সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

ধনুষ্টংকার রোগ

টিটেনাস বিষয়ে কম বেশি আমরা সবাই বেশ সচেতন। একটু কেটে গেলেই এর ভ্যাকসিন নেয়ার প্রবণতা যেন সর্বজনস্বীকৃত। কিন্তু আমরা কি জানি বিভিন্ন দুর্ঘটনা থেকে জীবনঘাতী এমন রোগের সৃষ্টি হতে পারে? যেমন- 

  • ত্বকে ঘর্ষণজনিত ক্ষত থেকে
  • মানুষের কামড় বা জীবজন্তুর দংশনে
  • দূষিত যন্ত্র দিয়ে অস্ত্রোপচার করলে
  • মায়ের জরায়ুতে ভ্রƒণের মৃত্যু হলে
  • হাড় ভেঙে চর্মভেদ করে বেরোলে
  • দূষিত সিরিঞ্জ দিয়ে ইনজেকশন নিলে
  • ত্বকে দীর্ঘ দিনের কিংবা দুর্গন্ধজনিত ঘা থাকলে
  • প্রসবকালীন দূষিত উপায়ে নাড়ি কাটলে অথবা ছাই, মাটি ইত্যাদি দিয়ে নাভি আবৃত করলে।

হয়তো মনে প্রশ্ন জাগবে যে, টিটেনাস হলে বোঝার উপায় কী? হ্যাঁ, এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রারম্ভিক উপসর্গ হলো ‘মুখে বিদ্যমান মেসেটার নামক মাংসপেশির খিঁচুনি’ যার ফলে মুখ খুলতে এবং কোনো কিছু চিবাতে কষ্ট হয়। মাংসপেশির সঙ্কোচন ধীরে ধীরে মুখ, ঘাড় ও ধড়ে বিস্তৃত হয়। তীব্রতা অনুযায়ী খিঁচুনি কয়েক সেকেন্ড থেকে ৩-৪ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে যা অনৈচ্ছিক, বেদনাদায়ক ও অত্যন্ত কান্তিদায়ক।

প্রতিরোধে করণীয়

  • শিশুদের অবশ্যই নিয়মমতো টিকা দেয়া
  • গর্ভবতী মায়েদের ১৬-২০ সপ্তাহে একটি এবং ২০-২৪ সপ্তাহে আরো একটি করে মোট দুটো টিটেনাস টক্সোয়েড ইনজেকশন নেয়া। এই দু’মাত্রার মধ্যকার সময় হতে হবে অন্তত এক মাস। পরে আবার গর্ভবতী হলে সে ক্ষেত্রে একটি বুস্টার ডোজ যথেষ্ট, যা পাঁচ বছর প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে।

প্রসবকালীন তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া
এক. সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে তারপর স্পিরিট কিংবা অন্য কোনো অ্যান্টিসেপটিক লোশন লাগানো।
দুই. প্রসবের স্থান জীবাণুমুক্ত রাখা।
তিন. জীবাণুমুক্ত যন্ত্র দিয়ে নাভি কেটে বিশুদ্ধ সুতো দিয়ে সেটি বাঁধা এবং কাটা নাভির গোড়ায় নিয়মমতো স্পিরিট ব্যবহার করা।
ষ সন্তানধারণ বয়সী মেয়েদের পাঁচ ডোজ টিটেনাস টক্সোয়েড ইনজেকশন দেয়া, যেমন
এক. ১৫ বছরে পা দেয়ার পর প্রথম ডোজ
দুই. প্রথম ডোজের এক মাস পর দ্বিতীয় ডোজ
তিন. দ্বিতীয় ডোজের ছয় মাস পর তৃতীয় ডোজ
চার. তৃতীয় ডোজের এক বছর পর চতুর্থ ডোজ
পাঁচ. চতুর্থ ডোজের এক বছর পর পঞ্চম ডোজ।