সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

ডায়াবেটিস রোগ এবং পায়ের যতন

health.masudkabir.comডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ বর্তমান পৃথিবীতে অতি পরিচিত রোগ, যা ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে। শরীরে অগ্ন্যাশয়ের বিটা বা বি কোষ হতে তৈরি হয় ইনসুলিন হরমোন, যা রক্তের মাধ্যমে কোষে প্রবেশ করে ও দহনের মাধ্যমে শক্তি জোগায়। বিটা কোষ এ ইনসুলিন তৈরিতে ব্যর্থ হলে বা এর কার্যকারিতা নষ্ট হলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায় ও তা নিয়ন্ত্রণ না করলে বিভিন্ন রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। কারণ কোষ শক্তি সঞ্চালনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্লুকোজ পায় না।

ডায়াবেটিস প্রধানত দুই ধরনের

টাইপ-১ ডায়াবেটিস : এ ক্ষেত্রে অগ্ন্যাশয়ে ইনসুলিন তৈরি হয় না বা হলেও তা খুব সামান্য, যার ফলে রোগীকে ইনসুলিন গ্রহণ করতে হয়। সাধারণত শিশু ও কম বয়সে বাচ্চাদের এ রোগ বেশি হয়।

টাইপ-২ ডায়াবেটিস : এ ক্ষেত্রে অগ্ন্যাশয়ের তৈরিকৃত ইনসুলিন সঠিকভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হয়। সাধারণত ৪০ ঊর্ধ্ব ব্যক্তিরা এতে বেশি আক্রান্ত হয়। নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে একে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আরো এক ধরনের ডায়াবেটিস যা শুধু গর্ভকালীন সময়ে হতে পারে।

ডায়াবেটিস নিরাময় করা যায় না, একে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সুন্দর জীবন গড়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু যদি কেউ একে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন তাহলে তিনি জড়িয়ে পড়বেন বিভিন্ন প্রকার জটিল সমস্যায়। উল্লেখযোগ্য হলোÑ হৃদরোগ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, করনারি হার্টডিজিস, কিডনি বিকল হয়ে যাওয়া, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া ও ছানি পড়া, পায়ে ক্ষত সৃষ্টি, পচন, পা চলাচলের শক্তি হারিয়ে ফেলা, স্নায়ুদুর্বলতা ইত্যাদি। এ সব জটিলতার ফলে রোগী সহজেই মৃত্যুর দিকে পতিত হয়।

পায়ের উপসর্গগুলো

(১) পায়ের পাতা স্বাভাবিকের চেয়ে গরম অনুভব হওয়া যা কি না স্নায়ুদুর্বলতার সাথে জড়িত।

(২) স্বাভাবিকের চেয়ে পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, যা রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে হয়ে থাকে।

(৩) পায়ের চামড়া বিবর্ণ বা ফেকাসে হয়ে যাওয়া।

(৪) স্পর্শ অনুভূতি বা ঠাণ্ডা গরম অনুভূতি কমে যাওয়া বা না থাকা।

(৫) পায়ে নাড়ি চলাচল কম অনুভব হওয়া বা না পাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া।

(৬) পায়ে কোনো আঘাত পেলে বা সামান্য একটু কেটে গেলে সহজে ভালো না হওয়া এবং আরো জটিল আকার ধারণ করা।

(৭) ক্ষত সৃষ্টি হওয়া যা কি না ব্যথা অনুভব হতে পারে।

(৮) মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া। পা ফুলে যাওয়া, যা কি না কিডনি বা লিভারের সমস্যার কারণে হতে পারে। সাথে মুখ বা হাতও ফুলা দেখা যেতে পারে।

(৯) ক্ষত স্থানে পরে পচন শুরু হওয়া।

এসব উপসর্গ দেখা দিলে শিগগিরই বিশেষজ্ঞের পরমার্শ নিন।

পায়ের যতন কীভাবে নেবেন

(১) নিয়মিত শরীরচর্চা ও হাঁটার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

(২) সব সময় পা পরিষ্কার রাখুন ও নখের গোড়ালি বা কোনায় ময়লা জমতে দেবেন না।

(৩) পা শুকনা রাখুন।

(৪) শীতে বা গরমে পা শুষ্ক হলে লোশন বা যেকোনো তেল ব্যবহার করুন।

(৫) হাঁটা চলার সময় অবশ্যই আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করুন। উঁচু হিলের জুতা ব্যবহার চলবে না।

(৬) দীর্ঘ সময় পা ঝুলিয়ে বসবেন না বা একভাবে দাঁড়িয়ে থাকবেন না। এতে মাংসপেশিতে অবসাদ আসতে পারে।

(৭) কোনো প্রকার আঘাত বা ব্যথা পেলে তা যত ছোটই হোক না কেন তুচ্ছ না মনে করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন এবং তা নিয়ন্ত্রণ করুন।

(৮) নিজের দৈহিক ও মানসিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করুন প্রয়োজনে ফিজিওথেরাপিস্টের শরণাপন্ন হোন। তিনি আপনাকে শরীর ও মনের শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

(৯) চার্ট অনুযায়ী বা চিকিৎসকের পরামর্শে খাবার গ্রহণ করুন ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে সবজির দিকে নজর দিন ও শরীরের ওজন কমান।

পায়ে রক্ত চলাচল কমে গেলে বা দুর্বল অনুভব হলে নিম্নোক্ত টিপসটি মেনে চলুন :

– সোজা হয়ে শুয়ে পা ছড়িয়ে দিন

– ধীরে ধীরে দুই পা উপরে তুলুন ও ধরে রাখুন (কোমর হতে ৪৫০ কোণ হতে বিছানা হতে) এভাবে ২-৩ মিনিট ধরে রাখুন। প্রথমে না পারলে ধীরে ধীরে চেষ্টা করুন।

– এরপর আবার সোজা হয়ে শুয়ে বিশ্রাম (১-২) মিনিট

– অতপর পা মেঝেতে রেখে বসে থাকুন (১-২) মিনিট।