সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

পানি পান করুন খালি পেটে

পানি পান করুন খালি পেটেকথায় আছে, ‘খালি পেটে জল, আর ভরা পেটে ফল।’ খালি পেটে পানি পান করার অভ্যাস আমাদের অনেক রোগবালাই থেকে মুক্ত রাখে। এখন তো শীতকাল চলছে। শীতকালে অনেকের পেট জ্বালাপোড়া কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠেই পানি পান করুন, দেখবেন শীতকালটা শরীরের জন্য ভালো কাটবে। এমনিতেই প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে পানি পান করা শরীরের জন্য খুব উপকারী।

রাতের ঘুম শেষে উঠে খালি পেটে পানি পান করুন। যতটুকু পারবেন ততটুকুই পান করুন। মাথাব্যথা, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, আর্থ্রাইটিস, মৃগীরোগ, স্থূলতা, ব্রংকাইটিস, হাঁপানি, কিডনি সমস্যা, গ্যাস্ট্রাইটিস, ডায়রিয়া, পাইলস, ডায়াবেটিস, কোষ্ঠবদ্ধতা, চোখের রোগ, নাক ও গলার রোগসহ ঋতুস্রাবজনিত সমস্যাগুলোতেও পানি পান করার অভ্যাস খুবই উপকারী।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে খালি পেটে পানি পান করা একটি জনপ্রিয় স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি। ভারতে প্রাচীন যোগগুরু বা ঋষিরা তাদের সাধনায় খালি পেটে পানি পান করাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে স্থান দিয়ে এসেছেন। জাপানেও চিকিত্সা পদ্ধতি হিসেবে খালি পেটে পানি পান করা বহুল প্রচলিত। তবে এই পানি পান একটু নিয়ম মেনে করলে শরীরের জন্য আরও ভালো হবে। প্রতিদিন সকালে দাঁত ব্রাশ করার আগে চার গ্লাস পানি পান করুন। দাঁত ব্রাশের পর ৪৫ মিনিট পর্যন্ত কিছুই খাবেন না। এর পর স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া করুন। বৃদ্ধ অথবা দুর্বল, যারা সকালে চার গ্লাস পানি পান করতে অসমর্থ, তারা ধীরে ধীরে পানি পানের পরিমাণটা বাড়িয়ে নিতে পারেন।

নিয়মিত পানি পান করলে অনেক উল্লেখযোগ্য রোগের বিপরীতে স্বস্তি পাবেন। উচ্চরক্তচাপের ক্ষেত্রে নিয়মিত ৩০ দিন, গ্যাস্ট্রিকের ক্ষেত্রে ১০ দিন, ডায়াবেটিসে ৩০ দিন, কোষ্ঠকাঠিন্যে ১০ দিন এভাবে পানি পান করা আপনাকে উপকার দেবে নিশ্চিতভাবেই। এছাড়া আর্থ্রাইটিস রোগে আক্রান্তরা প্রথম সপ্তাহে তিন দিন এবং দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন পানি পান করতে থাকুন। এভাবে পানি পান করায় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই।

পানি পান করাকে প্রাত্যহিক জীবনযাপনের অংশ করে নিন, আগের থেকে নিজের শরীরকে লাগবে অনেক ফুরফুরে। চীনারা খাবারের সঙ্গে কিন্তু ঠাণ্ডা পানির বদলে গরম চা পান করে। খাওয়ার পরপরই ঠাণ্ডা পানি তৈলাক্ত খাদ্যকে কঠিন করে তোলে, পরিপাকক্রিয়াকেও করে তোলে ধীর। খাওয়ার পর তাই স্যুপ বা হালকা গরম পানি পানই অপেক্ষাকৃত নিরাপদ। তাই সুস্থ থাকতে নিয়মিতভাবে খালি পেটে পানি পান করার চর্চাটা চালিয়ে যেতে থাকুন, ফলাফল নিজেই অনুভব করতে পারবেন।