সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

জেনে রাখা ভালো : এন্টিবায়োটিক কেন কাজ করে না

গ্রিক শব্দ ‘এন্টি’ ও ‘বায়োস’ থেকে ‘এন্টিবায়োটিক’ শব্দটি এসেছে। এন্টি অর্থ বিপরীত ও বায়োস অর্থ জীবন। মূলত এন্টিবায়োটিক জীবিত ব্যাকটেরিয়া তথা অণুজীবের বিপরীত কাজ করে। যেসব রোগ সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়, তা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময়ের জন্য এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। এজন্য ভাইরাসজনিত রোগের বিপরীতে এন্টিবায়োটিক কার্যকরী নয়। এক জীবাণুর বিরুদ্ধে যেমন সব এন্টিবায়োটিক কাজ করে না, তেমনি সব জীবানুর বিরুদ্ধে একই এন্টিবায়োটিক কাজ করে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস-২০১১ এর উপপাদ্য বিষয় ছিল—জীবাণুনাশকের অকার্যকারিতা ও এর বিশ্বব্যাপী বিস্তার। অর্থাত্ সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এন্টিবায়োটিকের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কমিয়ে আনা।

এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বলতে বোঝায় এন্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাওয়া। কোনো বিশেষ জীবাণুর জন্য যেসব গুণাবলী ওষুধে থাকার কথা তা ঠিক রয়েছে এবং তা সঠিকভাবে সংরক্ষণও করা হয়েছে কিন্তু সবকিছুর পরও ওই জীবাণুর বিপক্ষে এটি আর কাজ করতে পারছে না! কারণ চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়াই বিনা প্রয়োজনে যখন তখন এন্টিবায়োটিক সেবন।

এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার যখন ঠিকমত হয় না অর্থাত্ সঠিক ডোজ না হওয়া বা সঠিক এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার না করা বা প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার করা। তখন জীবাণু সেই এন্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে এমন কিছু পরিবর্তন নিজের মাঝে আনে সেজন্য আর ওই এন্টিবায়োটিক কার্যকরী হয় না। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, একটা বা একজন মানুষের শরীরের জীবাণুতে যে পরিবর্তন আসে, একটা এলাকার সব জীবাণুতেই কি সেই পরিবর্তন আসবে? এলেও তা কীভাবে? এর উত্তর হচ্ছে, সেই পরিবর্তনটি এলেই হবে।

কেননা, যে জীবাণু নিজের জেনেটিক কোডে পরিবর্তন এনে রেজিস্ট্যান্ট হয়, সেই জীবাণু বিভিন্নভাবে অন্য জীবাণুর মাঝে এই জেনেটিক কোড ছড়িয়ে দিতে পারে অথবা একটি এক্সট্রা জেনেটিক কোড ছড়িয়ে দিতে পারে পরিবেশে, পরবর্তী সময়ে পরিবেশের অন্যান্য জীবাণু সেই কোড গ্রহণ করে রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যেতে পারে।

আমাদের করণীয়
WHO-এর বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০১১ অনুযায়ী—
— ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্রে উল্লিখিত ডোজ ও সময় অনুসারে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করুন।
— ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন কোন এন্টিবায়োটিক দেয়া হয়েছে।
— সর্দি-কাশি এবং আধিকাংশ ডায়রিয়ার চিকিত্সায় এন্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না, এর জন্য তরল পানীয় ও বিশ্রামই যথেষ্ট।
— অতীতে অসুস্থতার জন্য দেয়া এন্টিবায়োটিক চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া আবার ব্যবহার করা যাবে না।