সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

পান

পানপান লতানো গাছ এবং ডাটা শক্ত, পাতা তিন-আট ইঞ্চি লম্বা, বট পাতার মতো অগ্রভাগ সরু এবং বৃন্তদেশ হৃদপিণ্ডাকৃতি পাতায় সাতটি শিরা আছে বলে একে সপ্ত শিরা বলা হয়। অনেক রকমের পান আছে, যেমনÑ বাংলা পান, সাঁচিপান, মিঠাপান। বিভিন্ন প্রকার পানের বিভিন্ন রকম স্বাদ রয়েছে। তবে পান সাধারণত তিক্ত এবং ঝাল স্বাদযুক্ত হয়ে থাকে। মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত পানের ফুল ও ফল হয়ে থাকে।

পান সাধারণত বরজ আকারে চাষ করা হয়। পানের বরজ বাঁশ, নারিকেল পাতা ও পাটকাঠি দিয়ে তৈরি করা হয়। পান চাষের জন্য উঁচুস্থান ও দোঁআশ মাটির প্রয়োজন হয়।

পান বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমারসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে হয়ে থাকে।

কার্যকর জৈব রাসায়নিক উপাদান

পানের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো বিভিন্ন প্রকার উদ্বায়ী তেলের সমন্বয়ে গঠিত পানের তেল। পানের তেলে যেসব উদ্বায়ী তেল পাওয়া যায় তা হলোÑ

২- মিমাইল-৫- বাইসাইক্রো হেক্সো-২ আইন, আলফা পেনিন, বিটা-ফেলেনড্রিন, বিটা-মাইক্রিন, আলফা-ফেনেনড্রিন। মিথাইল-৪-১,৪ সাইকোক্সোডিন, ২-সেরিন, ৪-(২ প্রোপাইল) ফেনল Copaene সেফিকল, কোডিনিন ইত্যাদি।

এ ছাড়া প্রোটিন ৩.১%, কার্বোহাইড্রেড- ৬.৯%, মিনারেলস ২.৩%, টেনিন ২%, কটু দ্রব্য ০.৭ থেকে ২.৬%, ফসফরাস, লৌহ, আয়োডিন ভিটামিন বি, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ আছে।

পানের ব্যবহার

এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পানে বিদ্যমান উদ্বায়ী তেল এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

এন্টিবায়োটিক হিসেবেÑ ইউপি রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ডিলিশন কুইজেনসিটি ও সেন্ট লুইস ইউনিভার্সিটির এক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, পানের নির্যাসে বিদ্যমান উদ্বায়ী তেল, স্টাফাইলোকক্কাস এরিয়াস স্ট্রেপটোকক্কাস পিওজেনস নামক ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর।

এন্টি ফাঙ্গাল হিসেবে এক গবেষণায় দেখা গেছে, পানের নির্যাস ক্যান্ডিভা এলবিকাস নামক ছত্রাকনাশক হিসেবে কাজ করে।

দাঁতের সম্প্যায়- দাঁতের মাড়ির দূষিত ক্ষতে পুঁজ জমতে থাকলে পানের রসের সাথে অল্প পানি মিশিয়ে কুলকুচি করলে দাঁতের গোড়ায় পুঁজ জমে না।

দাঁদ সমস্যায়-পুরাতন দাঁদ, চামড়াÑ চুলকানিতে পানের রস ঘষে দিলে কয়েক দিনেই এই অবস্থার অবসান হয়।

কানের পুঁজ-কানের পুঁজ পানের রস গরম করে দুই-এক ফোঁটা করে কানে দিলে কানের পুঁজ কমে যায়।

উকুননাশক পানের পাতার রস মাথায় লাগালে তা উকুননাশক হিসেবে কাজ করে।

শিশুর শ্বাসকষ্ট- পান পাতার রস একটু গরম করে সরিষার তেলের সাথে মিশিয়ে বুকে মালিশ করলে শিশুর কফ ও শ্বাসকষ্ট দূর হয়।

শ্বাস কাশ দূর করতে এক চা চামচ পান পাতা, আদা ও তুলসী পাতার রস এক চা চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে সেবন করলে সব ধরনের কফ ও শ্বাসকষ্ট দূর হয়।

মাথাব্যথায় পান পাতার রস দুই-তিন ফোঁটা করে নাকে দিলে মাথাব্যথা দূর হয়।

খুশকি দূর করতে পান পাতা বেটে মাথায় মাখলে খুশকি দূর হয়।

অস্টিওপরোসিস দূর করতে ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ পান পাতা নিয়মিত চিবালে অস্টিওপরোসিস থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

মুখের দুর্গন্ধে পান পাতা মুখের দুর্গন্ধ দূর করে।

জন্মনিয়ন্ত্রক হিসেবে পানের শিকড় বেটে খেলে তা গর্ভনিরোধক হিসেবে কাজ করে।

এ ছাড়া পান পাতা কাম ও স্নায়ু উদ্দীপক, কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম, বাতব্যথা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর।

সতর্কতা অনেকে পান পাতার সাথে জর্দা খেয়ে থাকেন, জর্দার কারণে ক্যান্সার হয়ে থাকে। তাই পান চিবানোর সময় জর্দা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

Category: দাত