সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

ডায়াবেটিসে চোখের পাওয়ার

ডায়াবেটিসের সাথে চোখের পাওয়ারের একটা সরাসরি যোগ রয়েছে। রক্তে শর্করা বৃদ্ধি বা কমার ফলে চোখের পাওয়ারও সাময়িকভাবে বাড়তে পারে বা কমতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে চোখের অ্যাকুয়াস হিউমারেও শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে চোখের ভেতরে থাকা লেন্সে আস্রাবন বা অসমোটিক পরিবর্তন হয়। এতে লেন্সের মধ্যে পানি ও চিনি বেশি করে প্রবেশ করে লেন্সটি পুরু হয়ে যায়। এর ফলে লেন্সের পাওয়ার আগের চেয়ে বৃদ্ধি পায়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় মায়োপিক শিফট। এই অবস্থায় অর্থাৎ বেশি মাত্রার অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে রোগী হঠাৎ করে দূরের বস্তু ঝাঁপসা দেখতে শুরু করে। উল্টো দিকে যারা আগে নিকটে পড়ালেখা করতে পারতেন না, তারা হঠাৎ করেই নিকটে দেখতে পারেন এবং কেউ কেউ ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বলে থাকেন, তার চোখের পাওয়ারের উন্নতি হয়েছে। যেসব ডায়াবেটিস রোগীর চশমা পরার প্রয়োজন হয় এবং প্রায়ই রক্তের শর্করা বেড়ে বা কমে যায়, তারা প্রায়ই চু চিকিৎসকের শরাণাপন্ন হন।

অন্য দিকে যেসব রোগী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য ইনসুলিন ব্যবহার করেন, তাদের বেলায় মাঝে মধ্যে উল্টো ঘটনা ঘটে। তারা যদি কোনো কারণে বেশি ইনসুলিন নিয়ে ফেলেন বা প্রচণ্ড শারীরিক পরিশ্রম করে ফেলেন, তখন হঠাৎ করে আগের চশমা দিয়ে আর নিকটের কাজ যেমন লেখাপড়া করতে অসুবিধা হয়। এখানে অতিরিক্ত ইনসুলিন ইনজেকশন দেয়ার ফলে রক্তের শর্করা আগের চেয়ে অনেক কমে যায় এবং অ্যাকুয়াস হিউমারেও চিনির পরিমাণ কমে যায়। এই অবস্থায় অসমোটিক পরিবর্তনের মাধ্যমে লেন্স থেকে পানি ও চিনি বেরিয়ে আসে। ফলে লেন্সের পাওয়ার আগের চেয়ে কমে যায়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে চোখের পাওয়ার সাময়িকভাবে বাড়তে বা কমতে পারে বিধায় চু চিকিৎসকেরা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার পরই চোখের পাওয়ার পরীক্ষার উপদেশ দিয়ে থাকেন। একই কারণে ডায়বেটিস রোগীদের শরীরে কোনো প্রদাহ থাকলে বা মানসিক চাপ থাকলেও চশমার পাওয়ার দেয়া ঠিক নয়, তাতে প্রদত্ত পাওয়ার শিগগিরই পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকে।

ডায়াবেটিস রোগীদের একটি বিশেষ পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। তা হচ্ছে, চোখে সামঞ্জস্যকরণ বা অ্যাকোমোডেশন। বৈজ্ঞানিক ওয়েট ও বিথাম তারে ২০-৫০ বছর বয়স্ক ডায়াবেটিস রোগীদের পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, সম বয়সের নন-ডায়াবেটিস রোগীর তুলনায় অন্তত ২১ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগীর অ্যাকোমোডেশনের দুর্বলতা রয়েছে। অ্যাকোমোডেশন হচ্ছে দূরের চেয়ে কাছে দেখার বেলায় লেন্সের পাওয়ার বাড়ানোর প্রক্রিয়া। ৪০-৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত চোখের ভেতরের সিলিয়ারি মাংসপেশির সঙ্কোচনের ফলে লেন্সের সাসপেলারি লিগামেন্ট ঢিলা হয়, লেন্সের সামনের তল এগিয়ে যায়, লেন্সটি পুরু হয়ে যায় এবং এর রিফ্যাক্টিভ পাওয়ার বাড়িয়ে দেয়।

চোখের মধ্যে এই প্রক্রিয়া ৪০-৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত সম্পূর্ণ সচল থাকে। যার কারণে স্বাভাবিক লোকের কাছে দেখার জন্য চশমার প্রয়োজন হয় না। ডায়াবেটিস রোগীর শতকরা ২১ ভাগের এই অ্যাকোমোডেশনের দুর্বলতা দেখা দিলে তাদের ৪০ বছর বয়সের আগেই কাছে দেখার জন্য পাওয়ার দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এই জন্যই বলা হয় চালশে বা প্রেসবায়োপিয়া ডায়াবেটিস রোগীদের সময়ের অনেক আগে শুরু হয়ে যেতে পারে। প্রেসবায়োপিয়া হলে সাধারণ রোগীদের ২-১ বছর পরপর চোখের পাওয়ারের পরিবর্তন করা হয়ে থাকে। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের বেলায় তা ৬ মাস বা এক বছর পরপর পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।