সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

পেশাসংশ্লিষ্ট অ্যাজমা রোগ

পেশাসংশ্লিষ্ট অ্যাজমা বলতে আমরা ফুসফুসের সেসব অসুখ বুঝে থাকি যেগুলোর উৎপত্তি হয় কর্মস্থলের ধোঁয়া, ধুলো, গ্যাস বা অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ করার মাধ্যমে। হতে পারে কর্মস্থলে গিয়ে কোনো কর্মী জীবনে প্রথম অ্যাজমাতে আক্রান্ত হন বা এমনও হতে পারে যে, তার কৈশোরকালে অ্যাজমা ছিল, পরবর্তী সময়ে তিনি সুস্থ ছিলেন এবং কর্মস্থলে এসে আবার আক্রান্ত হলেন। আবার কেউ কেউ মৃদু অ্যাজমার রোগী থাকেন কিন্তু কর্মস্থলে এসে তার অ্যাজমা মারাত্মক রূপ ধারণ করে।

অ্যাজমার উপসর্গের মধ্যে আছে শ্বাসকষ্ট, ছোট বা ঘন ঘন শ্বাস, বুকে চাপ অনুভূতি, কাজে কষ্ট এবং কাশি। সেই সাথে থাকতে পারে নাক থেকে অবিরত সর্দি ঝরা, নাক বন্ধ থাকা এবং চোখ জ্বালা করা। কারণ হতে পারে দুই ধরনেরÑ অ্যালার্জিজনিত ও অ্যালার্জিবহির্ভূত। সচরাচর এ ধরনের রোগ দীর্ঘস্থায়ী। এমনো দেখা গেছে, কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মী অ্যাজমায় আক্রান্ত হলে তাকে অন্যত্র বদলি করে দেয়ার পরও তার রোগ সারে না।

সচরাচর কর্মরত থাকা অবস্থায় রোগীর উপসর্গ দেখা যায়, সপ্তাহের ছুটির দিন সে ভালো থাকে, আবার সপ্তাহান্তে কাজে যোগ দিলে উপসর্গ বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া কর্মস্থলে হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনার মাধ্যমে গ্যাস বা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে কোনো কোনো কর্মী অ্যাজমাতে আক্রান্ত হতে পারেন। রোগীর ব্যক্তিগত বা পারিবারিক অ্যালার্জি সংক্রমণের ইতিহাস থাকলে তার পেশাসংশ্লিষ্ট অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। ধূমপায়ী কর্মীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। তা ছাড়া যে কর্মী যত বেশি সময় ক্ষতিকর উপাদানগুলোর মধ্যে কাজ করবেন, তার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও তত বেড়ে যাবে। তবে দুর্ঘটনাজনিত গ্যাস লিক বা ক্ষতিকর উপাদানের দ্বারা আক্রান্ত হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাজমা হতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী অ্যাজমায় আক্রান্ত রোগকে অনেক সময় ব্রঙ্কাইটিস ভেবে ভুল করা হয়। যদি পেশাসংশ্লিষ্ট অ্যাজমা রোগীকে তাড়াতাড়ি শনাক্ত করা সম্ভব না হয় এবং তাদেরকে যদি শিগগির ক্ষতিকর বিভাগ থেকে বদলি না করে দেয়া হয় তাহলে তা ফুসফুসে স্থায়ী রোগের সৃষ্টি হয়, যা পরে আরোগ্য হয় না বললেই চলে। রোগের হার  উন্নত দেশগুলোতে পেশাসংশ্লিষ্ট অ্যাজমা রোগটি অন্য সব পেশাগত রোগের চেয়ে বেশি। এ ব্যাপারে পরিপূর্ণ পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া যায়নি। তবে আমেরিকার মোট অ্যাজমা রোগীদের শতকরা ১৫ জন পেশাসংশ্লিষ্ট অ্যাজমার রোগী।

বিভিন্ন কারখানায় এই রোগে আক্রান্তদের হার ভিন্ন ভিন্ন। যেমন বলা যায়, ডিটারজেন্ট ফ্যাক্টরির কথা। এখানে ওয়াশিং পাউডার তৈরি করার জন্য যে এনজাইম ব্যবহার করা হয় তা গলাধঃকরণ করার ফলে শতকরা ২৫ জন কর্মীই শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হয়। পশুপালন ল্যাবরেটরি ও গ্লোভ তৈরির কারখানার কর্মীদের শতকরা পাঁচজন অ্যাজমায় আক্রান্ত। পেইন্ট, তাপরোধক, প্লাস্টিক, রাবার এবং ফোম ফ্যাক্টরিতে বহুল ব্যবহৃত একটি উপাদান হচ্ছে আইসোসায়ানেট। এসব কারখানার কর্মীদের শতকরা ১০ জন অ্যাজমাতে আক্রান্ত হন।

রোগের কারণ  পেশাসংশ্লিষ্ট অ্যাজমা রোগের কারণ প্রধানত তিনটি। সেগুলো হচ্ছে : সরাসরি ইরিটান্ট এফেক্ট বা বিষাক্ত ফলাফল : পেট্রোলিয়াম ও রাসায়নিক কারখানাতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে হাইপ্লোকোরিক এসিড, সালফার ডাই অক্সাইড এবং অ্যামোনিয়া। এগুলো সরাসরি অ্যাজমা রোগের কারণ। এগুলোর সংস্পর্শে এলে কর্মীরা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তবে যেহেতু এই গ্যাসগুলো সরাসরি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আক্রমণ করে না, সে কারণে এগুলোকে অ্যালার্জি উৎপাদক বলা চলে না। যেসব কর্মী আগে থেকেই অ্যাজমা বা শ্বাসতন্ত্রের অন্য কোনো রোগে ভুগছেন, তাদের জন্য এগুলো ক্ষতিকর।

অ্যালার্জি (দীর্ঘস্থায়ী সংস্পর্শ)  পেশাসংশ্লিষ্ট অ্যাজমা রোগ সৃষ্টিতে অ্যালার্জির ভূমিকা প্রমাণিত। এই ধরনের অ্যাজমার উৎপত্তি হয় দীর্ঘ সংস্পর্শের কারণে। শরীরে কোনো অ্যালার্জি উপাদান প্রবেশ করলে শরীর তার এন্টিবডি তৈরিতে সময় নেয় অনেক দিন। যেমন ওয়াশিং পাউডার তৈরির কারখানার কর্মীদের অ্যালার্জি সংক্রমণ ঘটে ব্যাসিলাস সাবাটিলিস নামের ব্যাকটেরিয়ার এনজাইমের কারণে।  ফার্মাকোলজিক্যাল পদ্ধতি  এরোসলের মাধ্যমে কোনো রাসায়নিক বস্তু সরাসরি শরীরে প্রবেশ করে রোগসৃষ্টি করতে পারে। যেমন হিস্টাসিন ও এসিটাইলকোলিন। এগুলো ফুসফুসে প্রবেশ করে অ্যাজমা সৃষ্টি করতে পারে। যেমন, কৃষকেরা যে কীটনাশক ব্যবহার করেন, তাতে এসিটাইলকোলিন থাকে। এটি শ্বাসতন্ত্রের মাংসপেশিকে সঙ্কুচিত করে। ফলে শ্বাসতন্ত্রের বায়ু চলাচলের পথ সংবর্ধন হয়ে যায়।