সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

দরকারী : রোজার নানা উপকারিতা

চিকিত্সা বিজ্ঞানের জনক ডা. হিপোক্রেটিস বহু শতাব্দী আগে বলেছেন, The more you nourish a deseased body, the worse you make it. অর্থাত্ অসুস্থ দেহে যতই খাবার দেবে, ততই রোগ বাড়তে থাকবে। রোজা একজন মানুষের শুধু পাকস্থলী বা হৃিপণ্ডকে সক্রিয়ই রাখে না; বরং অন্য প্রায় সব রোগের জন্যও যথেষ্ট উপকারী।

মস্তিষ্কের কার্যক্রম পরিচালনায় : রোজা মস্তিষ্কের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অধিক খাদ্য গ্রহণে শরীরের ওপর যেমন চাপ বৃদ্ধি পায়, তেমনি এই চাপ মস্তিষ্কের ওপরও পড়ে। এজন্যই বলা হয়, Empty stomuch is the powerhouse of knowledge. ‘ক্ষুধার্ত উদর জ্ঞানের আধার’।

কোলেস্টেরল কমায় : মানবদেহে চর্বি ও কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে হৃদরোগ, রক্তচাপ, বহুমূত্র রোগসহ নানা জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। রোজা চর্বি বা কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে নিরাপদ রাখে।

লিভার ও কিডনির ক্ষেত্রে : কিডনির মাধ্যমে শরীরে প্রতি মিনিটে ১-৩ লিটার রক্ত সঞ্চালিত হয়। খারাপ পদার্থগুলো মূত্রথলিতে প্রেরণ করে। রোজাবস্থায় কিডনি ও লিভার বিশ্রাম পায়। ফলে এ সময়ে অঙ্গ দুটি বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে।

ডায়াবেটিস রোগে রোজা : বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। আর ডায়াবেটিস রোগীর জন্য রোজা যথেষ্ট উপকারী। কারণ রোজা অবস্থায় ডায়াবেটিস রোগীর দেহে উপকারী বহু ইনসুলিন তৈরি হয়।

ধূমপান ও নেশাজাতীয় দ্রব্য পরিহার : রোজার জন্য সব ধরনের ধূমপান ও নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন বন্ধ থাকে। ফলে মানুষের দেহে জটিল রোগ যেমন—ক্যান্সার, হার্ট-স্ট্রোক, ব্রেইন স্ট্রোকসহ বহু জটিল রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

রোজা নিয়ে চিকিত্সক ও মনীষীদের উক্তি
বিশ্ববিখ্যাত চিকিত্সক ইবনে সিনা রোগী দেখার সময় প্রথমেই রোগীকে ৩ সপ্তাহের জন্য উপবাস বা রোজা থাকতে বলতেন। রোজা বা উপবাস থাকলে পেটে গোলমাল থাকে না।

পণ্ডিত বিদ্যাসাগর কাশ্মীরি বলেন, ‘রোজা পালন পৃথিবীর সব উপবাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।’ মহাত্মা গান্ধী বলেন, ‘যদি তোমরা শরীরকে সতেজ ও সচল রাখতে চাও তা হলে শরীরকে ন্যূনতম আহার দাও এবং পূর্ণদিবস রোজা রাখ’।

হেনরি মূর বলেন, মানুষের চরিত্র গঠনে রোজা খুবই ফলদায়ক ব্যবস্থা। বিখ্যাত চিকিত্সক ডা. এমারসন বলেন, রোজা মানুষের মনের ওপর দারুণ প্রভাব পড়ে। যেমন—কর্মে মনোযোগ আসে, পশুত্ব দূরীভূত হয়, সমাজ গঠনে সহায়তা করে।

ইমাম গাজ্জালী (রহ.) বলেন, সিয়াম মুসলমানদের কেবল পরকালের মুক্তির পথ দেখায় না, নৈতিক চরিত্র গঠনেও এর দারুণ ভূমিকা রয়েছে।