সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

পুরুষের না বলা সমস্যা

পুরুষের না বলা সমস্যাবিবাহিত জীবন নারী-পুরুষের জন্য এক পরম ও চরম সুখকর সময়। এটি যৌবনের রূপায়ণে ও পরিস্ফুটনে বলতে গেলে এক লিগ্যাল অনুমোদনপত্র। আর এ পবিত্র সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার মূল চাবিকাঠি হলো- সুস্বাস্থ্য, প্রেম ও অটুট যৌবন। এর যেকোনো একটির অভাব হলে দাম্পত্য কলহের সূত্রপাত হয়। পরিণতিতে ঘটে বিয়েবিচ্ছেদ। তবে এর সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো বিয়ে-পরবর্তী ভীতি। যে কারণে ঘটে স্ত্রী সহবাসে অপারগতা অর্থাৎ পুরুষত্বহীনতা। তাই সচেতনতা এবং এর সত্যিকার প্রতিকার প্রয়োজন।

পুরুষত্বহীনতা : এটি পুরুষের এক বিশেষ অক্ষমতা, যে কারণে যৌনকার্যে ব্যর্থতা ঘটে। অর্থাৎ পুরুষত্বহীনতা বলতে যৌনকার্যে অক্ষমতাকেই বোঝায়। ইংরেজিতে এবং ডাক্তারি ভাষায় একে বলা হয় ইমপোটেন্সি।

পুরুষত্বহীনতার কারণ : এর আছে অনেক কারণ। তবে প্রধান প্রধান কারণগুলো হলো

* মানসিক- দুশ্চিন্তা, টেনশন ও মানসিক অবসাদ * বিয়ে-পরবর্র্র্র্র্র্র্র্র্তী ভীতি * বয়সের পার্থক্য-কম বা বেশি * সেক্স পার্টনারকে অপছন্দ-মুখশ্রী, দেহসৌষ্ঠব ও ত্বক * শারীরিক দুর্বলতা * ডায়াবেটিস * যৌন রোগ-প্রধানত সিফিলিস * সেক্স-হরমোনের ভারসাম্যহীনতা * যৌন রোগ বা এইডস ভীতি * অণ্ডকোষের অরগ্যানিক সমস্যা * লিভারের অরগ্যানিক সমস্যা * নিওরোপ্যাথি * ভাসকুলার প্যাথলজি * প্রোস্টেট  বা সেমিন্যাল ভেসিকল প্যাথলজি * সেক্স এডুকেশনের অভাব এবং সেক্স আসন সম্বন্ধে অনভিজ্ঞতা।

পুরুষত্বহীনতার শ্রেণী বিভাগ : পুরুষত্বহীনতাকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন Ñ

১। ইরেকশন ফেইলিউর : অর্থাৎ সহবাসে লিঙ্গের উত্থানে ব্যর্থতা।

২। পেনিট্রেশন ফেইলিউর : সহবাসে যোনিদ্বার ছেদনে ব্যর্থতা।

৩। প্রি-ম্যাচুর ইজাকুলেশন : সহবাসে স্থায়িত্বের অভাব।

উল্লিখিত তিনটি শ্রেণীর মধ্যে ‘প্রি-ম্যাচুর ইজাকুলেশন’ সবচেয়ে কমন।

ল্যাব-পরীক্ষা : ল্যাব-পরীক্ষাই রোগটির সঠিক চিকিৎসার মূল চাবিকাঠি। অত্যাবশ্যক পরীক্ষাগুলো নিম্নরূপ:

  • রক্তের সুগার, ভিডিআরএল টেস্ট এবং এইচবিএসএজি পরীক্ষা।
  • রক্তের সেক্সহরমোন অ্যানালাইসিস এবং ক্যামাইডিয়েল অ্যান্টিবডি পরীক্ষা।

চিকিৎসা : সঠিক কারণ শনাক্ত করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হরমোন চিকিৎসা, মনোচিকিৎসা বা সার্জারির উপদেশ দেন। প্রয়োজনে স্বামী-স্ত্রী দু’জনের একসাথে চিকিৎসা নিতে হয়।

দেখা যায়, উঠতি বয়সের যুবকেরা হাতুড়ে ডাক্তারের খপ্পরে পড়ে বা স্বেচ্ছায় বিভিন্ন ওষুধের দোকানে গিয়ে হরমোন ইনজেকশন নেয় বা ভুয়া ওষুধ সেবন করে। এটি মোটেই কাম্য নয়। কারণ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত সত্যিকারভাবে পুরুষত্বহীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা যায়, যা থেকে আরোগ্য লাভ খুবই কষ্টকর। অতএব সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করে নিজকে সুস্থ করুন এবং সুদৃঢ় ভালোবাসায় বিবাহিত জীবনকে মধুময় করে তুলুন।