সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

ফ্রিজের খাবার থেকে সতর্ক থাকুন

প্রক্রিয়াজাত মাংস কিংবা এ ধরনের মাংসের তৈরি খাবার—যেমন সসেজ, বেকন, সালামি, হট ডগ হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তবে সপ্তাহে মাত্র এক টুকরো খেলে সেই ঝুঁকি থাকে না। আবার প্রতিদিন মাত্র ৫০ গ্রাম ওজনের এক টুকরো করে মাংস খেলে এ ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। সামপ্রতিক এক গবেষণায় মার্কিন বিজ্ঞানীরা প্রক্রিয়াজাত মাংসে নানা রোগের ঝুঁকি চিহ্নিত করেন।

তারা বলছেন, প্রক্রিয়াজাত মাংস না খেয়ে বরং টাটকা গরু, খাসি কিংবা শূকরের মাংস খেলে এ ঝুঁকি থাকে না। অথচ এ দুই ধরনের খাবারেই কোলেস্টেরল এবং চর্বির মাত্রা একই থাকে। তাই হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা প্রক্রিয়াজাত খাবারে মেশানো লবণ এবং সংরক্ষণ করার জন্য ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্যকেই মূলত দায়ী করছেন এ ঝুঁকির জন্য।

গবেষক দলের প্রধান রেনাটা মিচা বলেন, ‘প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং অপ্রক্রিয়াজাত মাংসের মধ্যে পুষ্টিগত উপাদানের দিকে দৃষ্টি দিলাম। দেখা গেল, উভয় মাংসেই দ্রবীভূত চর্বি এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা সমান। অন্যদিকে প্রক্রিয়াজাত মাংসে সোডিয়ামের পরিমাণ চারগুণ এবং নাইট্রেট প্রিজার্ভেটিভসের পরিমাণ ৫০ শতাংশ বেশি।’ এছাড়া বেশ আগে থেকেই লক্ষ্য করা গেছে, লবণ উচ্চরক্তচাপ বাড়ায়, যা হৃদরোগের ঝুঁকির জন্য দায়ী। প্রাণীদেহের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, খাদ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত নাইট্রেট জাতীয় উপাদানগুলো অ্যাথেরোস্লেরোসিস বাড়ায় এবং গ্লুকোজের প্রতি সহনীয়তা কমায়। এ কারণেই মূলত হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

আমেরিকার উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. রেজওয়ান ইসলাম বললেন, ‘উন্নত জীবনযাত্রার সঙ্গে তাল মেলাতে দ্রুত খাবার বানাতে গিয়ে আমরা সমপ্রতি প্রক্রিয়াজাত খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়ছি। এসব প্রক্রিয়াজাত খাবার সংরক্ষণ করার জন্য এগুলোতে বেশি পরিমাণ লবণ এবং কিছু রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো হয়। ফলে এসব খাবার খেয়ে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপজনিত রোগ-ব্যাধিসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।’ এ অবস্থায় তার পরামর্শ—‘প্রক্রিয়াজাত মাংস কিংবা খাবার কিছুটা সময় বাঁচালেও পরিণামে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি আমরা। তাই মূলত পশ্চিমা বিশ্বে আমরা বসবাস করলেও কিংবা পশ্চিমা বিশ্বের কাছ থেকে প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস গ্রহণ না করে বরং বাংলাদেশ, ভারত তথা আমাদের দেশের নিজস্ব খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা উচিত। এতে করে আমরা প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং খাবারের ক্ষতি থেকে বাঁচতে পারি।’

‘হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষক দল ১০টি দেশের প্রায় ১০ লাখেরও বেশি রোগীর ওপর পরিচালিত ২০টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিশ্লেষণ করে এ ফলাফল লক্ষ্য করেছেন। তাদের গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ‘সার্কুলেশন’ নামক বিজ্ঞান সাময়িকীতে। তারা লক্ষ্য করেন, দিনে ৫০ গ্রাম পরিমাণ প্রক্রিয়াজাত মাংস খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি ৪২ শতাংশ এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ১৯ শতাংশ বেড়ে যায়। এ প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ভিক্টোরিয়া টেলরের পরামর্শ—প্রক্রিয়াজাত মাংস না খেয়ে বরং কাঁচা মাংসে যদি একটু স্বাদ যোগ করতে চান, তবে বরং লবণের বদলে কিছু তাজা এবং শুকনো লতাগুল্ম, মসলা এবং মরিচ যোগ করেন।