সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

দুধ, মিউকাস এবং কাশি

আমরা ভাত মাছ গোশতসহ কত কি-না খাবার খেয়ে থাকি তেমনি একটি খাবার দুধ। কিছু রোগী অভিযোগ করেন যে, দুধ খেলে তাদের সর্দি হয়, গলায় অস্বস্তি হয় এবং কাশি হয়। কেন এসব ঘটে?

প্রত্যেকের শরীরে মিউকাস আছে : মিউকাস তৈরি হয় পানি, লবণ এবং বিভিন্ন প্রোটিনের সংমিশ্রণে। মিউকাসের কাজ হচ্ছে জীবাণু আটক করা এবং ুদ্র ধুলাকণার প্রবেশ রোধ করা। এ ছাড়া ব্যাকটেরিয়ারোধী এনজাইম এবং প্রোটিন, যাদের এন্টিবডি বলা হয়, তা-ও জীবাণু ধ্বংস করে শরীরকে সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচায়। মিউকাস তৈরি হয় নাক, সাইনাস এবং ফুসফুসের কোষ থেকে। উৎপন্ন মিউকাস এরপর প্রসারিত হয় গলার পেছনের দেয়ালের দিকে। তখন মানুষ তা গলাধঃকরণ করে।

মিউকাস থেকে অস্বস্তির সৃষ্টি হতে পারে : বেশি পরিমাণে তৈরি হলে মিউকাস নাক দিয়ে ঝরে অথবা গলার পেছনে গিয়ে জমা হয়। তখন তাকে বলা হয় ‘নাকের পেছনের ফোঁটা’। ইনফেকশন এবং অ্যালার্জির কারণে অতিরিক্ত মিউকাস উৎপন্ন হয়। তখন তা কাশি, গলা ব্যথার উদ্রেক করে এবং স্বর কর্কশ হয়ে যায়।

ঘন এবং শুকনো মিউকাস গলায় সব সময় অস্বস্তি তৈরি করে এবং এটি পরিষ্কার করা কঠিন। বয়স্ক লোকদের শুকনো মিউকাস বেশি দেখা যায়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, ঘরে ফায়ার প্লেস রেখে ঘর গরম করা বা সেন্ট্রাল হিটিং সিস্টেম, শরীরে পানির পরিমাণ কমে যাওয়া প্রভৃতি কারণে মিউকাস শুকনো হয়ে যায়। এন্টিহিস্টামিন, হতাশারোধী ওষুধ এবং উচ্চরক্তচাপরোধী ওষুধের কারণেও শুকনো মিউকাসের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

দুধ ও মিউকাস : কিছু লোক অভিযোগ করেন যে, দুগ্ধজাত দ্রব্য খাওয়ার পরে তাদের গলায় যেন একটি স্তর পড়ে যায়, মিউকাস ঘন হয়ে যায় এবং গিলতে কষ্ট হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে এসব ঘটে দুধের ঘনত্বের কারণে। বেশি মিউকাস তৈরির কারণে নয়। এই উপসর্গগুলোর সাথে গরুর দুধের অ্যালার্জির কোনো মিল নেই।

দুধের কারণে মধ্যকর্ণের কোনো অসুবিধা হয় না : মধ্যকর্ণের প্রদাহ বা ওটাইটিসমিডিয়া শিশুদের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ রোগ। অ্যালার্জি আক্রান্ত শিশুরা (হে ফিভার) এই রোগে আরো বেশি ভোগে।

অ্যালার্জির প্রদাহ হলে নাকের ভেতরের কোষগুলো ফুলে যায়। ‘ইউস্ট্যাসিসোন টিউব’-এর মুখ বন্ধ হয়ে যায় ফলে মধ্যকর্ণ থেকে ড্রেনেজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বদ্ধ পুকুরের পানির মতো মধ্যকর্ণেও ইনফেকশন বেশি হয়।

যেসব শিশুদের গরুর দুধ খেলে অ্যালার্জি হয়, তাদেরও এই ইনফেকশন বেশি হয়। এর কারণ এই নয় যে, দুধ ইনফেকশন তৈরি করে। বরং কারণটি হচ্ছে অ্যালার্জি আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে ইনফেকশনের প্রবণতা বেশি।

দুগ্ধজাত খাদ্য বাদ দিলে অ্যাজমা বা অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের কোনো উপকার হয় না : অ্যাজমা এবং অ্যালার্জিক রাইনাইটিস (হে ফিভার) সচরাচর বৃদ্ধি পায় পুষ্পরেণু, ধুলোর জীবাণু, ছত্রাক প্রভৃতির দ্বারা। দুগ্ধজাত খাদ্য খুব কমই ভূমিকা পালন করে। যখন তা ঘটে, তখন সাথে থাকে অ্যালার্জির আক্রমণ। এই ধরনের রোগীর শরীরে র‌্যাশ খুব বেশি হয়, গলা এবং জিহ্বা ফুলে যায় এবং রক্তচাপ খুব কমে যায়।

কিছু দিন আগে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, ফুসফুসের ক্ষমতার ওপর দুধের কোনো প্রভাব নেই। রোগী দুধ খাওয়ার পর কাশির অভিযোগ করে তখনই, যখন সে ঠাণ্ডা বাতাসের মধ্যে দুধ খায়। দুধকে গরম করে নিলে তখন আর কোনো অসুবিধা থাকে না।