সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

ট্যারা চোখ বা স্কুইন্ট কারণ ও প্রতিকার

আমাদের চুগোলকের চার পাশে কিছু মাংসপেশি রয়েছে, যা স্নায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে চোখের অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করে। ডান পাশের পেশি সঙ্কুচিত হলে চোখ ডান দিকে যায়, বাম পাশের পেশি সঙ্কুচিত হলে চোখ বাম দিকে যায়। স্বাভাবিক অবস্থায় কোনো পেশির সঙ্কোচন না হলে চোখের অবস্থান সোজা থাকে। কোনো কারণে স্নায়ু দুর্বলতা অথবা সরাসরি কোনো পাশের মাংসপেশির দুর্বলতার কারণে চোখের অবস্থানের ভারসাম্যহীনতা ঘটে, ফলে চোখ উল্টো দিকে বেঁকে যায়। একে ট্যারা চোখ বলা হয়।

কারণ কী?
সন্তান ডেলিভারির সময় বিলম্বিত হলে অথবা বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে চোখে আঘাতের কারণে চোখ ট্যারা হতে পারে। এ েেত্র ট্যারা চোখের সাথে জন্মগত ছানি রোগও থাকতে পারে।

  • যেসব শিশুর পাওয়ারজনিত দৃষ্টিস্বল্পতা বা রিফ্রাকটিভ ইরর রয়েছে, তাদের চোখ মাঝে মাঝে এবং পরবর্তী সময়ে স্থায়ীভাবে ট্যারা হতে পারে।
  • যেসব শিশুর চোখের ভেতর জন্মগত-গঠনগত পরিবর্তন থাকে, তারা ট্যারা চোখ নিয়ে জন্ম নিতে পারে, অথবা বয়স বাড়ার সাথে সাথে চোখ ট্যারা হতে পারে।
  • চোখের আঘাতজনিত কারণে যেকোনো বয়সে চোখ ট্যারা হতে পারে।
  • চোখের মাংসপেশিকে নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ু দুর্বল হয়ে গেলে অনিয়ন্ত্রিত মাংসপেশি চোখের স্বাভাবিক অবস্থান ধরে না রাখার কারণে চোখ ট্যারা হয়ে যেতে পারে। সাধারণত ডায়াবেটিস, ভাইরাসজনিত স্নায়ুরোগ, মায়েসথেনিয়া গ্রেভিস, মস্তিষ্কের রক্তরণ, মস্তিষ্কের টিউমার ইত্যাদির কারণে স্নায়ু দুর্বল হয়।
  • পাঁচ বছরের ছোট শিশুদের েেত্র চোখের ক্যান্সার বা রেটিনো ব্লাসটোমাতে অন্যান্য উপসর্গের সাথে প্রাথমিকভাবে চোখ বাঁকা হতে পারে।

ট্যারা চোখের সমস্যা

  • বাঁকা চোখের ভেতর দিয়ে আলোকরশ্মি চোখের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ ম্যাকুলায় যেতে পারে না বিধায় চোখের কার্যমতা আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যায়। একে এমব্লায়োপিয়া বা অলস চোখ বলা হয়। সাধারণত ১২ বছরের আগে বাঁকা চোখের ত্বরিত চিকিৎসা না করালে শিশুদের এমব্লায়োপিয়া হতে পারে।
  • স্নায়ুদুর্বলতার কারণে চোখ বাঁকা হলে রোগী একটি জিনিসকে দু’টি দেখতে পারে। একে ডিপ্লোপিয়া বলা হয়। ডিপ্লোপিয়ার কারণে রোগীর দৈনন্দিন কর্মজীবন মারাত্মকভাবে বিঘিœত হয়।
  • ট্যারা চোখের রোগীদের অনেক সামাজিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এদের অস্বাভাবিক মনে করে স্কুলে অন্য শিশুরা তাদের সাথে সহজে মিশতে চায় না, এতে মানসিকভাবে শিশু দুর্বল হয়ে পড়ে। বিবাহযোগ্য ছেলেমেয়েরা ট্যারা চোখ নিয়ে বেশ বিপাকে পড়ে। দৃষ্টিকটু বিধায় তাদের সামাজিক সমস্যায় পড়তে হয়।

চিকিৎসা

  • শিশুদের েেত্র চোখ ট্যারা হলে দেরি না করে চোখ পরীা করিয়ে নেয়া বাধ্যতামূলক। চশমা দিয়ে দৃষ্টিস্বল্পতার চিকিৎসা করালে অনেক েেত্র (বিশেষ করে একোমোডেটিভ ইসোট্টোপিয়া এবং ইনটারমিটেন্ট এক্সোট্টপিয়াতে) চোখ সোজা হয়ে যায়।
  • ডাক্তারের পরামর্শে প্রিজম নামক স্বচ্ছ লেন্স ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক বাঁকা চোখ সোজা হয়।
  • অপারেশনের মাধ্যমেও ট্যারা চোখ সোজা করা যায়। মাংসপেশির কিছু অংশ কেটে অথবা না কেটে সুবিধাজনক স্থানে আবার সেলাই করে লাগিয়ে দেয়া হয়। এতে নতুন করে চোখের ভারসাম্য তৈরি হয় বলে চোখ সোজা হয়ে যায়।

মনে রাখবেন

  • সামান্য বাঁকা চোখ দেখতে সুন্দর দেখায় বলে আমরা একে লক্ষ্মীট্যারা বলে থাকি। লক্ষ্মীট্যারা চোখের ভেতর দিয়ে আলো সোজাসুজি চোখের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ ম্যাকুলায় পৌঁছতে পারে না বিধায় কিছু কিছু েেত্র আস্তে আস্তে সেই চোখের দৃষ্টি কমে চোখ অলস হয়ে যায়। সাধারণত প্রিজম বা চশমা দিয়ে এর চিকিৎসা সম্ভব।
  • এমব্লায়োপিয়া বা অলস চোখজনিত দৃষ্টিস্বল্পতা প্রতিরোধে অবশ্যই ১০-১২ বছর বয়সের আগেই ট্যারা এবং লক্ষ্মীট্যারা চোখের চিকিৎসা প্রয়োজন।
  • সব ট্যারা চোখে দৃষ্টিস্বল্পতা হয় না। যাদের দুই চোখ ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বাঁকা হয় বা যাদের অল্টারনেট স্কুইন্ট থাকে, তাদের েেত্র সাধারণত দৃষ্টিস্বল্পতা হয় না।
  • সব ট্যারা চোখের অপারেশন দরকার হয় না। শুধু যাদের চশমা অথবা প্রিজম দিয়ে চোখ সোজা হয় না, সে েেত্র অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে।
  • অপারেশনের পর কয়েক দিন ডিপ্লোপিয়া থাকলেও পরে তা ঠিক হয়ে যায়।
  • শিশুদের রেটিনোব্লাসটোমা বা চোখের ক্যান্সারের কারণেও চোখ ট্যারা হতে পারে। সুতরাং অবহেলা না করে অবশ্যই ট্যারা চোখের শিশুদের চুবিশেষজ্ঞের মাধ্যমে চোখ পরীা করা উচিত।
  • অপারেশনের মাধ্যমে সব ট্যারা চোখ সোজা করা যায় না। কেবল পরীা-নিরীার মাধ্যমেই অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
  • প্রাপ্তবয়স্কদের হঠাৎ করে চোখ বাঁকা হলে অবশ্যই দেরি না করে চুরোগ বিশেষজ্ঞ এবং স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।
  • বেশির ভাগ ট্যারা চোখের চিকিৎসা সম্ভব। সুতরাং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে ট্যারা চোখবিষয়ক জটিলতা থেকে চোখকে রা করা যায়।
Category: চোখ