সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

প্রস্টেট ভালো রাখবেন কিভাবে

প্রস্টেট গ্রন্থি মূত্রথলির সঙ্গে সংযুক্ত একটি গ্রন্থি। এই গ্রন্থটি শুধু পুরুষের থাকে। তাই প্রষ্টেট সমস্যা মানেই পুরুষের একটি  িবব্রতকর সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে প্রষ্টেট সমস্যা থেকে প্রস্টেট ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। তাই যাদের বয়স ৪০-৫০ পেরিয়েছে তাদের অবশ্যই বছরে অন্তত: দু’বার প্রস্টেট সম্পর্কে জানতে পিএসএ বা প্রস্টেট স্পেসিফিক এন্টিজেন পরীক্ষা করা উচিত।

পিএসএর মাত্রা অবশ্যই ৪ মাত্রার নীচে রাখতে হবে। পিএস এ ছাড়াও আল্ট্রাসনোগ্রাম করেও প্রস্টেটের অবস্থা জানা যায়। প্রখ্যাত ইউরোলজিস্ট বঙ্গবন্ু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এ সালামের মতে প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি ও সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। তার মতে প্রস্টেট ক্যান্সার অ্যাডভান্সড স্টেজে চলে গেলে তখন এর চিকিত্সা যেমন কঠিন তেমনি অত্যন্ত ব্যয় বহুল। প্রাথমিক অবস্থায় প্রস্টেট সমস্যা সনাক্ত হলে অতি সহজেই এর চিকিত্সা সম্ভব। তিনি বলেন প্রস্টেট ভালো রাখার জন্য সামান্য কিছু নিয়ম-নীতি মেনে চললেই হয়। যেমন: নিয়ন্ত্রিত মেলা মেশা, বহুগামিতা পরিহার, স্বাভাবিকের চেয়ে একটু কম পানি পান। যাদের পিএসএ স্বাভাবিক মাত্রায় থাকে তাদের পানি পানে কোন বাধা নেই।

তবে বয়সড় লোকদের দিনে ৬ থেকে ৮ গ্লাসের বেশী পানি পান না করলেও চলে। কারণ পানি যত বেশী পান করা হবে তত নির্গমন বেশী হবে। অধিক পানি পানে নির্গমনে অতিরিক্ত সমস্যার সৃষ্টি করে। অধ্যাপক সালামের মতে প্রস্টেট ক্যান্সার ছাড়াও প্রস্টেট বেড়ে যেতে পারে। এটাকে বলে বিপিএইচ বা বেনাইন প্রস্টেট হাইপারট্রফি বা ক্যান্সার ছাড়া প্রস্টেট বেড়ে যাওয়া। তার পরামর্শ প্রস্টেট সমস্যা প্রতিরোধ করতে হলে অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত প্রস্টেট চেকআপ করতে হবে। একজন অভিজ্ঞ ইউরোলজিস্ট শারীরিক পরীক্ষা করে (ডিজিটাল রেকটাল এক্সামিনেশন-ডিআরই) প্রস্টেট এর অবস্থা জানতে পারেন। তাই যাদের প্রস্টেস সমস্যা আছে তারা অবশ্যই কোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মনে রাখতে হবে প্রস্টেট সমস্যা প্রাথমিক অবস্থায় সনাক্ত হলে আক্রান্তের চিকিত্সা যেমন সহজ তেমনি জটিলতার ঝুঁকিও কম। অন্যথায় বিপদ হবার  সম্ভাবনা থেকেই যায়।