সুস্থ থাকার উপায়

বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

সুস্থ থাকার উপায় - বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র থেকে নেয়া চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু লেখা…

গর্ভাবস্থায় ভাইরাস সংক্রমণ

virusভাইরাস সংক্রমণ যেকোনো সময়েই হতে পারে। তবে গর্ভাবস্থায় মায়ের ভাইরাস সংক্রমণ শিশুর শারীরিক গঠনের ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় যেসব ভাইরাস সংক্রমণ বেশি হয়, তার মধ্যে রয়েছে হাম, জার্মান হাম, জলবসন্ত প্রভৃতি।

জলবসন্ত এইচজেডভি ভাইরাস দিয়ে সংক্রমিত হয়। রোগজীবাণু নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে দেহের মধ্যে প্রবেশ করে। দু-তিন সপ্তাহের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। প্রথমে সামান্য সর্দি, গা ম্যাজম্যাজ করা, অল্প জ্বর দেখা দেয়।

তার দু-এক দিনের মধ্যে গায়ে বিশেষ করে মুখ, বুক, পেট ও পিঠে লাল গোটা দেখা দেয়। অল্প সময় পর এসব গোটা পানি ভরা ফোস্কার আকার ধারণ করে। ক্রমেই এ পানি পুঁজে পরিণত হয় এবং আস্তে আস্তে সেটি শুকিয়ে চুমটি পড়ে যায়। পর এসব চুমটি খসে পড়ে। এ রোগের চুমটি পড়ে যাওয়া পর্যন্ত দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগে। গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে মায়ের জলবসন্ত হলে শিশুর শারীরিক গঠনে ত্রুটির ফলে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হতে পারে। পরে জলবসন্ত হলে গর্ভাপাতের আশঙ্কা থাকে অথবা শিশুর জন্মের পর সে জলবসন্তে আক্রান্ত হতে পারে।

হারপিস জোস্টার এইচজেডভি ভাইরাসে সংক্রমিত হয়। কোনো স্নায়ুর গতিপথ ধরে ফোস্কার মতো গুটি শরীরের যেকোনো স্থানে হতে পারে। তবে সব সময়ই সেটি এক দিকেই হয়। মুখে ও চোখেও হতে পারে। গোটাগুলোতে অসহ্য ব্যথা ও চুলকানি থাকে। হারপিস জোস্টার হলে গর্ভের শিশুর শারীরিক ত্রুটি হতে পারে। গর্ভের প্রথমে এ রোগ হলে বিকলাঙ্গ শিশু জন্ম দিতে পারে এবং শেষ দিকে হলে গর্ভপাতের আশঙ্কা থাকে।

হাম হয়ে থাকে এক প্রকার প্যারামিক্সো ভাইরাসের মাধ্যমে। প্রথম দিকে সর্দি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও শরীর ব্যথা হয়। তার পর দেখা দেয় জ্বর, সাথে থাকে কাশি ও স্বরভঙ্গ। চোখ থাকে লাল। গর্ভাবস্থায় হামের সংক্রমণ হলে গর্ভপাত বা অপরিণত শিশুর জন্ম হতে পারে। কিংবা জন্মের পর শিশুর হাম হতে পারে। এ ধরনের ভাইরাস সংক্রমণে হোমিওপ্যাথি ভালো কাজ করে।