সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

শিশুদের ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা

ডায়রিয়াদিনে তিন-চারবার পাতলা পায়খানা হলে তাকে ডায়রিয়া বলে। ডায়রিয়া সব বয়সে হতে পারে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এ রোগ ভয়াবহ রূপ নেয়। ছোট শিশুদের বয়স ছয় মাস থেকে দুই বছরের মধ্যে বিশেষ করে যাদের পুষ্টি কম, তাদের মধ্যে পাতলা পায়খানা বেশি দেখা যায় আর বেশি বিপজ্জনক হয়।

আমাদের দেশে শিশু মৃত্যুহারের অন্যম প্রধান কারণ ডায়রিয়া। কারণ এ রোগের কারণে শিশুর শরীরের পানি পাতলা পায়খানার সাথে বের হয়ে যায় এবং পানিস্বল্পতার কারণে শিশু মারা যায়।

ছয় মাসের কম বয়সের যেসব শিশুকে গরুর দুধ, টিনের গুঁড়োদুধ বা অন্য বাইরের দুধ দেয়া হয়; সেসব শিশুর ডায়রিয়া বেশি হয় যাদের বোতলে করে দুধ দেয়া হয়। যে শিশু মায়ের দুধ খায় তাদের নরম পায়খানা হয় সেটা ডায়রিয়া নয়।

পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়ার প্রধান প্রধান কারণ

  • দূষিত পানি ও খাবার খেলে ডায়রিয়া হয়।
  • অন্ত্রে জীবাণু সংক্রমণ অ্যামিবা বা জিয়ারডিয়া
  • বিভিন্ন ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ।
  • দুধ হজম করতে না পারা (সাধারণত শিশু ও বয়স্ক লোকের হয়)। এই ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হয়।
  • শিশুদের নতুন ধরনের খাবার হজম করার অসুবিধা।
  • এমপিসিলিন বা টেট্রাসাইকিনের মতো কয়েকটি ওষুধ।
  • বেশি কাঁচা ফল ও তৈলাক্ত খাবার খাওয়া।
  • হাত ভালো করে না ধুয়ে খেলে হাতের ময়লা খাবারের সাথে পেটে গিয়ে ডায়রিয়া হয়।

চিকিৎসা

ডায়রিয়া হলে বারবার ওরস্যালাইন দেয়া হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে রাইস ওয়াটার ও জিঙ্ক সিরাপ দেয়া হয়।

শরীরের পানির অভাব এড়ানোর জন্য পানির মতো পাতলা খাবার, যেমন নারকেলের পানি, গ্লুকোজের শরবত, চিনির শরবত, ফলের শরবত, চিঁড়ার পানি, ভাতের পানি ইত্যাদি।

এর সাথে সাথে স্বাভাবিক খাবার দিতে হবে; শিশুদের ক্ষেত্রে মায়ের দুধ অবশ্যই দিতে হবে।

মারাত্মক ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে

  • স্যালাইনের মাধ্যমে রিনগার স্যালাইন, কলেরা স্যালাইন ওরস্যালাইন দিতে হবে।
  • ভাইরাসের জন্য ডাইরিয়া হলে কোনো ওষুধ দেবো না।

ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে বড়দের জন্য টেট্রাসাইকিন 500mg ৬ ঘণ্টা পর তিন দিন পর্যন্ত, ছোটদের জন্য কোট্রাইমক্সাজল 480mg ১২ ঘণ্টা পর পাঁচ দিন, ইরাইথ্রোমাইসিন 250mg ৬ ঘণ্টা পর পর সাত দিন

প্রতিরোধ

  • পরিষ্কার পানি ও পরিষ্কার খাবার খেতে হবে।
  • সব সময় খাওয়ার আগে এবং টয়লেট থেকে বের হয়ে হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।
  • ধুলোবালু আর মাছির হাত থেকে খাবার রক্ষা করতে হবে।
  • শিশুদের বোতলের দুধ না খাইয়ে বুকের দুধ খাওয়ান। শিশুকে এক বছর ছয় মাস পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।
  • যখন শিশুকে কোনো নতুন বা শক্ত খাবার দিতে শুরু করবেন, প্রথমে খুব অল্প পরিমাণে আর ভালো করে চটকে একটু বুকের দুধ মিশিয়ে দেবেন।
  • বুকের দুধ হঠাৎ বন্ধ করবেন না। যখন সে বুকের দুধ খাচ্ছে, সেই সময়ই তাকে অন্য খাবার অল্প করে খাওয়াতে শুরু করবেন।
  • শিশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জায়গায় রাখুন। সে যাতে নোংরা জিনিস মুখে না দেয় সেই চেষ্টা করুন।
  • শিশুকে অকারণে ওষুধ দেবেন না।