সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

ঘাড়ে বাতজনিত সমস্যা

ঘাড়ে বাতের ব্যথা সর্বদা ঘাড়ের পেছনে অনুভূত হয়, কখনোই ঘাড়ের সামনের দিকে অনুভূত হবে না। ব্যথা তীব্র হলে তা কাঁধে ও বাহুর পেছনের দিকে কনুই পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। কখনো কখনো ব্যথা হাতে ও আঙুলে ছড়িয়ে পড়ে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের হাড় ও কার্টিলেজে কিছু পরিবর্তন ঘটতে থাকে, যার কারণে ঘাড়ে বাতের সমস্যা হয়। চিকিৎসা পরিভাষায় তাকে বলে সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস।

এ ক্ষেত্রে যে পরিবর্তনগুলো হয় তা হলো :

পানিশূন্য ডিস্ক

ডিস্কগুলো আপনার মেরুদণ্ডের কশেরুকার মাঝখানে কুশনের মতো কাজ করে। ৪০ বছর বয়সে বেশির ভাগ লোকের মেরুদণ্ডের ডিস্কগুলো শুকাতে শুরু করে এবং কুঁচকে যায়। ফলে একটি হাড়ের সাথে আরেকটি হাড়ের ঘষা লাগে।

ডিস্ক সরে যাওয়া

এটাকে বলে হার্নিয়াটেড ডিস্ক। এটাও বয়সের কারণে হয়। ডিস্ক স্ফীত হয় বা বের হয়ে আসে; ফলে সুষু¤œাকাণ্ড ও স্নায়ুমূলে চাপ পড়ে।

বোন স্পার

ডিস্ক ক্ষয় হয়ে গেলে সেখানে ছোট ছোট হাড় তৈরি হয়, কখনো কখনো এই হাড়গুলোকে বোন স্পার বলা হয়। এই বোন স্পারগুলো মাঝে মাঝে সুষু¤œাকাণ্ড ও স্নায়ুমূলে খোঁচা দেয়।

লিগামেন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া

লিগামেন্টগুলো হলো টিস্যু দিয়ে তৈরি কর্ড বা দড়ি, যা একটি হাড়কে আরেকটি হাড়ের সাথে সংযুক্ত করে। বয়স বাড়লে মেরুদণ্ডের লিগামেন্টগুলো শক্ত হয়ে যায় ও চুন জমে। এর ফলে ঘাড়ের নমনীয়তা কমে যায়।

প্রশ্ন : সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিসে কী উপসর্গ দেখা দেয়?

উত্তর : বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস কোনো উপসর্গ তৈরি করে না। যখন উপসর্গ দেখা দেয় তা স্পষ্টই ঘাড়কে আক্রান্ত করে, ঘাড় ব্যথা হয় ও শক্ত হয়ে যায়।

কখনো কখনো সুষু¤œা পথ সরু হয়ে গেলে সুষু¤œাকাণ্ড ও স্নায়ুমূলে চাপ পড়ে এবং সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস দেখা দেয়। যদি আপনার সুষু¤œাকাণ্ড বা স্পাইনাল কর্ড কিংবা স্নায়ুমূলে খোঁচা লাগে, তখন বাহু ও হাতে ঝিনঝিন করা ও অবশ হওয়া উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

মোটামুটিভাবে সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিসের উপসর্গগুলো নি¤œরূপ :

  • ঘাড়ের ব্যথা হওয়া।
  • ঘাড়ের ব্যথা অনেক সময় বাহু ও হাতের দিকে ছড়িয়ে পড়া।
  • ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া এবং ঘোরাতে না পারা। ঘোরাতে গেলে বা পেছনে বাঁকা করলে ব্যথা বেড়ে যাওয়া।
  • ঘাড়ে ব্যথাসহ হাতের আঙুল ঝিনঝিন করা।
  • ঘাড়ে ব্যথাসহ হাত বা হাতের আঙুলে অবশ অনুভূতি হওয়া।
  • ঘাড়ের ব্যথা মাঝে মাঝে কাঁধে বা মাথার পেছনের দিকে ছড়িয়ে যাওয়া।

প্রশ্ন : সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিসের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো কী কী?

উত্তর : সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিসের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে :

  •  বয়স : বয়স বাড়ার সাথে সাথে সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস হওয়া স্বাভাবিক। বছরের পর বছর অতিক্রান্ত হতে থাকলে মেরুদণ্ডের ডিস্কগুলো পানিশূন্য হতে থাকে এবং কুঁচকে যেতে থাকে।
  • পেশা : কিছু কিছু কাজে ঘাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে বারবার ঘাড় ঘোরানো, ঘাড় বিসদৃশ অবস্থানে রাখা কিংবা মাথায় অতিরিক্ত কাজের বোঝা চাপানো।
  • ঘাড়ে আঘাত : আগে ঘাড়ে আঘাত পেলে সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিসের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
  • বংশগত কারণ : কিছু পরিবারে সময়ের সাথে সাথে এসব পরিবর্তন খুব বেশি ঘটে, আবার কিছু কিছু পরিবারে পরিবর্তন ঘটে কম।

প্রশ্ন : কী জটিলতা দেখা দিতে পারে?

উত্তর : যদি সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিসের কারণে আপনার স্পাইনাল কার্ড বা স্নায়ু মূলগতভাবে মারাত্মক চাপ লাগে, তাহলে সেগুলোর স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

প্রশ্ন : কোন ডাক্তার দেখাবেন?

উত্তর : প্রথমে আপনি আপনার সমস্যাগুলো পারিবারিক চিকিৎসককে খুলে বলুন। তিনি আপনার রোগের লক্ষণ ও চিহ্ন দেখে আপনাকে একজন স্পাইন সার্জন বা অর্থোপেডিক সার্জনের কাছে রেফার করবেন।

প্রশ্ন : আমার করণীয় কী?

উত্তর : বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগে আপনি একটি কাগজে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখে রাখতে পারেন :

  • কখন আপনার উপসর্গ শুরু হয়?
  • কোন ধরনের নড়াচড়ায় বা ঘাড়ের অবস্থানে আপনার ব্যথা বাড়ে বা কমে?
  • আপনার বাবা-মা কিংবা ভাই-বোনের কি ঘাড়ের সমস্যা আছে?
  • কখনো কি আপনার ঘাড়ে কোনো ধরনের আঘাত পেয়েছেন?
  • আপনার কি অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা আছে?
  • আপনি কি নিয়মিত কোনো ওষুধ খান? খেয়ে থাকলে সেটা কী?

প্রশ্ন : ডাক্তার আমাকে কী জিজ্ঞেস করতে পারেন?

উত্তর : ঘাড়ব্যথার জন্য চিকিৎসক আপনাকে ঘাড়ব্যথার বিস্তারিতসহ নিচের প্রশ্নগুলো করতে পারেন :

  • আপনার ঘাড়ের ঠিক কোন জায়গাটিতে ব্যথা করে?
  • আগেও কি একই ধরনের ব্যথা হয়েছে?
  • আপনার প্রস্রাব বা পায়খানার কোনো সমস্যা দেখা দিয়েছে?
  • আপনার কি হাঁটতে সমস্যা হয়?
  • আপনি কী ধরনের চিকিৎসা নিয়েছেন?
  • চিকিৎসায় কি উপকার পেয়েছেন?
  • আপনি কী কাজ করেন অর্থাৎ আপনার পেশা কী?
  • আপনার শখ কী? অবসর সময়ে আর কী কী কাজ করে থাকেন?

প্রশ্ন : কিভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়?

উত্তর : স্পনডাইলোসিস হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঘাড়ের এক্স-রে পরীক্ষা করা হয়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিটিস্ক্যান অথবা এমআরআই করা হয়ে থাকে।

এক্স-রেতে বিশেষ ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ডিস্কের ক্ষয়। কশেরুকাতে বিভিন্ন মাপের নতুন হাড়ের উপবৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী অংশের ফাঁক কমে যায়।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে নার্ভ ফাংশন টেস্ট করা হয়, যেমন

  • ইলেকট্রোমাইয়োগ্রাম (এমজি)
  • নার্ভ কনডাকশন স্টাডি (এনসিএস)

প্রশ্ন : কী চিকিৎসা দেয়া হয়?

উত্তর : সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিসের চিকিৎসা আপনার উপসর্গের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসার উদ্দেশ্য হলে ব্যথা সারানো, যতটা সম্ভব স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে সাহায্য করা এবং স্পাইনাল কর্ড ও নার্ভগুলোকে স্থায়ী ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা করা।

ওষুধপত্র

সাধারণত ব্যথা উপশমকারী ওষুধ যেমন ডাইকোফেনাক সোডিয়াম, আইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রোক্সেন ইত্যাদি খাবারের সাথে খাওয়া যেতে পারে। ব্যথা বেশি হলে বা পেপটিক আলসারের ইতিহাস থাকলে এ জাতীয় ওষুধ পায়ুপথে কিংবা মাংসপেশিতে ইনজেকশনের ব্যবহার করা যায়। ব্যথার স্থানে বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য এসব ওষুধ মলম আকারেও পাওয়া যায়।

যদি ব্যথা উপশমকারী ওষুধে উপকার না হয় তাহলে আপনার চিকিৎসক আপনাকে নিচের ওষুধ গ্রহণের ও অন্যান্য পরামর্শ দিতে পারেন।

  • মাংসপেশি শিথিলকরণ ওষুধ
  • খিঁচুনিবিরোধী ওষুধ
  • নারকোটিক
  • স্টেরয়েড ইনজেকশন
  • থেরাপি
  • সার্জারি