সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

ডায়াবেটিস এবং এক্সারসাইজ

ডায়াবেটিস রোগ নিয়ে ভুগছে না এমন পরিবারের সংখ্যা দিনে দিনে কমে আসছে। যদি এমন পরিবারের সদস্য না হয়ে থাকেন তবে আপনি ভাগ্যবানদের একজন বলাই যায়, কেননা এই ডায়াবেটিস ধীরে ধীরে শরীরের প্রধান প্রধান অঙ্গকে আক্রমণ করে।

আমাদের টার্গেট হবে, যদি ডায়াবেটিস হয়েও যায় তবু রক্তে গ্লুকোজের লেভেল মেইন্টেইন করে একে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা। কেননা, রক্তে গ্লুকোজ স্বাভাবিক থাকলেই আমরা এসব সমস্যাকে কমিয়ে রাখতে পারব। শারীরিক ব্যায়াম এই ব্যাপারে খুব ভালো ভূমিকা পালন করে। যদি রেগুলার ব্যায়াম করা যায়, তবে ডায়াবেটিসকে বেশ ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে-ব্যায়াম কীভাবে করা যেতে পারে, আর এটা আসলে কীভাবেই বা কাজ করে? যেভাবে করা যেতে পারে ব্যায়াম

প্রত্যহ সকালে বা বিকালে (অথবা দিনের কোনো একটা অংশে (চাকরিজীবীদের জন্য ঠিক সময় তারা নিজেরাই বের করতে পারবেন) ৪৫ থেকে ৬০ মিনিট করে হাঁটা বা দৌড়ান যেতে পারে। এই সহজ ব্যায়ামই সব ডায়াবেটিক সমস্যাকে থামিয়ে রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। আর শুধু ডায়াবেটিসই নয়, হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য এর উপরে আর কিছু নেই।

যেভাবে কাজ করে
এটা বেশ ইন্টারেস্টিং। প্রথম জানতে হবে ডায়াবেটিস এ কি হয়। এখানে ইনসুলিনের অভাবে রক্তের গ্লুকোজ কোষের ভেতরে ঢুকতে পারে না, তাই রক্তে গ্লুকোজ এর পরিমাণ বেড়ে যায়। আর রক্তের গ্লুকোজ কোষের ভেতরে যেতে GLUT নামের সারফেস প্রোটিন কাজ করে, যেটার অনেকগুলো টাইপ রয়েছে এবং এর সবগুলো টাইপই কাজ করতে সরাসরি ইনসুলিনের ওপর নির্ভরশীল শুধু GLUT 4 কাজ করে ব্যয়ামের মাধ্যমে। যখন মানুষ শারীরিক শ্রম করে তখন এই গ্লুট ৪ এর মাধ্যমে রক্তের গ্লুকোজ কোষের ভেতরে ঢুকে যায়। এভাবেই ব্যায়ামের মাধ্যমে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে গিয়ে ডায়াবেটিসের কমপ্লিকেশান হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

ব্যয়াম নিয়ে নতুন তথ্য
কিভাবে এক্সারসাইজ করলে ডায়াবেটিস ভালো নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং হার্টের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে? এ সম্পর্কিত ব্যয়াম নিয়ে একদম নতুন রিসার্চ এ বলা হয়েছে-
— ইন্টারভেল এক্সারসাইজ অর্থাত্ বিরতিপূর্ণ ব্যায়াম চলমানভাবে ব্যায়ামের থেকে ভালো। চলমান ব্যায়াম বলতে বলা হয়েছে, হাঁটা বা দৌড়ানোর ক্ষেত্রে একই গতিতে বা একইভাবে চলা। আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এভাবেই ব্যায়াম করে থাকি, কিন্তু নতুন রিসার্চে বলা হচ্ছে, গতির তারতম্যের মাধ্যমে ডায়াবেটিস এবং হার্টের স্বাস্থ্যকে আরও ভালো রাখা সম্ভব।

এজন্য হাঁটা বা দৌড়ানোর ক্ষেত্রে ৫ মিনিট একটু জোরে যেতে হবে, পরবর্তী ৫ মিনিট একটু ধীরে, অনেকটা স্বাভাবিক হাঁটার মতো। আবার পরবর্তী ৫ মিনিট জোরে। এভাবে ৪৫ থেকে ৬০ মিনিট ব্যয়াম করতে হবে ।
কীভাবে এই বিশেষ ব্যায়াম কাজ করে?

যখন আমরা স্বাভাবিকভাবে হাঁটি তখন আমাদের ব্রেন, হার্টের নার্ভাস সিস্টেম একটা সিঙ্ক্রোনাইজেশানের ভেতরে কাজ করে। হঠাত্-ই যখন কোনো গতির পরিবর্তন হয় তখন আমাদের ব্রেন এবং নার্ভাস সিস্টেমে পরিবর্তন আসে। প্যারাসিমপ্যাথেটিক সিস্টেম ডাউন রেগুলেটেড হয়ে, সিমপ্যাথেটিক সিস্টেম আপ রেগুলেটেড হয়। ফলে মাংস পেশি রেত রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়। হার্ট দ্রুত কাজ করে আর কোষে GLUT 4 রেগুলেটারি প্রোটিন আপ রেগুলেটেড হয়ে রক্তের গ্লুকোজকে কোষের ভেতরে নিয়ে যায়।

এভাবেই কাজটা হয় কিন্তু একই গতিতে গেলে সাধারণত কাজটা একবারই হয়। আর ইন্টারভেল মেথডে ব্যায়াম করলে এটা প্রতিবার গতির পরিবর্তনের সঙ্গে হয়ে থাকে। ফলে কিছু মাস পর আমরা ডায়াবেটিসকে আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রিত আকারে পাই। আর সবচেয়ে বড় যে ব্যাপারটা তা হলো- এতে বারবার গ্লুট ৪ ডাউন এবং আপ রেগুলেটেড হওয়ার কারণে কিছু মাস পর থেকে কোষের ইনসুলিন সেনসিটিভিটিও বাড়তে থাকে। অর্থাত্ অন্যান্য গ্লুটপ্রোটিনগুলোও আস্তে আস্তে কাজ করা শুরু করে।