সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

বাতরোগের চিকিৎসায় স্টেরয়েড

স্টেরয়েড হলো কৃত্রিমভাবে তৈরি প্রদাহ বিরোধী বিকল্প হরমোন। হরমোনগুলোর নাম হলো কর্টিকো স্টেরয়েড ও গ্লুকোকর্টিকয়েড, শরীরের অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি এগুলো তৈরি করে। ওষুধ তৈরি হয় এসব নামে যেমন ডেক্সামেথাসন, হাইড্রোকর্টিসন এবং প্রেডনিসোলন।

প্রশ্ন : কখন স্টেরয়েড দেবেন?

উত্তর : কখন স্টেরয়েড ব্যবহার করা হবে সেটা নিয়ে চিকিৎসকেরাও অনেক চিন্তা করেন। আথ্রাইটিসের ক্ষেত্রে স্টেরয়েডের ব্যবহার নিয়ে কিছু চিকিৎসক খুব অসুখী থাকেন এবং চেষ্টা করেন যথা সম্ভব তা পরিহার করতে। তা ছাড়া তারা স্টেরয়েডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে সচেতন থাকার কারণে তাদের ব্যবহারই বন্ধ করে দেন। মুখে খাওয়ার স্টেরয়েড যেমন প্রেডনিসোলন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যথা ও প্রদাহ কমায়, এটি মারাত্মক উপসর্গ কমানোর জন্য এনএসএআইডির সাথে দেয়া যেতে পারে। কোনো রোগীর অস্থিসন্ধি জ্বালাপোড়া করতে থাকলে, বিশেষ করে রোগীটি যদি পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হন তাহলে কিছু চিকিৎসক রোগীকে দ্রুত কাজে ফিরিয়ে নিতে স্টেরয়েড দিয়ে থাকেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগীদের কয়েক মাস বা কয়েক বছর স্বল্পমাত্রায় স্টেরয়েড (দৈনিক ১০ মিলিগ্রামের কম) দেয়া হয়। যেসব রোগীর এনএসএআইডিতে কাজ করছে না, বিশেষ করে যেসব রোগীর এনএসএআইডি গ্রহণে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তাদের স্টেরয়েড দেয়া হতে পারে। 

প্রশ্ন : কিভাবে আমি স্টেরয়েডের সমস্যা এড়াতে পারি? 

উত্তর : বেশির ভাগ চিকিৎসক একমত হবেন যে আপনি খুব অল্প মাত্রায় এগুলো গ্রহণ করবেন যেন খুব অল্প সময়ের মধ্যে আপনার উপসর্গ চলে যায়।

আবার এসব ওষুধের ‘টেপার মাত্রা’র প্রয়োজন হয় অর্থাৎ এগুলো চূড়ান্তভাবে বন্ধ করার আগে মাত্রা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে হয়। এর কারণ হলো এগুলো আপনার শরীরের স্টেরয়েড উৎপাদন দমিয়ে রাখে। ধীরে ধীরে মাত্রা কমালে আপনার শরীর যথাসময়ে স্বাভাবিক স্টেরয়েড উৎপাদনের পর্যায়ে ফিরে আসে।

বেশির ভাগ চিকিৎসক তাদের রোগীদের আট থেকে ১০ সপ্তাহ স্টেরয়েড ব্যবহারের পর কিংবা সম্ভব হলে তারও আগে ধীরে ধীরে মাত্রা কমাতে শুরু করেন।

প্রশ্ন : কিভাবে একজন চিকিৎসক স্টেরয়েডের ঝুঁকি মনিটর করবেন?

উত্তর : নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, সম্পূর্ণ রক্তপরীক্ষা ও রক্তে চিনির মাত্রা বা ব্লাড সুগার দেখে সাধারণত একজন চিকিৎসক স্টেরয়েডের ঝুঁকি মনিটর করেন। কিছু চিকিৎসক হাড়ের ঘনত্ব দেখার জন্য মাঝে মধ্যে এক্সরে করান।

প্রশ্ন : স্টেরয়েড কি কেবল মুখেই গ্রহণ করতে হয়?

উত্তর : না। স্টেরয়েড সরাসরি যেকোনো প্রদাহযুক্ত অস্থিসন্ধিতে ইনজেকশন আকারে প্রয়োগ করা যেতে পারে এবং এতে প্রদাহ দ্রুত চলে যায় যাতে কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর ভালো থাকা যায়।

প্রশ্ন : মুখে স্টেরয়েড খাওয়ার চেয়ে কি ইনজেকশনের সুবিধা বেশি?

উত্তর : হ্যাঁ। ইনজেকশন স্টেরয়েড শরীরব্যাপী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটায় না যা মুখে খাবার স্টেরয়েড ঘটিয়ে থাকে, যেমন হাড় ক্ষয় হওয়া কিংবা শরীরে সংক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া। তবে অনেক চিকিৎসক এ ব্যাপারে সতর্ক যে একটি অস্থিসন্ধিতে এক বছরে তিনবারের বেশি ইনজেকশন দেয়া যাবে না। অন্যেরা অনুমোদন করেন প্রতি তিন মাসে একবারের বেশি ইনজেকশন না দেয়া। এর কারণ হলো ঘন ঘন ইনজেকশনে অস্থিসন্ধি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

ইনজেকশনের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে, তা হলো, স্টেরয়েড কখনো সংক্রমিত অস্থিসন্ধিতে প্রয়োগ করবেন না। কারণ এতে সংক্রমণ আরো খারাপ হতে পারে। স্টেরয়েড ইনজেকশন দেবার আগে অস্থিসন্ধি থেকে ফুইড নিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে হবে সেখানে কোনো সংক্রমণের চিহ্ন আছে কি না।