সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

পুরুষ বন্ধ্যত্বের কারণ

বন্ধ্যত্ব কাকে বলে: প্রাপ্তবয়স্ক কোনো  নর-নারী যুগল দীর্ঘ এক থেকে দুই বছরকাল যদি একসাথে সহাবস্থানে থেকে যথাযথ সময়ে স্বাভাবিক যৌনকর্ম চালিয়ে যায় কোনোরূপ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির কৌশল ছাড়া, আর এ সময়ের মধ্যে যদি ওই যুগলের নারী গর্ভধারণ না করে তবে তাদের বন্ধ্যত্ব বলে।

 

ডব্লিউএইচও সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে কোনো দম্পতি বিয়ের পর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার না করে স্বাভাবিক মেলামেশায় এক বছরের মধ্যে যদি গর্ভবতী না হন তাকেই বন্ধ্যত্ব বা ইনফারটিলিটি বলে।

বন্ধ্যত্ব সমস্যাটি নারী-পুরুষ  দু’জনেরই হতে পারে; আর তা পৃথিবীর সব দেশেরই একটা সমস্যা। আজ আমি আলোকপাত করব পুরুষ বন্ধ্যত্ব নিয়ে। তাই আমাদেরও জানা দরকার বন্ধ্যপুরুষ সম্বন্ধে।

যে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ কম করে এক বছরের অধিককাল প্রাপ্তবয়স্ক ও সন্তানদানে সক্ষম এমন কোনো নারীর সাথে যথাযথভাবে এবং উপযুক্ত সময়ে কোনো প্রকার জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বা নিয়ন্ত্রণ কৌশল ছাড়াই সহবাস করে সন্তানদানে অক্ষম হন, তবে তাকেই বন্ধ্য পুরুষ বলা যেতে পারে।

পুরুষের এ বন্ধ্যত্ব দুই ধরনের হতে পারে।

১. প্রাইমারি: চির বন্ধ্যত্ব, জন্মগত কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণে।

২. সেকেন্ডারি: এক-দু’টি সন্তানদানের পর কোনো রোগের কারণে, ওষুধের অভ্যাসের কারণে অথবা কোনো দুর্ঘটনার পর আর সন্তানদানে সক্ষম না হলে।

যে কারণে বন্ধ্যত্ব হতে পারে

  • এজুস্পারমিয়া বা স্পার্ম না থাকা
  • জন্মগতভাবে অণ্ডকোষ না থাকা
  • বীর্যের বা শুক্রের ত্রুটি থাকলে
  • বীর্যবাহী নালী যদি বন্ধ থাকে বা না থাকে
  • পুরুষের প্রজনন অঙ্গে আঘাত পেলে
  • প্রজনন অঙ্গে অস্ত্রোপচার হলে
  • এন্ডোক্রাইন গ্রন্থির যেমন থাইরয়েড গ্রন্থি ঠিকমতো কাজ না করলে, পিটুইটারির কাজ কম হলে
  • শুক্রকীটের ক্রোমোজম ঠিকমতো না থাকলে
  • টেসটিস থেকে সুস্থ শুক্রকীট যদি নির্গত না হতে পারে তাহলে বন্ধ্যত্ব হয়ে থাকে বা পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা থাকে না।
  • সিস্টেমেটিক বা সহযোগী যেসব কারণ এসে সহযোগিতা করে থাকে এবং কারো ক্ষেত্রে প্রথম সন্তান হওয়ার পর ও দ্বিতীয় সন্তান আর আসে না বা সেকেন্ডারি বন্ধ্যত্বের সুযোগ তৈরি করে দেয়Ñ
  • ডায়াবেটিস মেলিটাস যদি থাকে তবে অক্ষমতা আসতে পারে।
  • দীর্ঘ সময় কঠিন কোনো রোগে ভুগলে।
  • কালাজ্বরে ভুগলে, ম্যালেরিয়ার, টাইফয়েড, বসন্ত হলে।
  • গনোরিয়া থাকলে।
  • সিফিলিস থাকলে।
  • হাইড্রোসিল বা একশিরা হলে।
  • ফাইলেরিয়া থাকলে।
  • মাম্পস অরকাইটিস।
  • প্রস্টেট গ্রন্থি প্রদাহ।
  • জেনিটাল হার্পিস।

অভ্যাসগত : পুরুষ সন্তান মায়ের গর্ভাবস্থায় জীবনযাত্রার ওপরও নির্ভর করে সন্তানের যৌনক্ষমতা 

  • ওই সময় মায়ের যতœ
  • মা যদি অতিমাত্রায় বিষাক্ত টক্সিনের সংস্পর্শে থাকেন।
  • ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য বা মদ্যপান স্পার্মের মান নিম্ন করে দেয়।
  • যারা সিনথেটিক এবং অতিমাত্রায় টাইট আন্ডারওয়্যার পরেন, অণ্ডোকোষের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে।
  • ষযারা দীর্ঘ সময়ে আগুনের কাছে কাজ করে বা অতি তাপমাত্রায় কাজ করেন।
  • নেশাজাতীয় ওষুধ নেয়া
  • মৃগী রোগের ওষুধ
  • হাইপ্রেসারের ওষুধ ও লোকোয়ালিটি স্পার্ম করে।
  • অতিমাত্রার ক্ষতিকর ক্যামিক্যাল শরীরে প্রবেশ করলে
  • ঊরুর ওপর ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করা।
  • অতি স্থূলতা
  • পুরুষাঙ্গ দৃঢ় না হওয়া
  • সহবাসে সক্ষম না হওয়া
  • কামেচ্ছা না থাকা
  • সঙ্গম জ্ঞান না থাকা
  • স্পার্ম কমে যাওয়া
  • বীর্য কমে যাওয়া
  • পুরুষাঙ্গের সাইজ স্বাভাবিক না থাকা। উপরিউক্ত কারণগুলো মারাত্মকভাবে একজন পুুরুষের বন্ধ্যত্বের জন্য দায়ী।

চিকিৎসা

কিনিক্যাল পরীক্ষা : 

পুরুষের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত দিক, অতীত, বর্তমান অবস্থা, আর্থিক সঙ্গতি, কাজের ধরন, অতীত রোগের ইতিহাস, বর্তমানে যৌন সমস্যা ছাড়া কোনো রোগে ভুগলে তার ধরন এবং চিকিৎসা। স্ত্রীর সাথে আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের দিক বোঝাপড়া, সঙ্গ জ্ঞান, বংশে বন্ধ্যত্ব কেউ ছিল কি না, সঙ্গমে কোনো ধরনের অক্ষমতা, বর্তমানে পুরুষাঙ্গের কোনো ত্রুটি আছে কিনা, ধূমপান, মদ্যপান, ক্ষতিকর ওষুধ, তামাকজাত অন্যান্য দ্রব্য নিচ্ছে কিনা ভালোভাবে জানতে হবে। পুষ্টির অভাব, টিবি বা যক্ষ্মা আছে কিনা।

ল্যাব টেস্ট : 

  • সিমেন অ্যানালাইসিস ষ টেস্টোস্টেরন
  • প্রোল্যাকটিন ষ ব্লাড সুগার, ভিডিআরএল