রতিদিন ৬০০ গ্রাম সবজি-ফল ও বাদাম খেতে পারলে ভালো হয়। আবারো বলতে হয়, যদি সুস্থ ও নীরোগ জীবন চান এবং বার্ধক্য জনিত সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়ার বাসনা থাকে তবে আপনার খাবারে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকা অবশ্যই দরকার।